মেট্রোরেলের আরও ৬ বগি

দ্রম্নত কাজ শেষ হোক
মেট্রোরেলের আরও ৬ বগি

একটি দেশের সামগ্রিক সমৃদ্ধি অর্জনের প্রশ্নে যোগাযোগ ব্যবস্থার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, দেশের রাজধানীতে যদি আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে না ওঠে, তবে তা সামিগ্রকভাবেই দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমকে ব্যাহত করবে- এমনটি বলা অযৌক্তিক নয়। সঙ্গত কারণেই রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের কোনো বিকল্প থাকতে পারে না। প্রসঙ্গত বলা দরকার, রাজধানী ঢাকার গণপরিবহনে বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিযোগের অন্ত নেই। এছাড়া যানজট থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের অনিয়মও আলোচিত। দুর্ভোগ যেন ঢাকা মহানগরীর মানুষের নিত্যসঙ্গী। ফলে ঢাকা মহানগরীর জনগণের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান হবে মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে- এমন বিষয় যখন আলোচনায় এসেছিল তখন তা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক বিষয়।

সম্প্রতি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা গেল, দ্বিতীয় চালানে ঢাকার মেট্রোরেলের আরও ছয়টি বগি মোংলা বন্দরে পৌঁছেছে। এ ক্ষেত্রে এটাও উলেস্নখ্য, এ নিয়ে এই বন্দরে মেট্রোরেলের দুটি চালান এলো। এর আগে গত ৩১ মার্চ ছয়টি কোচ নিয়ে এসেছিল প্রথম চালান। জানা গেছে, জাপানের কোবে বন্দর থেকে ছয়টি কোচ নিয়ে ছেড়ে আসা বেলিজ পতাকাবাহী জাহাজ 'এমভি ওশান গ্রেস' রোববার দুপুরে মোংলা বন্দরে ভিড়েছে। প্রসঙ্গত, ঢাকা ম্যাসর্ যাপিড ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের কন্ট্রাক্ট প্যাকেজ-০৮ এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক বলেছেন, মেট্রোরেলের লাইন-৬ কন্ট্রাক্ট প্যাকেজ-০৮ আওতায় এর জন্য ২৪টি যাত্রীবাহী রেল কোচ আমদানি করা হবে।

বলার অপেক্ষা রাখে না, রাজধানীতে যানজট চিত্র এতটাই ভয়াবহ যে, মানুষ গন্তব্যে পৌঁছাবে কখন তা অনুমান করাও কঠিন। যানজটের কারণে রাজধানীবাসীর যে বিপুল কর্মঘণ্টা ও অর্থ অপচয় হয়, এটাও নতুন করে বলার প্রয়োজন পড়ে না। সঙ্গত কারণেই, মেট্রোরেল চালু হলে অন্যান্য গণপরিবহনে যাত্রীর চাপ কমবে এমন আশাবাদ যৌক্তিক। এর আগে এমনটিও জানা গিয়েছিল, এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উত্তরা থেকে মতিঝিল যেতে সময় লাগবে মাত্র ৩৭ মিনিট- যা বর্তমানে রাজধানীবাসীর কাছে স্বপ্নের মতোই। ফলে এই বিষয়গুলো আমলে নিলে এটাই স্পষ্ট হয়, রাজধানীর যানজট নিরসনে মেট্রোরেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সঙ্গত কারণেই সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে এই প্রকল্পের কাজ যথাযথ সময়ে শেষ হোক এমনটি কাম্য।

উলেস্নখ্য, রাজধানীর উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ২০ কিলোমিটারের এমআরটি-৬ নামে এই প্রকল্পটি ২০২১ সালের ডিসেম্বরে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের- ফলে এই লক্ষ্যপূরণে সংশ্লিষ্টদের সার্বিক পদক্ষেপ নিতে হবে। মূলত প্রকল্পটি দুটি অংশ করে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রথমটি উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত। এই অংশের পূর্ত কাজের অগ্রগতি ২০২০ সালের মে মাসে হয়েছে ৭১ দশমিক ১২ শতাংশ, যেখানে ওই বছরের ফেব্রম্নয়ারিতে ছিল ৬৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ। আর আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত দ্বিতীয় অংশের পূর্ত কাজের অগ্রগতি ২০২০ সালের মে মাসে হয়েছে ৩৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ, যেখানে ওই বছরের ফেব্রম্নয়ারিতে ছিল ৩৭ দশমিক ৮০ শতাংশ।

সর্বোপরি আমরা বলতে চাই, মেট্রোরেলের কাজ এগিয়ে চলেছে- যা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। স্বপ্নের পদ্মা সেতু ও কর্ণফুলী টানেলের মতো দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আরেকটি ইতিবাচক বিষয় হতে যাচ্ছে মেট্রোরেল- যার সুষ্ঠু বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে রাজধানীবাসীর দুর্ভোগ লাঘব হবে এমনটি আশা করা যায়। এখন সামগ্রিক পরিস্থিতি আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে। মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজ যেন নির্দিষ্ট সময়ে শেষ হয়, সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে। এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না, এর আগে বিভিন্ন সময়েই প্রকল্প নির্দিষ্ট সময়ে বাস্তবায়ন না হওয়া, ব্যয় বৃদ্ধি, অব্যবস্থাপনাসহ নানা ধরনের বিষয় নিয়েও অভিযোগ এসেছে। সঙ্গত কারণেই এই প্রকল্পটি সুষ্ঠুভাবে এবং নির্দিষ্ট সময়ে শেষ হোক এমনটি আমদের প্রত্যাশা।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে