logo
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ ৬ আশ্বিন ১৪২৭

  অনলাইন ডেস্ক    ১২ আগস্ট ২০২০, ০০:০০  

সারাদেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সরকারের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়

মুজিববর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে সারাদেশে এক কোটি গাছের চারা রোপণের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীন প্রায় আড়াই হাজার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নদী-খালপাড় ছাড়াও বাঁধ ও অন্য ফাঁকা জায়গায় ১০ লাখ গাছের চারা রোপণ করা হবে। দেশের পরিবেশ রক্ষার জন্য এটি একটি ভালো উদ্যোগ।

\হউলেস্নখ্য, মুজিববর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী গত ১৬ জুলাই 'জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি-২০২০' উদ্বোধন করে দেশে মোট বনভূমির পরিমাণ ২৫ শতাংশে উন্নীত করার নির্দেশ দিয়েছেন। বাংলাদেশে যাতে বনায়ন ও সবুজ বেষ্টনীর সৃষ্টি হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখেই এক কোটি গাছের চারা রোপণের কার্যক্রম গৃহীত হয়েছে। এই বৃক্ষরোপণের ফলে একদিকে যেমন দেশের প্রাকৃতিক পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে দেশের জনগণের খাদ্য ও পুষ্টিচাহিদা মেটাতেও সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

আমরা জানি, মানুষ ও পরিবেশ এই শব্দ দুটোর মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। পরিবেশের মধ্যে প্রাকৃতিক পরিবেশ একটি উজ্জ্বল দিক, যা মানুষের জীবনযাপনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। প্রাকৃতিক পরিবেশের একটি প্রধান দিক বৃক্ষ। জীবন ও পরিবেশ বাঁচানোর ক্ষেত্রে বৃক্ষের ভূমিকা অনস্বীকার্য। অথচ মানুষই এখন বৃক্ষের শত্রম্নতে পরিণত হয়েছে। যত্রতত্র বৃক্ষ নিধন করা হচ্ছে। বন উজাড় করে বসতি গড়ে তোলা হচ্ছে। আরো কত কী। ফলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে সরকারের উদ্যোগে সারাদেশে এক কোটি গাছের চারারোপণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এটা এক বিশাল কর্মযজ্ঞ। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সারাদেশে এক কোটি গাছের চারারোপণ শেষ করতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে এসব চারা বিনামূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে। উপজেলা পরিবেশ ও বন উন্নয়ন কমিটির মাধ্যমে চারা বিতরণ করা হচ্ছে। কে কোথায় গাছ লাগাবেন এবং কারা এসব গাছের চারা পাবেন তা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সভাপতিত্বে সভায় ঠিক করা হয়েছে। এক কোটি গাছের চারার মধ্যে ৫০ শতাংশ ফলজ এবং বাকি ৫০ শতাংশ বনজ, ঔষধি ও শোভাবর্ধণকারী। কোনো বিদেশি প্রজাতির গাছের চারা লাগানো হবে না। দেশের প্রতিটি উপজেলায় ২০ হাজার ৩২৫টি করে বনজ, ফলদ ও ঔষধি গাছ বিতরণ করতে বন বিভাগের নার্সারিগুলোতে সেগুলো উৎপন্ন করা হয়েছে।

আমরা মনে করি, জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে সরকারের এই উদ্যোগ খুবই প্রশংসনীয়। তবে চারা লাগানোই শেষ নয়, এর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে। কেউ যাতে অনিয়ম দুর্নীতি করতে না পারে সে বিষয়েও বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন।

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রে এটা একটা অনন্য উদ্যোগ। সুস্থ জীবনের জন্য বৃক্ষ সবসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। নির্মল বায়ু ও অক্সিজেন দান করে বৃক্ষ। অথচ দুঃখজনক বাস্তবতা হচ্ছে, আমরা নির্বিচারে বৃক্ষ নিধন করি। মানুষের সঙ্গে প্রকৃতির সম্পর্কটা মানব সৃষ্টির শুরু থেকেই। তবে প্রকৃতির বনাম মানুষের লড়াইটা শুরু হয়েছিল তখনই, যখন মানুষ নিজেদের নগ্ন স্বার্থ হাসিলের জন্য বৃক্ষ নিধন শুরু করেছে। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তি যদি সচেতন ও উদ্যোগী না হন, বৃক্ষের মর্ম উপলব্ধি করতে না পারেন, তা হলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হবে কীভাবে, আর কীভাবেই বা মানুষ সুস্থভাবে জীবনযাপন করবে। তাই ব্যক্তিসচেতনতাও এ ক্ষেত্রে জরুরি।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে