যথাযথ উদ্যোগ নিন

বিশ্বব্যাপী ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা বেড়েছে

বিশ্বব্যাপী ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা বেড়েছে

করোনাভাইরাস বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার কারণে কর্মহীন মানুষের সংখ্যা দ্রম্নত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইতিমধ্যে বহু দেশ থেকে কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছে। কোটি কোটি মানুষ বেকার হয়ে পড়েছে। করোনাভাইরাস সংকটের অর্থনৈতিক পরিণতি বিশ্বের কোটি কোটি মানুষকে চরম দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। করোনা মহামারিতে আয় রোজগার কমে যাওয়ায় গোটা বিশ্বে নতুন করে ১৩ কোটি ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। এতে বিশ্বে এখন মোট ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮২ কোটি। গত শুক্রবার বার্লিন কৃষিমন্ত্রীদের কনফারেন্সে এসব তথ্য জানানো হয়। 'মহামারি ও জলবায়ু পরিবর্তনের এ সময়ে কীভাবে বিশ্বকে খাওয়ানো যায়' শিরোনামে কৃষি খাদ্যবিষয়ক বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এ সম্মেলনে ৯০টিরও বেশি দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা অংশগ্রহণ করেছে। গত পাঁচদিনে বিভিন্ন দেশের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা একটি যৌথ ইশতেহার প্রস্তুত করেছে। কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে এবার ভার্চুয়ালি কনফারেন্সটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এটা সত্য, করোনাকালে খাদ্য সরবরাহ ও বাজার স্থিতিশীল থাকলেও অর্থনৈতিক স্থবিরতায় বেকারত্ব ও আয় হারিয়ে এ সংখ্যা আরো বেড়েছে। বিদ্যমান এই বিশাল ক্ষুধার্ত মানুষের সঙ্গে গত এক বছরে আরো ১৩ কোটি ক্ষুধার্ত মুখ নতুন করে যুক্ত হয়েছে। এ ছাড়া ২০২০ সালে পাঁচ বছরের নিচের আরো ৭০ লাখ শিশু 'চরম অপুষ্টির' শিকার হয়েছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশের মিথস্ক্রিয়াকে মাথায় রেখে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উন্নত দেশগুলোকে উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশে বিনিয়োগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করাও জরুরি। আমরা মনে করি, উন্নয়নশীল দেশের কৃষির উন্নয়ন, এগ্রো-প্রসেসিং, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ ও ফুড ভ্যালু চেইন শক্তিশালী করতে উন্নত দেশগুলোকে বিনিয়োগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করে এগিয়ে আসতে হবে। খাদ্য সংকটের ব্যাপারে 'আগাম কার্যকর সতর্ক ব্যবস্থা' গড়ে তোলার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। বিশ্বব্যাংক যে পরিমাণ অর্থ সরবরাহ করছে, তা পর্যাপ্ত নয়। বিশ্বের অন্যান্য অর্থ প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাকে এ ব্যাপারে সাহায্যের হাত বাড়াতে হবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থা ভালো। বাংলাদেশ দারিদ্র্য বিমোচন ও মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে যে উলেস্নখযোগ্য অগ্রগতি, এর বেশির ভাগই সম্ভব হয়েছে শ্রম আয় বৃদ্ধির কারণে। ২০১০-২০১৬ সময়ে ৮০ লাখ বাংলাদেশি দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে এসেছে। জোরালো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশে দারিদ্র্য কমাচ্ছে। দারিদ্র্য কমছে তুলনামূলক কম গতিতে। ২০১০ সাল থেকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি বাড়লেও দারিদ্র্য বিমোচনের গতি কমছে। দারিদ্র্য হার কমিয়ে আনতে সব দরিদ্র পরিবারকে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনা হয়েছে। সরকারের এই ধরনের নানামুখী পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ অত্যন্ত ইতিবাচক। পরিবার সমাজ তথা রাষ্ট্র থেকে দারিদ্র্য দূর হোক এটাই আমরা চাই। তবে দেশ থেকে দুর্নীতি দূর করতে না পারলে দারিদ্র্য পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয়। এ কারণে আমাদের যেভাবে এগিয়ে যাওয়ার কথা ছিল, প্রচুর সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও আমরা সে অবস্থায় এখনো যেতে পারিনি। এসব বাধা দূর করতে পারলে দারিদ্র্য আশানুরূপ হ্রাস করা সম্ভব। সম্ভব পর্যায়ক্রমে মধ্যম আয়ের ও উন্নত দেশের কাতারে পোঁছাও। আমরা প্রত্যাশা করছি, বাংলাদেশ আরো এগিয়ে যাবে। বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ হবে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ ও একটি গর্বিত দেশ।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে