প্রতিহতের দাবি আফগান বাহিনীর

গজনি দখলে তালেবানের হামলা

দুই পক্ষের তুমুল সংঘষের্ সেনাসহ নিহত ৫৩ যুদ্ধ অবসানে আলোচনা ভেস্তে গেল বলে আশঙ্কা

প্রকাশ | ১১ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

যাযাদি ডেস্ক
গজনি শহরে আফগান বাহিনী
আফগানিস্তানের মধ্যাঞ্চলীয় শহর গজনিতে ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়েছে তালেবান। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত থেকে শুক্রবার ভোর পযর্ন্ত হামলা চালানো হয়। আফগান কমর্কতার্রা জানিয়েছেন, তালেবান সদস্যরা গজনির পুলিশ তল্লাশি চৌকি পুড়িয়ে দিয়েছে, আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকায় গোলাবষর্ণ করছে এবং শহরের একটি অংশ দখল করে নিয়েছে। কয়েকটি ভবন ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে গোলাবষর্ণ করে তারা নগরীর কিছু অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বলে জানান আফগান কমর্কতার্রা। তবে তালেবান যোদ্ধারা গজনির কতটুকু অংশ দখল করে নেয় তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অবশ্য, গজনি শহরের কিছু অংশ দখলকারী তালেবান সদস্যদের হটিয়ে দিয়ে এলাকাটি পুনদর্খলের দাবি করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। এ সময় দুই পক্ষের তুমুল সংঘষের্ কমপক্ষে ৫৩ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে তালেবানের ৩৯ সদস্য ও নিরাপত্তা বাহিনীর ১৪ সদস্য রয়েছে। সংবাদসূত্র : বিবিসি, রয়টাসর্, আল-জাজিরা আন্তজাির্তক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আফগানিস্তানের মধ্যাঞ্চলীয় গজনি শহরে হামলা চালায় তালেবান সদস্যরা। বিভিন্ন ঘর-বাড়ি ও বাণিজ্যিক এলাকায় শেল হামলা চালায় তারা। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দখলে নেয় শহরের কিছু অংশ। এরপর শুক্রবার সকাল পযর্ন্ত আফগান বাহিনী ও তালেবান সদস্যদের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধ চলতে থাকে। আতঙ্কে ঘর-বাড়ি থেকে বের হতে পারছিল না স্থানীয়রা। সংঘষের্র সময় দক্ষিণাঞ্চলীয় আফগানিস্তানের সঙ্গে কাবুলের সড়কটি বন্ধ করে দেয়া হয়। বেশ কয়েক ঘণ্টার বন্দুকযুদ্ধ শেষে শুক্রবার তালেবানকে হটিয়ে শহরটি পুনদর্খলে নেয়ার দাবি করে আফগান বাহিনী। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মোহাম্মদ রাদমানিশ পরে বলেন, সেনাবাহিনী পুলিশকে সহায়তা করেছে এবং এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ এখন সরকারি বাহিনীর হাতে রয়েছে। অভিযানের পর পুলিশ বাড়িতে বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে। কীভাবে তালেবান শহরটিতে অনুপ্রবেশ করল, তা জানার চেষ্টা করছে তারা। গজনি সিটি হাসপাতালের প্রশাসনিক কমর্কতার্ বাজ মোহাম্মদ হেমাত জানান, তালেবানের সঙ্গে সংঘষের্ নিরাপত্তা বাহিনীর ১৪ সদস্য নিহত হওয়ার পাশাপাশি আরও ২০ জন আহত হয়েছে। প্রাদেশিক পুলিশের প্রধান ফরিদ আহমেদ মাশাল বলেন, বন্দুকযুদ্ধে নিহত তালেবান সদস্যদের মরদেহ রাস্তাতেই পড়ে আছে। শহরের দক্ষিণ প্রান্তের একটি সেতুর নিচ থেকে ৩৯ তালেবান সদস্যের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে বন্দুকযুদ্ধ চলাকালীন আফগান কমর্কতার্রা জানিয়েছিলেন, রাতভর সরকারি বাহিনী ও তালেবান সদস্যদের মধ্যে সংঘষর্ হয়েছে। একপযাের্য় কাবুলের সঙ্গে গজনিকে সংযোগকারী হাইওয়েটি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় কতৃর্পক্ষ। গজনির এক সিনিয়র কমর্কতার্ বলেন, ‘তালেবান সদস্যরা আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকার কাছে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে।’ আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তালেবানের হামলা প্রতিহত করা হয়েছে। তবে শহরের একটি অংশে এখনো তালেবান আছে এবং তারা সেখানে বেসামরিক লোকদের বাড়িঘর দখল করে রেখেছে। সেখান থেকে তারা গুলি চালানো অব্যাহত রেখেছে। মুসলমানদের ধমীর্য় উৎসব ঈদুল আজহা উপলক্ষে আফগানিস্তানের ১৭ বছরের যুদ্ধের অবসানে আলোচনা শুরু হওয়ার যে আশা করা হয়েছিল, শুক্রবারের হামলায় তা ভেস্তে গেল বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।