বিরোধীদের চ্যালেঞ্জ থেরেসার

যুক্তরাজ্যে নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট

প্রকাশ | ১১ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

যাযাদি ডেস্ক
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে
ব্রেক্সিট বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র নীতির বিরোধিতা করে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন ও ব্রেক্সিটবিষয়ক মন্ত্রী ডেভিড ডেভিসের পদত্যাগের পর মঙ্গলবার নতুন মন্ত্রিসভা নিয়ে বসতে হয়েছে দেশটির সরকারকে। তার আগে থেরেসা দলের নেতাদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, তার পরিকল্পনার বিরোধিতা করে যারা সরে যেতে চান, তারা যেতে পারেন। বরিস ও ডেভিড সোমবার মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করায় শীষর্পযাের্য় রদবদল করতে হয়েছে থেরেসাকে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসনের বদলে নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জেরেমি হান্ট। বিশ্লেষকরা বলছেন, থেরেসা অপেক্ষাকৃত নমনীয় ব্রেক্সিট পরিকল্পনা গ্রহণ করায় ওই দুই প্রভাবশালী মন্ত্রী পদত্যাগ করেন। সংবাদসূত্র : বিবিসি, রয়টাসর্ এর আগে, ডেভিড ডেভিসের পদত্যাগের পর নতুন বেক্সিট মন্ত্রী হয়েছেন ডোমিনিক রাব। তিনি ছিলেন আবাসন মন্ত্রী। ২০১৬ সালের গণভোটের সময় রাব ইইউ ছাড়ার পক্ষে জোর প্রচার চালিয়েছিলেন। ৪৪ বছর বয়সী রাবই এখন ইইউ’র সঙ্গে নিয়মিত ব্রেক্সিট আলোচনা চালাবেন। ২০১৯ সালের ২৯ মাচের্ ইইউ ছাড়ার কথা রয়েছে যুক্তরাজ্যের। কিন্তু এরপর যুক্তরাজ্য এবং ইইউ এর মধ্যে বাণিজ্য সম্পকর্ কী রকম থাকবে, সে ব্যাপারেই এখনো আলোচনায় সমঝোতা হওয়া বাকি। প্রভাবশালী দুই মন্ত্রীর পদত্যাগের পরও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে যুক্তরাজ্যের বের হয়ে যাওয়ার অবস্থানে অনড় রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। সোমবার তিনি নতুন কৌশল নিয়ে ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পথে এগোনোর সংকল্প নিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে মে তার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ব্রেক্সিটমন্ত্রীর পথে যারা হঁাটতে চান বা তার পরিকল্পনার বিরোধিতা করে যারা সরে যেতে চান, তাদের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। টোরি পাটিের্ক সতকর্ করে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের অবশ্যই একসঙ্গে থাকতে হবে। নইলে জেরেমি করবিনের চাওয়ার মুখোমুখি হতে হবে। বিরোধী দল লেবার পাটির্র নেতা জেরেমি করবিন বলেন, জনসন ও ডেভিস সরকারের ডুবন্ত জাহাজ থেকে নেমে গেছেন। মে তার দলে ঐক্য আছে বলে যে ভ্রান্তি তৈরি করে রেখেছিলেন, তা ভেঙে পড়েছে। এদিকে, ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসনের স্থলে আসা নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট বলেন, প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র পেছনে অটল থাকবেন তিনি। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের গণভোটে যুক্তরাজ্যের জনগণ ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে ভোট দেয়। এই বিচ্ছেদকেই বলা হচ্ছে ব্রেক্সিট, যা ২০১৯ সালের মাচের্র মধ্যে শেষ করতে দুই পক্ষের মধ্যে দর কষাকষি চলছে। ২০১৯ সালের ২৯ মাচর্ ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ছাড়ার কথা রয়েছে যুক্তরাজ্যের। এরপর ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য কীভাবে কাজ করবে, তা নিয়ে এখনো দুই পক্ষ সম্মত হয়নি। ইইউয়ের সঙ্গে বিচ্ছেদ কাযর্কর করা নিয়ে অনেক দিন ধরে যুক্তরাজ্য সরকারের মধ্যে চরম বিভক্তির কথা শোনা যাচ্ছিল। ডেভিড ডেভিস ও বরিস জনসনের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে তা এখন প্রকাশ্যে চলে এসেছে। এই পদত্যাগের ঘটনাকে প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতে বিচ্ছেদ কাযর্কর করা নিয়ে ইইউয়ের সঙ্গে চলমান সমঝোতায় যুক্তরাজ্যের অবস্থান আরও দুবর্ল হয়ে পড়বে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিবিসির রাজনৈতিক সম্পাদক লরা কুয়েনসবাগর্ বলেন, ডেভিসের পর জনসনের পদত্যাগ প্রধানমন্ত্রী মে’র জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।