logo
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০ ৮ কার্তিক ১৪২৭

  অনলাইন ডেস্ক    ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০  

কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে

সীমান্ত হত্যা বন্ধের আশ্বাস

সীমান্তে হত্যাকান্ড বন্ধ না হওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বাস্তবতাকে স্পষ্ট করে। এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না, বহু দেনদরবার, আলাপ-আলোচনা, সমঝোতা এবং প্রতিশ্রম্নতি সত্ত্বেও সীমান্ত হত্যা বন্ধ হয়নি। ফলে এমন পরিস্থিতি আমলে নিয়ে যত দ্রম্নত সম্ভব প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি বলেই প্রতীয়মান হয়। সম্প্রতি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা গেল, সীমান্ত হত্যা বন্ধে 'কার্যকর ব্যবস্থা' নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)। আমরা মনে করি, এই আশ্বাসের বিষয়টি যেমন ইতিবাচক তেমনি এর যথাযথ বাস্তবায়নও জরুরি।

প্রসঙ্গত বলা দরকার, ৩ দিনের সীমান্ত সম্মেলন শেষে গত শনিবার যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ভারতের বিএসএফের প্রধান রাকেশ আস্থানা, সীমান্ত হত্যা বন্ধে 'কার্যকর ব্যবস্থা' নেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি বলেছেন, 'আমাদের নীতি হচ্ছে, সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা। আমরা এটা করার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। এই সম্মেলনে আমরা বিজিবিকে আশ্বস্ত করেছি যৌথ সমন্বিত টহলের মাধ্যমে এই কাজগুলো করব।' এ ছাড়া, সীমান্ত হত্যা বন্ধে সীমান্তে অপরাধ দমনে যৌথভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) প্রধান মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলাম। তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশের ভেতরে ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর কোনো ক্যাম্প বা আস্তানা নেই। বাংলাদেশ কখনো তার ভূমি কোনো সন্ত্রাসীগোষ্ঠী বা অন্য কোনো রাষ্ট্রের বিশেষ করে ভারতের কোনো শত্রম্নপক্ষকে ব্যবহারের সুযোগ দেয়নি এবং ভবিষ্যতেও দেবে না।

প্রসঙ্গত আমরা বলতে চাই, রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরে সীমান্ত সম্মেলনের শেষ দিনে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সর্বমোট ১৪টি সিদ্ধান্তের বিষয় জানানো হয়। এ ছাড়া সীমান্ত সংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। যার মাধ্যমে পারস্পরিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অটুট ও আস্থা বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণে উভয়পক্ষ সম্মত হয়। সীমান্তে অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক দ্রব্য, মাদক, স্বর্ণ ও জালমুদ্রা পাচার প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে সম্মত হয় উভয়পক্ষ। আমরা মনে করি, আলোচিত বিষয়গুলোকে সামনে রেখে যথাযথ উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে সংশ্লিষ্টদেরই।

বলার অপেক্ষা রাখে না, সীমান্ত হত্যার বিষয়টি অত্যন্ত পরিতাপের। চলতি ২০২০ সালের প্রথম ছয় মাসে সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষীদের গুলি ও নির্যাতনে বাংলাদেশি নাগরিকদের মৃতু্যর ঘটনা গত বছরের তুলনায় বেড়েছে বলে পত্রপত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়েছিল। জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত সীমান্তে ২৫ জন বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ২১ জনেরই মৃতু্য হয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিএসএফের সৈন্যদের গুলিতে এমনটিও জানা গিয়েছিল। সঙ্গত কারণেই পারস্পরিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অটুট ও আস্থা বাড়ানোর জন্য সীমান্ত হত্যা বন্ধের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই প্রতীয়মান হয়। যা আমলে নিয়ে সর্বাত্মক পদক্ষেপ নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

আমরা বলতে চাই, সীমান্তে হত্যাকান্ডের বিষয়টি বারবার আলোচনায় আসে, তবু যখন হত্যা বন্ধ হয় না, বরং হত্যাকান্ড বাড়ছে এমন খবর সামনে আসে তখন তা অত্যন্ত দুঃখজনক। সীমান্তে চোরাচালান নৈমিত্তিক ঘটনা এবং এর সঙ্গে উভয় দেশের নাগরিকই জড়িত এমন বিষয় জানা গেলেও, বাংলাদেশের নাগরিকরা বারবার হত্যাকান্ডের শিকার হয় যা অত্যন্ত পরিতাপের জন্ম দেয়। আমলে নেওয়া দরকার, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক সুদৃঢ় এবং ভারত বাংলাদেশের প্রতিবেশী বন্ধুরাষ্ট্র। কিন্তু এরপরও সীমান্ত হত্যা বন্ধ না হওয়া এমন এক উৎকণ্ঠাজনক বাস্তবতাকে স্পষ্ট করে, যা কাম্য নয়।

সর্বোপরি আমরা বলতে চাই, মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী চলতি বছরের সাড়ে আট মাসে বাংলাদেশের বিভিন্ন সীমান্তে সহিংসতায় মৃতু্য হয়েছে অন্তত ৩৯ বাংলাদেশির। এর মধ্যে ৩২ জনের মৃতু্য হয়েছে বিএসএফ সদস্যদের গুলিতে। আর ৫ জনের মৃতু্য হয়েছে বিএসএফ সদস্যদের শারীরিক নির্যাতনের পর। ফলে এসব পরিস্থিতি আমলে নিতে হবে। এ ছাড়া সীমান্ত হত্যা বন্ধ না হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ রাজনৈতিক ইচ্ছার ঘাটতি- এমনটিও আলেচনায় এসেছে। আমরা মনে করি, কেন সীমান্তে হত্যাকান্ড ঘটছে সেটা যেমন আমলে নিতে হবে, তেমনিভাবে সীমান্ত হত্যা বন্ধ করার পথ খুঁজতে হবে। এবারে যে সীমান্ত হত্যা বন্ধে 'কার্যকর ব্যবস্থা' নেওয়ার আশ্বাসের বিষয়টি সামনে এলো, তার যথাযথ বাস্তবায়ন হোক এমনটি কাম্য।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে