আবারও জঙ্গি হামলার আশঙ্কা

গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানোর বিকল্প নেই

প্রকাশ | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক
চলতি বছর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে ‘জঙ্গি হামলার আশঙ্কা এখনো কাটেনি’ এমন তথ্য উঠে আসার পর সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বৈশ্বিক এক প্রতিবেদনেও অনুরূপ আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সরকারের অনেক ব্যবস্থা নেয়ার পরে এখনো জঙ্গি হামলার ঝুঁকির বিষয়টি নিঃসন্দেহে উদ্বেগের। গণমাধ্যমের তথ্যে জানা যায়, বৈশ্বিক ওই প্রতিবেদনে ২০১৭ সালে বাংলাদেশের সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত উল্লেখযোগ্য সাফল্য ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরা হয়েছে। দেশে সংঘটিত নানান হামলায় স্থানীয় জঙ্গিরা দায়ী, প্রতিবেদনে এমনটি বলার পাশাপাশি অন্তত ৪০টি হামলার ঘটনায় ভারতীয় উপমহাদেশের আল-কায়েদা এবং আইএস দায় স্বীকার করায় তাদের বিষয়েও সতকর্ করা হয়েছে। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকার পরেও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক এই প্রতিবেদন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আমলে নেয়া প্রয়োজন বলেই প্রতীয়মান হয়। অস্বীকারের সুযোগ নেই যে, সারা দুনিয়ায় এক ধরনের জঙ্গি উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়েছে। আর তার কেন্দ্রস্থলে আছে মধ্যপ্রাচ্য। জিহাদের কথা বলে ধমর্প্রাণ মুসলমানদের একটি অংশকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, একের পর এক নৃশংস হত্যাকাÐ চালানো হচ্ছে। তাতে মারা যাচ্ছে নিরীহ নিরপরাধ মানুষ। বাংলাদেশেও পশ্চাৎপদ চিন্তাভাবনার কিছু মানুষ, বলা যেতে পারে বৃহৎ একটি অংশের ধমীর্য় আবেগকে উসকে দিয়ে তারা একইভাবে জঙ্গি তৎপরতা ছড়িয়ে দেয়ার অপচেষ্টা করে যাচ্ছে। যারা এসব অশুভ কমর্কাÐে জড়িত তারা যে ‘ধমের্ক অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করছে, সে বিষয়টিও বহুবার আলোচনায় এসেছে। অন্যদিকে মাঝে মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনীর হাতে এরা গোলাবারুদ, অস্ত্রশস্ত্র ও বোমা তৈরির সরঞ্জামাদিসহ গ্রেপ্তারও হচ্ছে। গ্রেপ্তারকৃত জঙ্গিদের স্বীকারোক্তিতেও উঠে আসা তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হচ্ছে। এতে একটি বিষয় স্পষ্ট যে, বিদেশি কিছু শক্তির ইঙ্গিতে ও অথর্-সহায়তায় স্থানীয় এসব জঙ্গি দেশে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টিতে তৎপর। বাংলাদেশে যেসব জঙ্গি সংসগঠনের অস্তিত্ব পাওয়া যায় বলে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা দাবি করে, এর মধ্যে জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ বা জেএমবি অন্যতম। এ ছাড়া হরকাতুল জিহাদসহ বিভিন্ন সংগঠনের নামও আছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছেও এদের তথ্য আছে। জঙ্গিরা স্থানীয় হলেও বিদেশের জঙ্গিদের সঙ্গে এদের যোগাযোগ রয়েছে। এরা আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি শুধু ব্যবহারই করছে না, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের তথ্য গোপনেও এরা সক্ষম। জানা যায়, আইনপ্রয়োগকারীদের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া অনেক জঙ্গি এর আগেও নাশকতামূলক কমর্কাÐ পরিচালনা করেছে জামায়াত-শিবিরের অথার্য়ন ও সম্পৃক্ততায়। দেশে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরুর থেকে দেশব্যাপী জামায়াত-শিবিরের যে তাÐব দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে, তাকেও বিবেচনায় রাখতে হয় জঙ্গি প্রসঙ্গে বলতে গেলে। আবার ঢাকায় থাকা পাকিস্তানি দূতাবাসের কিছু কমীর্র বিরুদ্ধেও জঙ্গি সম্পৃক্ততার যে অভিযোগ উঠেছিল, সেসবও বিশেষ তাৎপযর্বহ। সব মিলিয়ে ধারণা করা যায়, একাত্তরের পরাজিত শক্তি আন্তজাির্তক জঙ্গিবাদের সহায়তায় বাংলাদেশে তাদের জিঘাংসা চরিতাথর্ করতে চাইছে। আপাতত এদের কমর্কাÐ স্তিমিত থাকতে দেখা গেলেও, ভবিষ্যতে যে সুযোগ পেলে আবারও এরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে দেশীয় বিশ্লেষকরাও এমন আশঙ্কার কথা বার বার বলে আসছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনেও এবার সেই একই আশঙ্কা উঠে আসায় বিষয়টিকে আর খাটো করে দেখার সুযোগ থাকে না। এ ব্যাপারে সবোর্চ্চ সতকর্তা অবলম্বনের পাশাপাশি আমরা বলব, সরকারের কতর্ব্য হওয়া দরকার ষড়যন্ত্রকারীদের মুখোশ জনগণের সামনে উন্মোচিত করা। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, জঙ্গি তৎপরতা মোকাবেলায় আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর সক্ষমতায় অনেক ঘাটতি আছে। আছে তথ্যপ্রযুক্তি শনাক্তের অক্ষমতাও। ব্যক্তিপযাের্য় অনেকেই জঙ্গি হামলার শিকার হলেও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তেমন সফলতা নেই। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটলেও গোয়েন্দারা এসব হামলার পূবার্ভাস দিতে ব্যথর্ হয়েছেন। আমরা মনে করি, জঙ্গিরা কোথায়, কীভাবে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে, মানুষকে বিভ্রান্ত করছে কিংবা হামলার পরিকল্পনা করছেÑ আগেভাগেই এসব তথ্য জেনে এদের সমূলে উচ্ছেদের চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। এ জন্য গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প থাকা উচিত নয়। সবোর্পরি সংশ্লিষ্টদের বলতে চাই, নিবার্চন আসন্ন আর নিবার্চনের সময় এমনিতেই সন্ত্রাসী ঘটনা, অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারের আশঙ্কা বহুলাংশে বেড়ে যায়। ফলে মাকির্ন প্রতিবেদনটি দ্রæত আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিশ্চিত করতে হবে। জঙ্গি তৎপরতা মোকাবিলায় জনগণের সম্পৃক্ততা বাড়ানোও অপরিহাযর্।