বিজেপির প্রথম তালিকায় ৩৫ জন অভিযুক্ত

প্রকাশ | ২৪ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

যাযাদি ডেস্ক
গত বৃহস্পতিবার প্রকাশ হয়েছে বিজেপির প্রথম প্রার্থী তালিকা। যেখানে ১৮৪ জনের নাম রয়েছে। আর সেই তালিকাতেই জায়গা করে নিয়েছেন ৩৫ জন অভিযুক্ত। অর্থাৎ, বিজেপির ৩৫ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। সংবাদসূত্র : কে-২৪ নিউজ, নিউজ এইটিন বিজেপির ১৮৪ জনের মধ্যে ৩৫ জন, অর্থাৎ ১৯ শতাংশ প্রার্থীর নাম রয়েছে অভিযুক্তের তালিকায়। ২০১৪ সালেই এদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গিয়েছিল। 'মাইনেতা ডট ইনফো' নামের একটি ওয়েবসাইটে এই নেতারা নিজেরাই তাদের সম্পর্কে তথ্য দিয়েছেন, যেখানে দেখা যায়- বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে তারা যুক্ত রয়েছেন। দলটির পরবর্তী তালিকা প্রকাশের পর এমন প্রার্থীর সংখ্যা বাড়তে পারে। মজার কথা, এই ৩৫ জন প্রার্থী মনোনীত হয়েছেন ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের জন্যও। অর্থাৎ, ২০১৪ সালে এসব প্রার্থী নিজেদের অপরাধের খতিয়ান তুলে ধরলেও, বিশেষ প্রভাব পড়েনি। ২০১৯ সালে তারা আবারও মনোনয়ন পেয়েছেন। ২০১৪ সালে যে প্রার্থীর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ফৌজদারি মামলার রেকর্ড ছিল, তিনি হলেন মহারাষ্ট্রের চন্দ্রপুর লোকসভা আসনের প্রার্থী হংসরাজ গঙ্গারাম আহির। তার বিরুদ্ধে মোট ১১টি অপরাধের মামলা ঝুলছে। আহির পূর্ববর্তী লোকসভা নির্বাচনে জয়লাভ করেন, তিনি বর্তমানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। এরপরেই রয়েছে ওড়িশার বালাসোরের প্রতাপ সারেঙ্গির নাম। ১০টি ফৌজদারি অপরাধে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এই তালিকায় সবচেয়ে চমকপ্রদ নাম একটিই। তিনি নীতিন গড়কড়ি। বর্তমানে কেন্দ্রীয় সড়ক ও পরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্তমন্ত্রী। ২০১৪ সাল পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি অপরাধের অভিযোগ ছিল। নাম রয়েছে সাক্ষী মহারাজেরও। ২০১৪ সালের খতিয়ান অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে রয়েছে ৮টি অপরাধে যুক্ত থাকার অভিযোগ। বিজেপির প্রথম প্রার্থী তালিকায় রয়েছে ১৮ জন নারী প্রার্থীর নাম। ২০১৪ সালে 'অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেক্রেটিক রিফর্মস'র (এডিআর) অনুযায়ী, গেরুয়া শিবিরের পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৪ সালে ৫৪৩টি লোকসভা আসনের মধ্যে ৩০০টি আসনে জয়ের ব্যবধান ছিল খুব কম। যার মধ্যে প্রায় ২০০টি আসন দখল করেছিল বিজেপি নেতৃত্বধীন এনডিএ জোট। এর পেছনে 'মোদি ঝড়' বড় ভূমিকা রেখেছিল বলে দাবি করেছেন বিশেষজ্ঞরা। ৯৮টি আসনে চূড়ান্ত ফল ঘোষণা হয়েছে পাঁচ শতাংশেরও কম ব্যবধানে। যার মধ্যে ৩০টিও আসন পেয়েছিল বিজেপি। ১০ শতাংশের কম ব্যবধানে নির্ধারিত হওয়া আসনের মধ্যে বিজেপির দখলে গিয়েছিল ৭৩টি লোকসভা আসন। গত লোকসভা নির্বাচনের ১৬১টি আসনে প্রার্থীর হার-জিত নির্ণয় হয়েছে ২০ শতাংশের কম ভোটে। যার মধ্যে বিজেপি প্রার্থীরা জিতেছিলেন ১১৭টি আসনে। ২০১৪ সালে জয়ী বিজেপি প্রার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশেরই ফৌজদারি অপরাধের নজির রয়েছে। সেখানে কংগ্রেসের ৪৪ জন জয়ী প্রার্থীর মধ্যে অভিযুক্তের সংখ্যা ৮। পরিসংখ্যান বলছে, যে সব প্রার্থীর ফৌজদারি অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকার রেকর্ড রয়েছে, তাদের জয়ের হার ১৩ শতাংশ, অথচ যে সব প্রার্থীর নামের সঙ্গে কোনো অপরাধের অভিযোগ নেই, তাদের জেতার হার মাত্র পাঁচ শতাংশ।