বাংলাদেশে বাড়ছে ই-বর্জ্যের ঝুঁকি

ইলেকট্রনিকস পণ্য আজ আমাদের জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। তবে এর সঙ্গে যুক্ত ই-বর্জ্যও পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক। এ জন্য বাংলাদেশে এসব পুরনো ইলেকট্রনিকস পণ্য এবং ই-বর্জের নিষ্পত্তি বা পুনর্ব্যবহারের জন্য কোনো নির্দিষ্ট স্থান বা অবকাঠামো তৈরি করার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। সরকারকে ই-বর্জ্যের ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। সর্বোপরি সচেতনতাই বাংলাদেশে ই-বর্জ্যের ঝুঁকি কমাতে পারে।
বাংলাদেশে বাড়ছে ই-বর্জ্যের ঝুঁকি

প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে ইলেকট্রনিক জিনিসপত্রের চাহিদা প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি দিনও আমরা ইলেকট্রনিক জিনিসপত্রের ব্যবহার ছাড়া চলতে পারি না। অন্যদিকে ইলেকট্রনিক জিনিসপত্রের ব্যবহার যেমন বেড়েছে, তেমনিভাবে বেড়ে চলেছে ইলেকট্রনিক বর্জ্যও। বিভিন্ন ধরনের বৈদু্যতিক এবং ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম যা তাদের ব্যবহারকারীর কাছে মূল্যহীন হয়ে যায় বা তাদের মূল উদ্দেশ্যটি আর পূরণ করে না তখন তাকে ইলেকট্রনিক বর্জ্য বা ই-বর্জ্য বলা হয়ে থাকে। ইলেকট্রিক পণ্যগুলোর বাড়তি অংশ প্রতিস্থাপন বা ভাঙনের মাধ্যমে তাদের কার্যকারিতার মানটি শেষ হয়ে যায়, সেসব বর্জ্য পণ্যের রেফিজারেটর, ওয়াশিংমেশিন, মাইক্রোওভেন এবং ব্রাউন পণ্য যেমন টেলিভিশন, রেডিও, কম্পিউটার ও সেলফোন উলেস্নখযোগ্য। বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের মানুষ বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক পণ্য ব্যবহার করছে। অফিস আদালত, কলকারখানা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাসা-বাড়িতে, দোকানপাট বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক পণ্য ব্যবহার করা হয়। এসব ইলেকট্রনিক পণ্যের মধ্যে রয়েছে টিভি, ফ্রিজ, রেফিজারেটর, ওয়াশিংমেশিন, মাইক্রোওয়েভ, ইলেকট্রিক ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনার, রাইস-কুকার, ওয়াটার-হিটার, ক্যারিকুকার, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, টেলিফোন, সেলফোন, স্ক্যানার, এনার্জি বাল্ব, সিটি স্ক্যান, ডায়ালাইসিস ইত্যাদি ব্যবহার করছে। মানুষ তাদের জীবনকে সহজতর করতে এসব ইলেকট্রনিকসামগ্রী ব্যবহার করছে। এগুলো নষ্ট হওয়ার পর যেখানে সেখানে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। এতে বাংলাদেশে প্রতিদিনই বাড়ছে ই-বর্জ্য। গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির ফলে গত ১০ বছরে বাংলাদেশে ইলেকট্রনিকস পণ্যের ব্যবহার যে পরিমাণে বেড়েছে, তা গত ৩০ বছরের চেয়ে বেশি। বেসরকারি সংস্থা এনভাইরনমেন্টাল অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অরগানাইজেশন (ইএসডিও)-এর মতে, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় চার লাখ টন ই-বর্জ্য উৎপাদিত হয়। ২০২৩ সালে এই বর্জ্যের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ১০ লাখ টন। বাংলাদেশের বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, দেশে প্রতি বছর ১০ মিলিয়ন টন ই-বর্জ্য তৈরি হচ্ছে। ২০৩০ সালে এই বর্জ্যের পরিমাণ আরো কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক্স মার্চেন্ডাইস ম্যানুফেকচার অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, বাংলাদেশে প্রতি বছর ৩২ কোটি টন ইলেকট্রনিক্স পণ্য সরবরাহ করা হয়। প্রতি বছর ৫০ হাজারের মতো কম্পিউটার আমদানি করা হয়। প্রবাসী শ্রমিকদের মাধ্যমে দেশে বিপুল পরিমাণ ইলেকট্রনিক্স পণ্য এ দেশে আনা হয়। এছাড়া চোরাই পথে বিপুল পরিমাণ পণ্য আনা হয়। বাংলাদেশে প্রায় ১৬ কোটির মতো মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করে। এগুলো নষ্ট হওয়ার পর ফেলে দেওয়া হয়। যা পরিণত হচ্ছে ই-বর্জ্যে। পরিত্যক্ত এসব বর্জ্য ঢাকার নিমতলী, ইসলামপুর, চকবাজার, বাবুবাজার, এলিফেন্ট রোড, ধোলাইখালে এবং চট্টগ্রামের সিডিএ মার্কেট, বক্সি মার্কেট, আইস ফ্যাক্টরি, কদমতলীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ফেলে রাখা হয়। এসব ই-বর্জ্যে প্রায় ৬০টির মতো বিভিন্ন ধরনের উপাদান থাকে। এর মধ্যে কিছু উপাদান মূল্যবান, কিছু ঝুঁকিপূণ আর কিছু উপাদান একই সঙ্গে মূল্যবান ও ঝুঁকিপূর্ণ। ই-বর্জ্যে থাকা এসব উপাদানগুলো হচ্ছে সিসা, ক্যাডমিয়াম, বেরিলিয়াম, তামা, অ্যালুমিনিয়াম, সোনা, রুপা, প্যালাডিয়াম, পস্নাটিনাম, নিকেল, টিন, লেড (দস্তা), লোহা, সালফার, ফসফরাস, আর্সেনিক, পলিভিনাইল ক্লোরাইড (পিভিসি), পলিক্লোরিনেটেড বাই ফিনাইল (পিসিবি) প্রভৃতি। এছাড়া ই-বর্জ্যে এক হাজারেরও বেশি বিভিন্ন ধরনের বিষাক্ত পদার্থ থাকে এবং নিত্যব্যবহার্য ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলো বেশি ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। টেলিভিশন ও কম্পিউটার মনিটরে থাকে সিসা, পারদ, কপার এবং মাদার বোর্ডে থাকে বেরিলিয়াম, সেলফোন, রেফ্রিজারেটর ও এসিতে ব্যবহৃত ক্ষতিকর পদার্থসমূহ। একটি সেল ফোনে প্রায় চলিস্নশটি উপাদান থাকতে পারে। এর মধ্যে ২৩ শতাংশ ধাতব পদার্থ- বাকি ৭৭ শতাংশ পস্নাস্টিক ও সিরামিক। একটি হ্যান্ডসেটে ২৫০ মিলিগ্রাম সিলভার, ২৪ মিলিগ্রাম স্বর্ণ, ৯ মিলিগ্রাম প্যালাডিয়াম এবং ৯ গ্রাম তামা থাকে। এছাড়া প্রতিটি মোবাইল ফোনের লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারিতে গড়ে ৩.৫ গ্রাম কোবাল্ট থাকে। এগুলো ছাড়াও সিসা, জিংক ও আর্সেনিকের মতো ক্ষতিকর উপাদান থাকে। তাই ব্যাটারিসহ ফোনসেট উন্মুক্ত ভূমিতে ফেললে তা মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। সেলফোনে ব্যবহৃত ব্যাটারি ছয় হাজার লিটার পর্যন্ত পানি দূষণ করতে পারে। ইলেকট্রনিক বর্জ্য যেসব ধাতব ও রাসায়নিক উপাদান ধারণ করে তার বেশির ভাগই মানব স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। লেড সাধারণত কিডনি, রক্ত চলাচল এবং শিশুদের মতিষ্কের বিকাশের ওপর বিরুপ প্রভাব ফেলে। ক্যাডিয়াম মানবস্বার্থের জন্য বিষাক্ত- যা কিডনি, লিভার ও স্নায়ুতে ক্ষতির কারণ। পারদ মস্তিষ্কের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি করে, শ্বাসকষ্ট এবং ত্বকের ব্যাধি সৃষ্টি করে। লিথিয়াম দুধে প্রবেশ করতে পারে এবং নার্সিং শিশুর জন্য ক্ষতি করতে পারে, ইনহেলেশন ফুসফুসের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। পেটের ব্যথা, বমি বমি ভাব,যকৃতের ক্ষতির কারণ হতে পারে তামা জাতীয় পদার্থ। পস্নাস্টিক বা পিভিসি পুড়ালে ডাই-অক্সিন উৎপাদিত হয় যা প্রজনন ও বিকাশজনিত সমস্যার কারণ হয়ে থাকে। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের রোগ সৃষ্টিতে এসব ধাতব রাসায়নিক উপাদান বিভিন্ন ভূমিকা রাখে। ৫০ হাজারের মতো শিশু-কিশোর বিভিন্ন মারাত্মক সমস্যায় ভুগতেছে। এছাড়াও এগুলো ভূপৃষ্ঠ ও ভূগভস্থ পানির উৎস দূষণের মাধ্যমে সুপেয় পানির প্রাপ্যতাকে কঠিন করে তোলে। এই উপাদানগুলোর প্রভাবে উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও বংশ বিস্তার বাধাপ্রাপ্ত হয়। খাদ্য শৃঙ্খল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সার্বিকভাবে পরিবেশ পরিবর্তনে এগুলো ভূমিকা রাখে। বর্তমানে বাংলাদেশে এসব ই-বর্জ্যগুলো আলাদাভাবে ব্যবস্থাপনা করা হয় না। অন্য সব বর্জ্যের সঙ্গে যেখানে সেখানে ফেলে দেওয়া হয়। অপরদিকে ই-বর্জ্য থেকে সাধারণত গন্ধ ছাড়ায় না বলে অনেক দিন রাস্তায় পরে থাকলেও ব্যবস্থাপনার জন্য কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায় না। বাংলাদেশে অধিকাংশ বর্জ্য ল্যান্ডফিলের মাধ্যমে জমিতে রাখা হয়। কিন্তু পড়ে থাকা বর্জ্য মাটিতে বিভিন্ন রকম ধাতব উপাদান ছেড়ে দেয়। এর মধ্যে কিছু বর্জ্য পুড়িয়ে ফেলা হয়। যার ফলে বায়ুদূষণ হয়ে থাকে। ই-বর্জ্যের ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই। সাধারণভাবে ই-বর্জ্যগুলো মাটিতে চাপা দিয়ে রাখা হয়। এতে ই-বর্জ্যে বিদ্যমান ক্ষতিকারক পদার্থসমূহ মাটিতে প্রবেশ করে- যা ভূ-গর্ভস্থ জলের সঙ্গে মিশে যায়। এছাড়া মাঝে মাঝে ই-বর্জ্যগুলো পুড়িয়ে ফেলা হয়। এটি খুব সুবিধাজনক প্রদ্ধতি কিন্তু এই বর্জ্যগুলো পোড়ানোর ফলে বিষাক্ত পদার্থসমূহ পরিবেশে মিশে যায়- যা পরিবেশের জন্য বিপজ্জনক। ই-বর্জ্যগুলো ব্যবস্থাপনার জন্য সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি হলো- এটি সঠিকভাবে পুনর্ব্যবহার করা। ই-বর্জ্যগুলোতে অনেক মূল্যবান উপাদান আছে এবং এগুলো যাতে পুনরায় ব্যবহার করা যায় সেই দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। ভেঙে ফেলা ও টুকরো টুকরো করা পণ্যগুলো পুনরায় ব্যবহার করা ও নিষ্কাশনের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করতে হবে। পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপাদান নতুন পণ্য তৈরি করতে ব্যবহার করা যায়। তাছাড়া ই-বর্জ্য সংশোধন করে কপার, নিকেল বা স্বর্ণেও মতো মূল্যবান ধাতু সংগ্রহ করা যেতে পারে। বাংলাদেশে ইতোমধ্যেই কয়েকটি রিসাইক্লিং ফ্যাক্টরি গড়ে উঠেছে, তবে তা ভালোভাবে কার্যকর নয়। বাংলাদেশে যেসব ই-বর্জ্য আছে সেগুলো পুনর্ব্যবহার যোগ্য। সামান্য একটু পরিবর্তনের মাধ্যমে মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, পিন্টারগুলো আবার ব্যবহার করা যেতে পারে। বাংলাদেশে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এখন ই-বর্জ্য থেকে বিভিন্ন উপাদান সংগ্রহ করে তা পুনর্ব্যবহার যোগ্য করছে। কেউ কেউ রপত্মানি করছে। এর মধ্যে একটি নারায়ণগঞ্জের ফতুলস্নার দেলপাড়ায় আজিজু রিসাইকিস্নং অ্যান্ড ই-ওয়েস্ট কোম্পানি। ২০১৩ সাল থেকে প্রতিষ্ঠাটি কম্পিউটার, টিভি, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিকস পণ্য পুনর্ব্যবহার করছে। প্রতিদিন তিন থেকে চার টন বর্জ্য পুনর্ব্যবহার করা হয় এই কারখানায়। তবে কিছু প্রতিষ্ঠান শুধু এই রিসাইক্লিংয়ের কাজ করছে। বড় পরিসরে এই উদ্যোগ নেওয়া না গেলে ঝুঁকির মাত্রা আরও বাড়বে। ই-বর্জ্যেও ঝুঁকির মাত্রা কমানোর জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে। প্রথমত, যন্ত্র ব্যবহারের সঠিক পদ্ধতি শেখা। এতে মোবাইল, ল্যাপটপ ও অন্যান্য যন্ত্র বেশি দিন ব্যবহার করা যাবে। গুরুত্ব দিতে হবে পুরনোসামগ্রী ব্যবহারের ওপর। পুরনো ই-বর্জ্য সংগ্রহ করে এগুলো আবার পুনরায় ব্যবহার করতে হবে। বাংলাদেশে ই-বর্জ্যের ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে ১০-১৫ বছর আগে। এর জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর একটি বিধিমালা করেছে। ১০ জুন বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন-১৯৯৫ এর অধীনে ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য (ই-বর্জ্য) ব্যবস্থাপনা শিরোনামের বিধিমালাটির গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এখন থেকে বৈদু্যতিক পণ্য থেকে তৈরি হওয়া বর্জ্য উপাদনকারী বা সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানকেই ফেরত নিতে হবে। নষ্ট হওয়া মুঠোফোন, ল্যাপটপসহ যে কোনো পণ্য প্রতিষ্ঠানকেই ফেরত দিলে ভোক্তারা বিনিময়ে টাকা পাবেন। এ বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো ই-বর্জ্য ১৮০ দিনের বেশি মজুত রাখা যাবে না। আমদানি করা যাবে না পুরনো বা ব্যবহৃত ইলেকটিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক পণ্য। বিধিমালার শর্ত লঙ্ঘন করলে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন-১৯৯৫ (সংশোধিত- ২০১০)-এর ১৫/১ ধারা অনুযায়ী সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদন্ড বা সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ড হতে পারে। দ্বিতীয়বার, এই অপরাধের ক্ষেত্রে দুই থেকে ১০ বছরের কারাদন্ড বা উভয় দন্ড হতে পারে। এ বিধিমালায় প্রস্তুতকারক, সংযোজনকারী ও বড় আমদানিকারকের ই-বর্জ্যের সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশের জনগণ প্রায় ই-বর্জ্যের ঝুঁকি সম্পর্কে অজ্ঞাত। অন্যান্য বর্জ্যের ন্যায় যে এটি নয়, বরং এটি একটি মূল্যবান সম্পদ সে সম্পর্কে তাদের অবগত করতে হবে। বাংলাদেশে ই-বর্জ্য বিষয়ক সচেতনতা একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। হাতে গোনা কয়েকজন গবেষক এ বিষয়ে স্বল্প পরিসরে গবেষণার মাধ্যমে বিষয়টি নীতি নির্ধারকের নজরে আনার চেষ্টা করছে। এজন্য সরকারের পাশাপাশি জনগণকেও ই-বর্জ্যের ঝুঁকি ও ঝুঁকির মাত্রা কমানোর জন্য কাজ করতে হবে। তাদের বর্জ্যগুলো যেখানে সেখানে না ফেলে এগুলো যাতে পুনরায় ব্যবহার করতে পারে সেই দিকে খেয়াল রাখতে হবে। সরকারকে ই-বর্জ্যের ক্ষতিকারক দিক সম্পর্কে প্রচারণা, সচেতনতা ও জনমত তৈরিতে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমগুলোকেও এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। ই-বর্জ্যের ঝুঁকি নিয়ে সেমিনার, প্রোগ্রাম ইত্যাদিও আয়োজন করতে হবে। ইলেকট্রনিকস পণ্য আজ আমাদের জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। তবে এর সঙ্গে যুক্ত ই-বর্জ্যও পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক। এ জন্য বাংলাদেশে এসব পুরনো ইলেকট্রনিকস পণ্য এবং ই-বর্জের নিষ্পত্তি বা পুনর্ব্যবহারের জন্য কোনো নির্দিষ্ট স্থান বা অবকাঠামো তৈরি করার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। সরকারকে ই-বর্জ্যের ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। সর্বোপরি সচেতনতাই বাংলাদেশে ই-বর্জ্যের ঝুঁকি কমাতে পারে। আলম মিয়া : কলাম লেখক

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে