বঙ্গবন্ধু জাতির মুক্তির দিশারি

ইতিহাস সঠিকভাবেই বঙ্গবন্ধুকে মূল্যায়ন করেছে। দেশের মানুষ কৃতজ্ঞচিত্তে আজ এই মহান নেতার অবদানের কথা স্মরণ করছেন। বিশ্ববাসীও এক নামে তাকে চিনেছে। ম
বঙ্গবন্ধু জাতির মুক্তির দিশারি

বাংলাদেশের স্বাধীনতা মানেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। হিমালয়সম এমন নেতা এখানে জন্মেছিলেন বলেই বাংলাদেশ আজ স্বাধীন। বঙ্গবন্ধু, স্বাধীনতা, বাংলাদেশ- এ শব্দগুলো যেন অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ অভিন্ন। বাংলাদেশের কথা বলতে গেলে অনিবার্যভাবে এসে যায় বঙ্গবন্ধুর জীবনগাঁথা। সাধারণ জনগণের স্বার্থের সঙ্গে জড়িত তার ও বাংলাদেশের ইতিহাস পর্যালোচনা করলেই সামনে এসে দাঁড়ায় বাংলাদেশ নামের স্বাধীন ভূখন্ডের জন্মকাহিনী। তরুণ রাজনৈতিককর্মী শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান আন্দোলনের যুক্ত না হলেও দেশটির জন্ম ঠেকে থাকত না, কিন্তু তিনি না থাকলে বাংলাদেশের জন্মই হতো না। শোষণ-বঞ্চনা, সাম্প্রদায়িকতা-ধর্মান্ধতা, কুসংস্কার ও সব ধরনের সংকীর্ণতার বিরুদ্ধে যে রাজনীতি, তার সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার জাতীয়তাবাদী রাজনীতিকে যুক্ত করতে সক্ষম হন। তার ঘোষিত ছয় দফায় পাকিস্তান কাঠামোর মধ্যে থেকেই স্বায়ত্তশাসনের দাবি তুলে ধরা হলেও তাতে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখাও অনুক্ত থাকেনি। ১৯৬৯ সালের গণঅভু্যত্থানের পরে তিনি বঙ্গবন্ধু, জনগণের আস্থাভাজন প্রিয় নেতা এবং সবাইকে ছাপিয়ে বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা, এই জনপদের অপ্রতিদ্বন্দ্বী মহানায়ক। এই সময়ে তার নেতৃত্বের পেছনে দেশের মানুষ কাতারবন্দি হতে থাকে। তিনি মাঠ পর্যায়ের তখনকার সময়ের শক্তিশালী প্রগতিশীল বামধারার রাজনৈতিক দল এবং পেশাজীবী, ছাত্র-তরুণ ও শিল্পী বুদ্ধিজীবীদের অধিকাংশের আস্থা অর্জনে সক্ষম হন। সব দলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ১১ দফাভিত্তিক আন্দোলনে তার ছয় দফার পরিপূরক হয়ে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে গতি ও তীক্ষ্নতা দিয়েছিল। পাকিস্তানের জন্মলগ্ন থেকে বাঙালির ভবিষ্যৎ নিয়ে শেখ মুজিবের চিন্তার দূরদর্শিতার উজ্জ্বল প্রকাশ পাওয়া যায়। বঙ্গবন্ধু কালের যাত্রাপথে নানা সংকটে-বিপদে-বিপর্যয়ে অবিচল থেকে একে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন। নিজেকে সর্বোতভাবে উৎসর্গ করেছেন। পাকিস্তানি শাসক-শোষকদের জেল-জুলুম নির্যাতন সহ্য করেছেন। নিজের জীবনকে বিপন্ন করেছেন বারবার। এতসব কিছুর বিনিময়ে তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নকে লালন করে শেষ পর্যন্ত বাস্তবে রূপ দিতে অবিচল, অটল অনড় থেকেছেন। আপন নীতি, আদর্শ ও দর্শন থেকে বিচু্যত হননি। পাকিস্তানি শাসকদের লোভ, লালসা, হুমকি, চোখ রাঙানি কিছুই বঙ্গবন্ধুকে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ গঠনের পথ থেকে টলাতে পারেনি। এতসব বিবেচনায় খুব সহজেই বলা যায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের রূপকার, স্বাধীন বাংলাদেশের জনক। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতার অনিবার্যতা আগেই বুঝেছিলেন বলে স্বাধীনতা নিয়ে তার মনে দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছিল না। ছয় দফা, মাঠের রাজনীতি এবং তার বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু তার যাত্রাপথ স্পষ্টই রেখেছিলেন। ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে বিপুলভাবে বিজয়ী বাংলার জনগণের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী এতটাই ভয় পেয়েছিল যে ক্ষমতা হস্তান্তরের কথা তারা কোনোভাবেই মেনে নিতে নিতে কিংবা ভাবতেই চায়নি। এটাও ঠিক যে তারা বাঙালি মুসলমানদের কখনো তাদের সমকক্ষ নাগরিক ভাবতে পারেনি। বাঙালিদের দ্বারা শাসিত হওয়ার বিষয়ে তাদের চরম অনীহা বারবার প্রকাশ পেয়েছে। এমনকি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসিয়ে ব্যর্থতার দায় চাপানোর চক্রান্তের পুরনো কৌশল প্রয়োগের সাহসও করেনি। তাদের মাথায় চেপে বসেছিল সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা।

বঙ্গবন্ধু ও বাঙালি নেতারা স্বাধীনতার বিষয়ে আপসহীন অবস্থানে অটল থাকলেও এবং তাদের পেছনে জাগ্রত জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়ালেও তারা নিশ্চয়ই সত্যিকার যুদ্ধ বেঁধে যাওয়ার কথা ভাবেননি। তবে আগরতলা ষড়যন্ত্রের প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা সম্পর্কে বঙ্গবন্ধু অবহিত ছিলেন এবং তাতে সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি ছিল। তার সত্ত্বেও বলা যায়, বাঙালি রাজনীতিবিদ ও জনগণ বাস্তবের সামরিক অভিযান বা যুদ্ধের রূপ ও তার সঙ্গে যুক্ত জনদুর্ভোগের ব্যাপ্তি, গভীরতা ও মাত্রা সম্পর্কে এতটা সচেতন ছিল না। বঙ্গবন্ধু কাপুরুষের মতো আত্মগোপন কিংবা গা ঢাকা দিয়ে প্রতিবেশী বন্ধুরাষ্ট্রে গিয়ে স্বাধীনতার সংগ্রাম চালানোর চেয়ে প্রতিপক্ষ পাকিস্তানিদের হাতে বন্দি হওয়াকেই নিজের ভাগ্য হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। এ ক্ষেত্রে তার বীরত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বাংলাদেশের ইতিহাসকে মহিমামন্ডিত করেছে। বঙ্গবন্ধু নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য এক অবস্থানে। যেখানে তার সমান্তরালে আর কাউকে ভাবতে পারেনি এদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষ। তবে বঙ্গবন্ধু তাজউদ্দীন আহমদসহ সতীর্থ সবাইকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার এবং তার অনুগামী সাধারণ জনগণকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, তিনি বেতার যন্ত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাও দিয়েছিলেন। অপ্রস্তুত বাঙালি জাতির ওপর পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীই বস্তুত ভয়ঙ্কর এক যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছিল।

কিন্তু তারপর বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব রূপকথার মতো অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল। নিষ্ঠুর আক্রমণের মুখে লাখো লাখো নিরস্ত্র মানুষ যেমন তাদের ঘরবাড়ি, সহায়সম্পদ, আপন ভিটে সর্বোপরি নিজের দেশ, প্রিয় জন্মভূমি ছেড়ে পালিয়েছিল, তেমনি আবার বাঙালি সেনা, পুলিশ, ইপিআর সদস্য এবং কিশোর থেকে বৃদ্ধ- নানা বয়সের হাজার হাজার মানুষ যুদ্ধে যাওয়ার জন্য মরিয়া হয়েছে। বাংলার ইতিহাসে এ এক অভূতপূর্ব রূপান্তর ঘটিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ডাক এবং মুক্তিযুদ্ধ শুরুর আহ্বানের মাধ্যমে। যে বাঙালি আড্ডাবাজ, অলস প্রকৃতির, ঘুরকুনো, কলহপ্রবণ এবং ভীতু স্বভাবের বলে পরিচিত সমালোচিত হয়ে আসছিল যুগের পর যুগ ধরে তারাই হয়ে উঠল মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানী। এদেশের বীর সন্তানরা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল দেশপ্রেমের অদ্ভুত আবেশ বুকে নিয়ে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ডাক প্রত্যেকের বুকে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল। দেশকে শত্রম্নমুক্ত করে স্বাধীন দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার দৃপ্ত শপথ নিয়ে মরণশীল লড়াইয়ে নেমেছিল বাংলার কৃষক শ্রমিক ছাত্র জনতা। বাংলার মানুষ মুক্তিযুদ্ধে সন্মুখ সমরে, গেরিলা আক্রমণে দুঃসাহসের অসাধারণ প্রমাণ দিয়ে বারবার প্রমাণ করেছে তারা বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে দেশকে স্বাধীন করতে বেপরোয়া, অপ্রতিরোধ্য। তারা নিজের জীবন দিতে প্রস্তুত কোনোভাবেই পিছিয়ে যাওয়ার মতো কাপুরুষ নয়। এভাবেই নয় মাসের সশস্ত্র লড়াইয়ের মাধ্যমে পাকিস্তানি চৌকষ অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত সৈন্যবাহিনীকে পরাস্ত করে বাঙালি বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছে, বিশ্বের মানচিত্রে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। সবকিছুর পেছনে বাংলার অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ডাক মন্ত্রের মতো কাজ করেছে। তাকে বন্দি করে পাকিস্তানের কারাগারে আটক রাখার মাধ্যমে বাঙালিদের মনোবল, সাহস, স্বাধীনতা অর্জনের আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্নকে ধূলিসাৎ করে দিতে চাইলেও তারা সফল হয়নি। মুক্ত বঙ্গবন্ধুর চেয়ে পাকিস্তানিদের হাতে বন্দি বঙ্গবন্ধু অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছিলেন সাড়ে সাত কোটি বাঙালিদের কাছে।

বঙ্গবন্ধুই মূলধারার রাজনীতিবিদ, যিনি স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন প্রথম থেকেই লালন করেছিলেন। কারণ, তিনি জানতেন, পাকিস্তানের বিদ্যমান কাঠামোর মধ্যে বাঙালির বিকাশ সম্ভব নয়। পাকিস্তানিদের স্বৈরাচারী দমনমূলক আচরণ, শাসন, শোষণ, সবকিছু নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার একগুঁয়ে মনোভাব, অগণতান্ত্রিক রাজনৈতিক চিন্তা-ভাবনা, ধর্মের দোহাই দিয়ে এক ছাতার নিচে রাখার অপচেষ্টা, মিথ্যে ও শঠতার আশ্রয় নিয়ে ক্রমাগত প্রতারণা ইত্যাদি বাঙালিদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বিকাশকে রুদ্ধ করে দিয়েছিল। বঙ্গবন্ধু এটি গভীরভাবে উপলব্ধি করেছিলেন। তিনি শুধু স্বপ্ন দেখে তা মনের মধ্যে রেখে দেননি। বাঙালির যথার্থ বিকাশের পথ খোঁজার চেষ্টা করেছেন স্বপ্ন দেখেই বসে থাকেননি বঙ্গবন্ধু, তিনি স্বাধীন একটি দেশের যাবতীয় সম্ভাবনাও খুঁজে দেখেছেন। আন্দোলন ও সংগ্রামের মাধ্যমে জীবনভর বাঙালির স্বাধিকার অর্জনের চেষ্টা করেছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেই রাজনীতি, যিনি বাঙালিদের জন্য পৃথক স্বাধীন একটি রাষ্ট্রের স্বপ্ন ও সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য স্বৈরাচারী জুলুমবাজ পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে অবিরাম রাজনৈতিক সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। বঙ্গবন্ধু তার জীবনের প্রতিটি ধাপেই বাঙালির সার্বিক মুক্তির জয়গান গেয়েছেন। তিনি সব সময় বলতেন, এমনকি দু'দুবার মৃতু্যর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও বলেছেন, 'ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার সময় আমি বলব- আমি বাঙালি, বাংলা আমার দেশ, বাংলা আমার ভাষা'। বাঙালিদের মুক্তির চিন্তাকে তিনি সব সময় হৃদয়ে লালন করে গেছেন। জেল-জুলুম, নির্যাতন, মৃতু্যর হুমকি- কোনো কিছুতেই দমে যাননি। হৃদয় থেকে লালিত স্বপ্ন ও চিন্তাকে মুছে ফেলতে পারেননি। যে স্বাধীন বাংলার স্বপ্ন তিনি দেখেছিলেন, যে বাংলার কোটি কোটি মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য তিনি যৌবনের অধিকাংশ সময় কারাগারে কাটিয়েছেন, ফাঁসির মঞ্চে গেয়েছেন বাঙালির জয়গান, সেই বাংলা ও বাঙালির জন্য তার হৃদয়ের ভালোবাসা অপরিসীম। সমুদ্র না মহাসমুদ্রের গভীরতা পরিমাপ করা সম্ভব, কিন্তু বাংলা ও বাঙালির জন্য তার হৃদয়ের যে দরদ, যে ভালোবাসা, তার গভীরতা অপরিমেয়।

জীবনভর ষড়যন্ত্রের ঘেরাটোপে থেকেও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হয়েছিলেন জাতির জনক, পরিণত হয়েছিলেন সাড়ে সাত কোটি বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা আর শোষণ-বঞ্চনা থেকে বাঙালি জাতির মুক্তি দাতা। তার অনুভবে ছিল বাংলার স্বাধীনতা, ছিল রাজশোষকদের কবল থেকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মুক্তি। তিনি চেয়েছিলেন সবার বাক-স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক শোষণমুক্তি, রাষ্ট্রীয় প্রশাসন বাঙালির ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা, সার্বিকভাবে সব নাগরিকের কল্যাণময় জীবন। পাকিস্তানি শাসকদের নির্যাতন, ষড়যন্ত্র, মামলা-হামলা কোনো কিছুই বঙ্গবন্ধুকে একচুলও নড়াতে পারেনি তার অবস্থান থেকে। বজ্রকঠিন ব্যক্তিত্বের অধিকারী সুবিশাল হৃদয়ের এ মানুষটিকে নানাভাবে দমিয়ে রাখতে চেয়েছে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী। তিনি এমনই একজন মহামানব যিনি ১৯৪৮ সাল থেকে সারাটি জীবন বাঙালির মুক্তিভাবনা বুকে নিয়ে অবর্ণনীয় জেল-জুলুম-কষ্ট-যাতনা-নির্যাতন সহ্য করেছেন আর ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি থেকে শুরু করে ১৯৭৫ সালে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত মাত্র সাড়ে তিন বছর সময়ের মধ্যে যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষকে বাঁচানোর জন্য অনেক অভাবনীয় পদক্ষেপ নিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সৃষ্টির পতাকা উড়িয়ে ছিলেন। নতুন স্বাধীনতাপ্রাপ্ত কোনো দেশেই স্বাধীনতার পর পর এত অল্প সময়ে এত বেশি উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড সংঘটিত হয়নি।

ইতিহাস সঠিকভাবেই বঙ্গবন্ধুকে মূল্যায়ন করেছে। দেশের মানুষ কৃতজ্ঞচিত্তে আজ এই মহান নেতার অবদানের কথা স্মরণ করছেন। বিশ্ববাসীও এক নামে তাকে চিনছে।

তিনি শুধু বাংলাদেশের একজন নেতা কিংবা জাতির পিতা নন এখন বিশ্বনেতা হিসেবে তার নামটি আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে উচ্চারিত হয়। বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, যেন নিজ দেশে বাঙালি মাথা উঁচু করে বিকশিত হতে পারে। তিনি সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করেছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। তবে তার কাঙ্ক্ষিত স্বপ্নের সোনার বাংলায় শোষণমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বারবার। আজ বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথ ধরে এগিয়ে চলেছে। শোষণমুক্ত সুখী সমৃদ্ধ উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলার মাধ্যমে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করতে আমাদের সবাইকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ অনুসরণ করতে হবে এবং সেই অনুযায়ী দেশ ও জাতির স্বার্থে কাজ করে যেতে হবে।

\হ

রেজাউল করিম খোকন : অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার, কলাম লেখক

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে