দলীয় নেতাদের পদত্যাগের হিড়িক, সংকটে কংগ্রেস

এবার গোয়াতে ১০ বিধায়ক যোগ দিলেন বিজেপিতে

প্রকাশ | ১২ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

যাযাদি ডেস্ক
রাহুল গান্ধীর পর আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতার পদত্যাগের জেরে ভাঙন ধরতে শুরু করেছে ভারতের বিরোধী দল কংগ্রেসে। কর্ণাটকে কংগ্রেস-জেডিএস জোট সরকার খাদের কিনারায় এসে দাঁড়িয়েছে। তার মধ্যেই পাশের রাজ্য থেকে ফের ধাক্কা কংগ্রেস শিবিরে। গোয়ার ১৫ জনের মধ্যে ১০ জন কংগ্রেস বিধায়ক যোগ দিয়েছেন বিজেপিতে। গোয়াতে রয়েছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার। বিধানসভার ৪০ আসনের মধ্যে বিজেপির নেতৃত্বাধীন জোটে রয়েছেন ১৭ জন বিজেপি বিধায়ক। আর কংগ্রেসের ছিল ১৫ জন। সংবাদসূত্র : এবিপি, ইনডিয়া টাইমস গোয়া বিধানসভা নির্বাচনের পর একক বৃহত্তম দল ছিল কংগ্রেসই। কিন্তু তাদের না ডেকে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের রাজ্যপাল সরকার গড়তে ডেকেছিল বিজেপি-জিএফপি জোটকে। রাজ্যটিতে এখন বিজেপি এবং গোয়া ফরওয়ার্ড পার্টির জোট সরকার রয়েছে। কংগ্রেসের ১০ জন যোগ দেয়ায় ৪০ আসনের গোয়া বিধানসভায় বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা আপাতত ২৭। সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে বড় জয়ের পর ভারতের রাজনীতিতে এখন বিজেপির একচ্ছত্র আধিপত্য। বিভিন্ন রাজ্যে কংগ্রেসসহ আঞ্চলিক দলের শীর্ষ নেতারা ভিড়ছেন ক্ষমতাসীনদের ডেরায়। অন্যদিকে কর্ণাটকে কংগ্রেস-জেডিএসের জোট সরকারও পতনের মুখে। বুধবার কংগ্রেসের আরও দুইজন পদত্যাগ করার পর, বিধানসভা থেকে সরে যাওয়া বিধায়কের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ জনে। মুম্বাইয়ে চলে যাওয়া বিদ্রোহী এ নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চেয়েও ব্যর্থ হয় মুখ্যমন্ত্রী কুমারস্বামীর প্রতিনিধি দল। কারণ মুম্বাইয়ে তাদের হোটেলের আশপাশে রাজি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা। হোটেলে ঢুকতে বাধা দিচ্ছে পুলিশ। কর্ণাটক জোট সরকারের মন্ত্রী ডি কে শিবকুমার বলেন, 'আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলতে এসেছিলাম, কিন্তু পারলাম না। বিজেপির মদদের ফলে এমনটা হয়েছে। যা সত্যি লজ্জার।' আর বিদ্রোহী নেতাদের বক্তব্য, কংগ্রেস সরকারের ব্যর্থতার কারণেই জোট ছেড়েছেন তারা। বিদ্রোহী নেতারা বলছেন, 'কর্ণাটকে সরকার ঠিক মতো চলছে না। আমরা অনেকবার অভিযোগ করেছি, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। এর পেছনে কংগ্রেসের ব্যর্থতাই দায়ী। এ জন্য পদত্যাগ করেছি। আমরা অর্থের কাঙাল নই, তাই অর্থ দিলেই বিক্রি হবো এমনটা নয়। যারা অভিযোগ করছেন তারা মিথ্যবাদী।' পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ইসু্যতে নরেন্দ্র মোদি সরকারের সমালোচনা করেছেন। মমতার মন্তব্য, অহঙ্কারী হয়ে ওঠা বিজেপি ভারতের সংবিধানকে বিপজ্জনক অবস্থায় নিয়ে যাচ্ছে। আর বিজেপির বিরুদ্ধে গণতন্ত্র হত্যার অভিযোগ এনেছে কংগ্রেস। দেশে গণতন্ত্র নেই দাবি করে, দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা বলছেন, মোদি প্রশাসন ক্ষমতার অপব্যবহার করছে। ভারতীয় কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা গোলাম নবী আজাদ বলেন, 'বিজেপির কর্মকান্ডের কারণে দলটির ওপর সবাই ক্ষুব্ধ। তারা গণতন্ত্র শেষ করে দিয়েছে। এজন্য তারা কাজে লাগাচ্ছে রাজ্যপালদের। আমরা এর নিন্দা জানাই এবং জনগণকে আহ্বান জানাবো, তারা যেন গণতন্ত্র রক্ষায় এগিয়ে আসে।' ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি রাজ্যে রাজ্যে বিরোধী নেতাদের অর্থের লোভ দেখিয়ে নিজ দলে টানছে বলে অভিযোগ করেছে কংগ্রেস।