এই ধারা অব্যাহত রাখতে হবে

বৈশ্বিক শান্তি সূচকে দেশের অগ্রগতি

বৈশ্বিক শান্তি সূচকে দেশের অগ্রগতি

সহিংসতা, যুদ্ধসহ নানাবিধ সংকট পৃথিবীতে বিদ্যমান। এছাড়া পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন সময়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়, হামলাসহ নানা ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে, যা শান্তির পথে অন্তরায়। সম্প্রতি বাংলাদেশ বৈশ্বিক শান্তি সূচকে এগিয়েছে বলে যখন জানা যাচ্ছে, তখন বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই ইতিবাচক বাস্তবতাকে স্পষ্ট করে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক শান্তি সূচকে দেশের অগ্রগতির বিষয়টি আশাপ্রদ বলেও প্রতীয়মান হয়। পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে জানা গেল, বৈশ্বিক শান্তি সূচকে গত বছরের তুলনায় এবার সাত ধাপ উন্নতি হয়েছে বাংলাদেশের। আমরা মনে করি এই বিষয়টি যেমন সন্তোষজনক, তেমনি এটি আমলে নিয়ে অগ্রগতির ধারা বজায় রাখতে হবে এবং এই লক্ষ্যে সর্বাত্মক উদ্যোগও জারি রাখতে হবে।

প্রসঙ্গত বলা করা দরকার, ১৬৩টি দেশের মধ্যে এবার ৯১তম স্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। গত বছর ছিল ৯৮তম অবস্থানে। দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তিতে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয় বলেও জানা যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়ার সিডনিভিত্তিক আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট অব ইকোনমিকস অ্যান্ড পিস এ সূচক প্রকাশ করেছে। আমরা মনে করি, এটা আমলে নেওয়া সমীচীন, সুরক্ষা ও নিরাপত্তা, চলমান সংঘাত এবং সামরিকায়নের মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে এ সূচক তৈরি করা হয়েছে। ফলে যে বিষয়গুলোর ওপর ভিত্তি করে এই সূচক তৈরি করা হয়েছে সেগুলোর প্রতি আরও বেশি মনোযোগী হতে হবে এবং যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

তথ্য মতে, দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি সূচকে বরাবরের মতোই সবার উপরে রয়েছে ভুটান। এ বছর ১ দশমিক ৫১ পয়েন্ট স্কোর নিয়ে ২২তম অবস্থানে আছে দেশটি। দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি সূচকে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে নেপাল। ২ দশমিক ০৩ স্কোর নিয়ে ৮৫তম অবস্থানে আছে দেশটি। আর বাংলাদেশ ২ দশমিক ০৬৮ স্কোর নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে উঠে আসায় পেছনে ফেলেছে শ্রীলঙ্কাকে। বিশ্বে শ্রীলঙ্কার অবস্থান এখন ৯৫তম আর দক্ষিণ এশিয়ায় চতুর্থ। এছাড়া তালিকায় ২ দশমিক ৫৫ স্কোর নিয়ে ১৩৫তম অবস্থানে আছে ভারত। দেশটি এবার দুই ধাপ এগিয়েছে। ২ দশমিক ৮৬৮ পয়েন্ট নিয়ে ১৫০তম অবস্থানে থাকা পাকিস্তান এবার দুই ধাপ পিছিয়েছে। গতবারের মতো এ বছরও শান্তি সূচকে প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে অনেক এগিয়ে বাংলাদেশ। এছাড়া সূচকে সিঙ্গাপুরকে এশিয়ার সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, বিশ্বের তাদের অবস্থান একাদশতম।

অন্যদিকে বিশ্বে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে আইসল্যান্ড। ১ দশমিক ১ স্কোর নিয়ে এবারও তালিকার শীর্ষে আছে দেশটি। শীর্ষ দশে থাকা বাকি দেশগুলো হচ্ছে যথাক্রমে নিউজিল্যান্ড, ডেনমার্ক, পর্তুগাল, স্স্নোভেনিয়া, অস্ট্রিয়া, সুইজারল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, চেক প্রজাতন্ত্র ও কানাডা। গতবারের মতো এবারও তালিকার একেবারে তলানিতে ঠাঁই হয়েছে আফগানিস্তানের। তাদের পয়েন্ট ৩ দশমিক ৬৩১। তালিকায় সর্বনিম্ন থাকা অন্য দেশগুলো হচ্ছে যথাক্রমে ইয়েমেন, সিরিয়া, দক্ষিণ সুদান, ইরাক, সোমালিয়া, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, লিবিয়া, মধ্য আফ্রিকা প্রজাতন্ত্র ও রাশিয়া। এ বছর শান্তি সূচকে ছয় ধাপ এগিয়ে যুক্তরাজ্য বিশ্বে ৩৩তম এবং দুই ধাপ পিছিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ১২২তম স্থানে রয়েছে।

এটা লক্ষণীয় যে, এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ায় আগামী দশকে সহিংসতা বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে সিডনিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটির প্রতিবেদনে। ফলে এই বিষয়টি বাংলাদেশ সংশ্লিষ্টদের অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে আমলে নেওয়া দরকার। কেননা সহিংসতা কখনো শান্তি আনতে পারে না। ফলে যেহেতু আগামী দশকে সহিংসতা বৃদ্ধির আশঙ্কা করা দেশগুলোর মধ্য বাংলাদেশের নাম এসেছে, ফলে সংশ্লিষ্টদের করণীয় নির্ধারণ ও তার বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে।

সর্বোপরি আমরা বলতে চাই, সুরক্ষা ও নিরাপত্তা, চলমান সংঘাত এবং সামরিকায়নের মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় বৈশ্বিক শান্তি সূচক তৈরি করা হয়েছে। সঙ্গত কারণেই সংশ্লিষ্টদের এই বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে। বৈশ্বিক শান্তি সূচকে বাংলাদেশের অগ্রগতির বিষয়টি আমলে নিয়ে এই ধারা অব্যাহত রাখতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা জারি থাকুক এমনটি কাম্য।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে