সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৩ মাঘ ১৪২৯
walton1
বললেন পুতিন

কিয়েভের ড্রোনের জবাবেই হামলা

'ইউক্রেনে হামলায় আরও পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে' বিদু্যৎ-পানিবিহীন কিয়েভ ছেড়ে পালাচ্ছেন নাগরিকরা
ম যাযাদি ডেস্ক
  ০২ নভেম্বর ২০২২, ০০:০০
ইউক্রেনের বিভিন্ন অবকাঠামোতে রাশিয়া যে আঘাত হেনেছে এবং কৃষ্ণ সাগরের বন্দর দিয়ে শস্য রপ্তানি চুক্তিতে অংশগ্রহণ স্থগিত ঘোষণা করেছে, ক্রিমিয়ায় মস্কোর নৌবহরে ড্রোন হামলার জবাবেই এসব করা হয়েছে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভস্নাদিমির পুতিন। কৃষ্ণ সাগরীয় নৌবহরে ওই হামলার জন্য কিয়েভকে দায়ী করে সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে পুতিন বলেন, ইউক্রেনীয় ড্রোনগুলো সমুদ্রের এমন এলাকায় হামলার কাজে ব্যবহার করা হয়েছে, যেখানে জাতিসংঘের মধ্যস্ততায় স্বাক্ষরিত চুক্তির অধীনে শস্যবাহী জাহাজগুলো চলাচল করে থাকে। তবে কিয়েভ ওই হামলার দায় স্বীকার করেনি, শস্য রপ্তানি চুক্তি অনুযায়ী ঘোষিত কৃষ্ণ সাগরের নিরাপত্তা করিডোরকে সামরিক কাজে ব্যবহারের অভিযোগও অস্বীকার করেছে তারা। সংবাদসূত্র : বিবিসি, রয়টার্স, আল-জাজিরা, ডিডাবিস্নউ নিউজ রাশিয়া সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউক্রেনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বাড়িয়েছে। ক্রিমিয়া উপদ্বীপের সঙ্গে রাশিয়াকে সংযুক্তকারী ইউরোপের বৃহত্তম রেল ও সড়ক সেতুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকান্ডের ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবে গত ৮ অক্টোবর থেকে ইউক্রেনের জ্বালানি নেটওয়ার্ক ও অবকাঠামোগুলোতে হামলা শুরু করে রাশিয়া। এর মধ্যে সম্প্রতি অধিকৃত ক্রিমিয়া উপদ্বীপের বৃহত্তম বন্দরনগরী সেভাস্তোপলের কাছে কৃষ্ণ সাগরে রুশ নৌবহরে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলার দায় ইউক্রেনের ওপর চাপিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে খাদ্যশস্য রপ্তানির বিষয়ে জাতিসংঘ ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত খাদ্যশস্য চুক্তি স্থগিত করে রাশিয়া। এরপর সোমবার ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে রাশিয়া কার্যত ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টি চালায়। এতে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ এবং অন্যান্য শহরে ব্যাপক বিদু্যৎ ও পানির সংকট দেখা দেয়। সোমবারের হামলার পর দেশটির বিভিন্ন শহরের লাখ লাখ মানুষ বিদু্যবিহীন এবং কিয়েভের প্রায় ৮০ শতাংশ বাসিন্দা পানি সংকটে পড়েন। এর আগে অক্টোবরের গোড়ায় একই ধরনের রকেট হামলা চালিয়েছিল রাশিয়া। ইউক্রেনীয় সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ ফেসবুকে এক বিবৃতিতে বলেছেন, রুশ বাহিনী সোমবার অন্তত ছয়টি ইউক্রেনীয় অঞ্চলের অবকাঠামোতে গোলাবর্ষণ করেছে। ওই হামলার পর সোমবার টেলিভিশনে প্রচারিত সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট পুতিন 'আমরা যা করতে পারি, এটা পুরোপুরি তা নয়' ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, ইউক্রেনে হামলায় আরও পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রুশ হামলায় পানি-বিদু্যৎ বাঁধসহ জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক স্থানে বিদু্যৎ, তাপ ও ??পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। উত্তর-পূর্ব খারকিভ অঞ্চলের গভর্নর ওলেহ সিনহুবভ 'টেলিগ্রামে' বলেছেন, ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভের প্রায় ৫০ হাজার বাসিন্দাসহ রুশ হামলার পর প্রায় এক লাখ ৪০ হাজার বাসিন্দা বিদু্যৎবিহীন অবস্থায় রয়েছেন। ইউক্রেনের সেনাবাহিনী বলেছে, তারা ৫০টি রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ৪৪টি গুলি করে ভূপাতিত করেছে। কিন্তু বাকি ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর হামলার কারণে কিয়েভের ৮০ শতাংশ এলাকা পানিবিহীন হয়ে পড়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ইউক্রেনের পুলিশ জানিয়েছে, সর্বশেষ হামলায় ১৩ জন আহত হয়েছেন। ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ডেনিস শ্যামিহাল বলেছেন, সোমবার ইউক্রেনের ১০টি অঞ্চলের ১৮টি লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়। হামলার শিকার স্থাপনাগুলোর বেশিরভাগই জ্বালানি অবকাঠামো। এসব হামলার মাধ্যমে রাশিয়া কার্যত নিজেদের জন্য নিরাপত্তা খুঁজছে। সোমবারের সংবাদ সম্মেলনে পুতিন বলেন, 'ইউক্রেনকে অবশ্যই নিশ্চয়তা দিতে হবে যে, বেসামরিক জাহাজ বা রুশ খাদ্যশস্য সরবরাহকারী জাহাজের জন্য কোনো ধরনের হামলার হুমকি থাকবে না।' বিদু্যৎ-পানিবিহীন কিয়েভ ছেড়ে পালাচ্ছেন নাগরিকরা এদিকে, পানি ও বিদু্যতের অভাবে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ থেকে লোকজন পালাতে শুরু করেছেন। সোমবার রাশিয়া লাগাতার রকেট হামলা চালায় কিয়েভ-সহ গোটা ইউক্রেনে। যার জেরে কিয়েভের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বিদু্যৎহীন হয়ে পড়েছে। নেই পানি। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম বলছে, সোমবারের হামলার পর ৮০ শতাংশ মানুষ পানি না পেয়ে পালিয়েছেন। কারণ, হামলার ফলে পানির লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রায় তিন লাখ ৫০ হাজার বাড়িতে বিদু্যৎ নেই। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসচো'র দাবি, ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক নাগরিক অঞ্চলে হামলা চালিয়েছে মস্কো। তারা গোটা ইউক্রেনকে ভেঙে দিতে চাইছে। সাধারণ মানুষকেও ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। সোমবারের হামলা মূলত বেসামরিক অঞ্চলে হয়েছে বলে দাবি কিয়েভের মেয়রের।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে