সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৩ মাঘ ১৪২৯
walton1
অবশেষে স্বীকার

রাশিয়াকে আত্মঘাতী ড্রোন দিয়েছে ইরান

ম তবে ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরুর আগেই সরবরাহ করা হয়েছে : তেহরান ম ট্রেনে করে রাশিয়ায় অস্ত্র পাঠাচ্ছে উত্তর কোরিয়া : যুক্তরাষ্ট্র
যাযাদি ডেস্ক
  ০৬ নভেম্বর ২০২২, ০০:০০
ইরানের তৈরি ড্রোন -ফাইল ছবি
রাশিয়াকে আত্মঘাতী ড্রোন সরবরাহের কথা এতদিন অস্বীকার করা হলেও ইরান প্রথমবারের স্বীকার করেছে, তারা মস্কোর কাছে এই অস্ত্র বিক্রি করেছে। তবে দেশটি জানিয়েছে, এসব ড্রোন ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরুর আগেই সরবরাহ করা হয়েছে। শনিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেন আমির আবদুলস্নাহিয়ান রাশিয়াকে ড্রোন দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। সংবাদসূত্র : রয়টার্স, এএফপি, আল-জাজিরা ইরানি আত্মঘাতী ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রি সংক্রান্ত যেসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে সে প্রসঙ্গে হোসেন আমির বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির বিষয়টি পুরোপুরি মিথ্যা, তবে ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরুর কয়েক মাস আগে কিছু ড্রোন রাশিয়ার কাছে বিক্রি করা হলেও সেগুলো ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য নয়। তিনি আরও বলেন, 'আমি ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেছি, তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যদি ইরানি ড্রোন ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তাহলে যেন সেটার প্রমাণ আমাদের কাছে উপস্থাপন করে। প্রমাণ পেলে ইরান এ বিষয়ে নীরব থাকবে না।' এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলো জাতিসংঘ মহাসচিবকে ইরানি ড্রোনের বিষয়টি অনুসন্ধানের আহ্বান জানায়। ইরানের দেওয়া ড্রোন ব্যবহার করে রাশিয়া ইউক্রেনের বেসামরিক স্থাপনায় হামলা করছে বলে অভিযোগ করে আসছে দেশগুলো। ইরানের সামরিক বাহিনীকেও ইদানীং নিজেদের ড্রোন নিয়ে গর্ব করতে দেখা যাচ্ছে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুলস্না আলি খামেনিও নিজেদের ড্রোনের ক্ষমতার কথা বলেছেন। রাষ্ট্র সমর্থিত সমাবেশগুলোতে ইরানি ড্রোনের ছবি সংবলিত পস্ন্যাকার্ড নিয়ে অংশ নিচ্ছেন অনেকে। উলেস্নখ্য, রাশিয়ার আত্মঘাতী ড্রোনের হামলায় রীতিমতো স্থবির হয়ে গেছে ইউক্রেনের জনজীবন। প্রতিদিনই একাধিক শহরের গুরুত্বপূর্ণ টার্গেটে আছড়ে পড়ছে রুশ ড্রোন। ইউক্রেন বহুদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে, ইরান থেকেই এই ড্রোন রাশিয়ায় পাঠানো হয়েছে। তবে বরাবরই সেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে ইরান ও রাশিয়া। মস্কো এর আগে জানিয়েছে, এই ড্রোনগুলো তারা নিজেরাই উৎপাদন করছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইরান থেকে নেওয়া ড্রোনগুলোর প্রযুক্তি ব্যবহার করে রাশিয়া এখন একই ধরনের ড্রোন তৈরি করছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যেও বিষয়টি সম্পর্কে ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তিনি বলেছেন, 'আমরা রাশিয়াকে ইউক্রেন যুদ্ধের আগে অল্প কিছু ড্রোন দিয়েছিলাম। যদিও রাশিয়া এখন পর্যন্ত কয়েকশ ড্রোন ব্যবহার করেছে ইউক্রেনে। ট্রেনে করে রাশিয়ায় অস্ত্র পাঠাচ্ছে উত্তর কোরিয়া : যুক্তরাষ্ট্র এদিকে, ওয়াশিংটন ভিত্তিক মার্কিন থিংকট্যাংক সংস্থা 'থার্টি এইট নর্থ প্রোজেক্ট' বাণিজ্যিক স্যাটেলাইটের ছবির বরাত দিয়ে জানিয়েছে, সীমান্তপথে ট্রেনের মাধ্যমে রাশিয়ায় অস্ত্র ও গোলাবারুদ পাঠাচ্ছে উত্তর কোরিয়া। রাশিয়ার কাছে আত্মঘাতী ড্রোন পাঠিয়েছে ইরান, এই খবরটি চাউর হওয়ার সময়ই এমন সংবাদ এলো। রুশ ভূখন্ড থেকে উত্তর কোরিয়াকে পৃথক করা তুমেন নদীর রেলসেতু দিয়ে গত শুক্রবার একটি অস্ত্রবাহী ট্রেন উত্তর কোরিয়া থেকে রাশিয়ার উদ্দেশে গেছে উলেস্নখ করে শনিবার এক বিবৃতিতে 'থার্টি এইট নর্থ প্রোজেক্টের' পক্ষ থেকে বলা হয়, 'স্যাটেলাইটের যে ছবি আমাদের কাছে রয়েছে, তা দেখে এই ট্রেন চলাচলের উদ্দেশ্য অনুমান করা অসম্ভব। তবে আমরা ধারণা করছি, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ফের শুরু হয়েছে। কারণ আমরা সবাই জানি- উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে অস্ত্র কিনতে চেয়েছে রাশিয়া।' রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে স্থল ও সমুদ্র- উভয় দিকেই সীমান্ত রয়েছে। স্থলপথে দুই দেশের মধ্যকার সীমান্তের দৈর্ঘ্য ১৭ দশমিক তিন কিলোমিটার, আর সমুদ্রপথে এর দৈর্ঘ্য ২২ দশমিক সাত কিলোমিটার। উত্তর কোরিয়ার উত্তর দিক দিয়ে বয়ে যাওয়া তুমেন নদীই স্থলভাগে দুই দেশকে পৃথক করেছে। এই নদীর ওপর ৮০০ মিটার লম্বা একটি সেতু রয়েছে। এই সেতুর এক প্রান্তে উত্তর কোরিয়ার তুমাঙ্গাং স্টেশন, অন্য প্রান্তে রাশিয়ার খাসান স্টেশন। তুমেন নদীর ওপর রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়াকে সংযোগকারী সেতুটি 'কোরিয়া-রাশিয়া ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজ' নামে পরিচিত। দুই দেশের একমাত্র এই স্থল সীমান্তটি ২০২০ সালের ফেব্রম্নয়ারি করোনা মহামারির কারণে বন্ধ হয়ে যায়। তারপর এই প্রথম সেতুটির ওপর ট্রেন চলতে দেখা গেছে। 'থার্টি এইট নর্থ প্রোজেক্ট' জানিয়েছে, 'ট্রেনটি কখন উত্তর কোরিয়া ছেড়ে গেছে, সেখানে কয়টি বগি ছিল এবং কখন রাশিয়া গিয়ে পৌঁছেছে- সেসব তথ্য আমাদের কাছে আছে, কিন্তু ট্রেনের ভেতরে কী কী জিনিস ছিল, এখনো আমরা স্পষ্টভাবে জানতে পারিনি।'
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে