চার খুনির খেতাব বাতিল

চার খুনির খেতাব বাতিল

গত ৬ জুন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার সঙ্গে জড়িত আত্মস্বীকৃত ও মৃতু্যদন্ডপ্রাপ্ত চার খুনির মুক্তিযুদ্ধের খেতাব বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়। এর আগে হাইকোর্ট এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর ওই চার খুনির মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পাওয়া বীরত্বের খেতাব স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছিল। এরপর গত ৯ ফেব্রম্নয়ারি জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) বৈঠকে চার খুনির খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয় চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য। একই সঙ্গে সংবিধান লঙ্ঘন, বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের দেশত্যাগে সহায়তা এবং তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের কারণে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধের 'বীর-উত্তম' খেতাবও বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়েছিল জামুকার ওই সভায়। মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা বারবার হালনাগাদ করা হলেও কখনো এই বিষয়টিতে নজর দেওয়া হয়নি। অথচ ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর এই চারজনসহ মোট ১৫ জনকে মৃতু্যদন্ডে দন্ডিত করেন ঢাকার দায়রা জজ আদালত। ২০০৯ সালের ১৯ নভেম্বর আপিল বিভাগ চূড়ান্ত রায় প্রদান করার পরও এতদিন তাদের খেতাব অক্ষুণ্ন ছিল সেটা জাতি হিসেবে আমাদের লজ্জা।

সুমহান মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য বঙ্গবন্ধু সরকার ১৯৭৩ সালে ৪টি উপাধিতে মুক্তিযোদ্ধাদের স্বীকৃতি দিয়ে সম্মানিত করেন। তারমধ্যে বীরশ্রেষ্ঠ-৭ জন, বীর-উত্তম-৬৮ জন, বীর-বিক্রম-১৭৫ ও বীর-প্রতীক-৪২৬ জন। সাবেক রাষ্ট্রপতি ও স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমানকে রাষ্ট্রীয়ভাবে 'বীর-উত্তম' খেতাব দেওয়া হয়। এ ছাড়া যে চারজনের খেতাব ও পদক বাতিল হয়েছে শরিফুল হক ডালিম 'বীর-উত্তম', নূর চৌধুরী 'বীর-বিক্রম', রাশেদ চৌধুরী 'বীর-প্রতীক' ও মোসলেহ উদ্দিন 'বীর-প্রতীক' খেতাবে ভূষিত ছিল। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে এই চার খুনির খেতাব বাতিল হলে জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিল হবে না কেন?

বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডে নেপথ্যের কুশীলব ছিল জিয়াউর রহমান। এটি যে শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, এমনটি নয়। ঘটনার পরম্পরায় আজ বিষয়টি দিবালোকের মতো স্পষ্ট। জেনারেল জিয়াউর রহমান যে বঙ্গবন্ধু হত্যা চক্রান্তের বিষয়ে অবগত ছিলেন তা প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে ব্রিটেনের আইটিভি চ্যানেলের ডড়ৎষফ রহ অপঃরড়হ প্রোগ্রামে সাংবাদিক অ্যান্থনি মাসকারেনহাসকে দেওয়া লে. কর্নেল (অব.) সৈয়দ ফারুক রহমান এবং লে. কর্নেল (অব.) খন্দকার আব্দুর রশীদের সাক্ষাৎকারে। তারা জানায়, বঙ্গবন্ধু হত্যা চক্রান্তের বিষয়ে ১৫ আগস্টের বহু আগেই জিয়াকে তারা অবহিত করেছিল। ফারুক আরও জানায়, '২০ মার্চ ১৯৭৫ সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটের দিকে সে জিয়ার বাসায় জিয়ার সঙ্গে দেখা করে এবং তাকে বলে- ঞযব পড়ঁহঃৎু ৎবয়ঁরৎবফ ধ পযধহমব.

উত্তরে জিয়া বলেন, 'ণবং, ুবং, ষবঃং মড় ড়ঁঃংরফব ধহফ :ধষশ'। তখন জিয়া ফারুককে নিয়ে বাইরে বাড়ির লনে যায়। সেখানে ফারুক পুনরায় বলে, 'ডব যধাব :ড় যধাব ধ পযধহমব. ডব, :যব লঁহরড়ৎ ড়ভভরপবৎং, যধাব ধষৎবধফু ড়িৎশবফ রঃ ড়ঁঃ. ডব ধিহঃ ুড়ঁৎ ংঁঢ়ঢ়ড়ৎঃ ধহফ ষবধফবৎংযরঢ়'। জিয়ার প্রতিক্রিয়া ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট।

জিয়া বলে, 'ওভ ুড়ঁ ধিহঃ :ড় ফড় ংড়সবঃযরহম, ুড়ঁ লঁহরড়ৎ ড়ভভরপবৎং ংযড়ঁষফ ফড় রঃ ুড়ঁৎংবষভ' (অহঃযড়হু গধংপধৎবহযধং, ইধহমষধফবংয ু অ খবমধপু ড়ভ ইষড়ড়ফ, ঢ়ধমব ৫৪, ঐড়ফফবৎ ধহফ ঝঃৎড়ঁমযঃড়হ, খড়হফড়হ, ১৯৮৬)

উপরের কথোপকথন থেকে বিষয়টি স্পষ্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ড চক্রান্তের বিষয়ে জিয়া আগেই অবহিত ছিল; চক্রান্তকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত কোনো ব্যবস্থা তো নেননি, বরং চক্রান্তকারীদের উৎসাহিত করেছেন। ফারুক-রসিদ যখন এই সাক্ষাৎকার দেয় তখন তো জিয়া বাংলাদেশে সুপার পাওয়ার সে এই বক্তব্যের কোনো প্রতিবাদ করেনি এমনকি তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাও নেয়নি। অতি সম্প্রতি ২০২০ সালের ১২ এপ্রিল বঙ্গবন্ধুর আরেক খুনি ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আব্দুল মাজেদের মৃতু্যদন্ড কার্যকর হওয়ার আগে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানায়, বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর খুনিদের সবাই বঙ্গভবনে আশ্রয় নেয়। রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাকের পাশের ভিআইপি সু্যটে তারা অবস্থান করতেন। জেনারেল জিয়াউর রহমান সেখানে গিয়ে তাদের সঙ্গে দেখা করতেন। নারকীয় এই হত্যাকান্ডের পুরস্কার হিসেবে খুনিদের একটি করে পদোন্নতি এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনে চাকরি দেওয়া হয়। তবে এর আগে থেকেই খুনিরা সেনাবাহিনী ও রাষ্ট্রযন্ত্রের সবকিছুতে হস্তক্ষেপ করতেন। তাদের সব চাহিদা পূরণে সবকিছু করতেন খোদ জিয়াউর রহমান। আত্মস্বীকৃত খুনিরা নিজেরাই বলেছে, জিয়াউর রহমান হত্যাকান্ডের আগে ও পরে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল ও সহযোগিতা করেছে। অন্যদিকে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার অন্যতম সাক্ষী কর্নেল সাফায়েত জামিল জবানবন্দিতে আদালতকে জানায়, ১৫ আগস্ট ভোরে জিয়াউর রহমানের বাসায় গিয়ে দেখি তিনি সেভ করতেছেন। ঘটনা শোনার পর তিনি বলেন, 'সো হোয়াট প্রেসিডেন্ট ইজ ডেট। ভাইস-প্রেসিডেন্ট ইজ দেয়ার, আপহোল্ড দ্যা কনিস্টিটিউশন। উই হ্যাভ নাথিং টু ডু উইথ পলিটিক্স'। জিয়া ঘটনা সম্পর্কে কতটা নির্ভার থাকলে তিনি দায়িত্বশীল পদে থেকে বলতে পারেন, 'কি হয়েছে প্রেসিডেন্ট মারা গেছে, ভাইস-প্রেসিডেন্ট তো আছে'।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর নানা ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে ২৪ আগস্ট জিয়া সেনাপ্রধান হন। ৭ নভেম্বরের সামরিক অভু্যত্থানের পর শাসনক্ষমতার কেন্দ্রবিন্তুতে চলে আসেন। ১৯৭৬ সালের ২৯ নভেম্বর তিনি হন প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক। ১৯৭৭-এর ২১ এপ্রিল বিচারপতি আবু সাদাত সায়েমকে পদ থেকে জোরপূর্বক সরিয়ে তিনিই রাষ্ট্রপতি হয়ে যান।

জিয়াউর রহমান সামরিক শাসক হিসেবে ক্ষমতা নেওয়ার পরই আওয়ামী লীগ নিধনের মিশনে নেমে পড়ে। কয়েক মাসের মধ্যেই প্রায় বাষট্টি হাজার রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের কারাগারে আটক করে। তার শাসনামলে ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করতে স্বাধীনতার পক্ষের ১ লাখ ১৩ হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে আটক রাখা হয়। ২৫ হাজার নেতাকর্মীকে নির্মমভাবে অত্যাচার করে জেলখানায় হত্যা করা হয়। সশস্ত্রবাহিনীর প্রায় তিন হাজার সেনা ও অফিসারদের ফাঁসি দেওয়া হয়। এর মধ্যে ১৯৭৭ সালেই কর্নেল তাহেরসহ ১১৪৩ জন সামরিক কর্মকর্তাকে বিনা বিচারে ফাঁসি দেওয়া হয়। যে কর্নেল তাহের তাকে নিশ্চিত মৃতু্যর হাত থেকে বাঁচিয়ে ক্ষমতায় বসিয়েছিল তাকেও বিনা বিচারে হত্যা করেছিল ঘাতক জিয়া। শুধুমাত্র ক্ষমতাকে কণ্টকমুক্ত রাখতে কাউকে হত্যা করে, কাউকে বিদেশে পাঠিয়ে, আবার কাউকে জেলে পুরে রেখেছে। কর্নেল তাহের হত্যা মামলায় হাইকোর্ট যথার্থই বলেছে, কর্নেল তাহেরকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। জিয়া একজন ঠান্ডা মাথার খুনি।

জিয়াই সেই ব্যক্তি যিনি পঁচাত্তর পরবর্তী রাজনীতিকে পুরোপুরি অন্ধকারে ঢেকে দেয়। সে রাজাকারদের বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দিয়ে পুনর্বাসিত করে, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের 'ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ' জারি করে দায়মুক্তি ও বড় বড় পদে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করে। বাংলাদেশের মৌলবাদের যে বীজ রোপণ করেছিল আজও তার কুফল ভোগ করছে জনগণ। নৃশংস জিয়াউর রহমানের চোখের ইশারায় হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধার মৃতু্য হয়েছে। জিয়ার অবৈধ শাসনামলে কারাগারগুলো মৃতু্যপুরীতে পরিণত হয়েছিল। প্রতি রাতেই কারফিউ জারি করে কারান্তরালে মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করাই জিয়ার প্রধান কাজ ছিল।

জিয়া ছিল অত্যন্ত ধূর্ত ও প্রতারক। তার প্রতিটি কাজই সে প্রমাণ দেয়। ২৬ মার্চ ১৯৭১, প্রথম প্রহরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা করেন। জনগণের নির্বাচিত হিসেবে বাংলার জনগণের পক্ষে এই ক্ষমতা শুধুমাত্র বঙ্গবন্ধুরই ছিল। ২৭ মার্চ দেশের বিভিন্ন স্থানে অনেকেই বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেছিলেন। তখন জিয়াউর রহমান সোয়াত জাহাজ থেকে পাকিস্তানিদের অস্ত্র খালাসের জন্য চট্টগ্রামে ছিলেন। সেই অস্ত্র ব্যবহার করা হতো এ দেশের বাঙালিদের নিধনের জন্য। কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে আওয়ামী লীগ নেতা এমএ হান্নান বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রথম পাঠ করেন। তখন মুক্তিযোদ্ধারা মনে করল একজন সেনা কর্মকর্তাকে দিয়ে ঘোষণা পাঠ করা হলে মানুষের মনোবল বৃদ্ধি পাবে। সেজন্য মুক্তিযোদ্ধারা জোর করে জিয়াকে ধরে নিয়ে যায় চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্রে। ধূর্ত, প্রতারক জিয়া নিজেকে প্রেসিডেন্ট বলে প্রথম ঘোষণাটি পাঠ করে। উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধা ভুল ধরিয়ে দিলে পুনরায় বঙ্গবন্ধুর নামে ঘোষণাটি পাঠ করে। মুক্তিযুদ্ধে একটি সেক্টর কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করা জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধের ভূমিকাও সহকর্মীদের কাছে ছিল বিতর্কিত। জিয়া কখনো মুক্তিযুদ্ধকে ধারণ ও লালন করেননি। কারণ তার পড়ালেখা, বড় হওয়া, চাকরি সবই ছিল পাকিস্তানে। তাকে মুক্তিযোদ্ধা বলা যায় না। সে ছিল অনিচ্ছুক, বাধ্যগত মুক্তিযোদ্ধা।

১৯৭৫ সাল থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত সময়ে তার সামরিক শাসনকে বৈধতা দেওয়া হয়েছিল সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে। কিন্তু ২০০৫ সালের ২৯ আগস্ট হাইকোর্ট রায় দেন ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত জারি করা সব ধরনের ফরমান অবৈধ। ১৯৭৫ সালে খন্দকার মোশতাক আহমদ, একই বছরের ৬ নভেম্বর বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম ও পরবর্তী সময়ে জিয়াউর রহমানের ক্ষমতা গ্রহণ এবং সামরিক শাসন জারি অবৈধ ও সংবিধান পরিপন্থি হিসেবে উলেস্নখ করেছিলেন আদালত। ২ ফেব্রম্নয়ারি ২০১০ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ চূড়ান্তভাবে পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করে দেন। পঞ্চম সংশোধনী বাতিল হওয়ায় সংবিধান লঙ্ঘনের কারণে মোশতাক, সায়েম ও জিয়ার সর্বোচ্চ শাস্তি ছিল অবধারিত।

জাতির জনক ও নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকান্ডে জিয়া হয়তো সরাসরি জড়িত ছিল না, উপ-সেনাপ্রধান হিসেবে সেটা সম্ভবও ছিল না। কিন্তু তিনি যে অন্যতম মাস্টারমাইন্ড ছিলেন সেটা পরবর্তী ঘটনাগুলোতে স্পষ্ট হয়ে গেছে। খুনিরা তার সঙ্গে পরামর্শ করলে তিনি বলেছিলেন, আমি এসব ব্যাপারে জড়াতে চাই না। যদি তোমরা জুনিয়র অফিসাররা কিছু করতে চাও তাহলে আমার সমর্থন থাকবে। অথচ সরকার ও সংবিধানকে রক্ষা করার শপথ নিয়ে সেনাবাহিনীর উপ-প্রধান হয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। একটি আইনানুগ নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত এবং প্রেসিডেন্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যা চক্রান্তের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর উপ-প্রধান হিসেবে যে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের কথা ছিল সেটা তিনি না করে বরং সংবিধানকে লঙ্ঘন করেছেন। বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের দায়মুক্তি দিতে খন্দকার মোশতাক যে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেছিল তার কোনো আইনগত বৈধতা ছিল না। কিন্তু জিয়া '৭৯ পার্লামেন্টে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী পাস করে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশকে বৈধতা দিয়ে আইনে পরিণত করেছিল।

জিয়া মরে গিয়ে বেঁচে গেছেন এটাই কঠিন সত্য। বেঁচে থাকলে বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের বেশির ভাগ খুনির যা হয়েছে, জিয়ারও তাই হতো এটা শতভাগ নিশ্চিত। তাকেও ফাঁসির দড়ি বরণ করতে হতো। কিন্তু জাতি হিসেবে আমাদেরও দায় আছে। বাংলাদেশের আইনে যেহেতু মৃত ব্যক্তির বিচারের কোনো বিধান নেই। তাই বাঙালি জাতির মুক্তিদাতা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের সবাইকে চিহ্নিত করে মুখোশ উন্মোচন করতে হবে। কমিশন গঠন করে এই কাজ দ্রম্নত শুরু করতে হবে। কলঙ্কমুক্ত করতে হবে বাঙালি জাতি।

তাপস হালদার : সদস্য, সম্প্রীতি বাংলাদেশ ও সাবেক ছাত্রনেতা

যধষফবৎঃধঢ়ধং৮০@মসধরষ.পড়স

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে