করোনায় মৃতু্যর হার বাড়ছে

প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি
করোনায় মৃতু্যর হার বাড়ছে

করোনা পরিস্থিতিতে পুরো বিশ্বই বিপর্যস্ত। প্রায় প্রত্যেকটি খাতে যেমন নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, তেমনি মানুষের জীবনযাপনের স্বাভাবিকতাও বিঘ্নিত হয়েছে। প্রসঙ্গত বলা দরকার, দেশে করোনায় মৃতু্যর হার বাড়ছে যা অত্যন্ত উদ্বেগের। পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে জানা যাচ্ছে, দেশে গোটা জুলাইয়ে মৃতু্যর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। প্রায় প্রতিদিনই পুরনো রেকর্ড ভেঙে নতুন মৃতু্যর রেকর্ড তৈরি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের এটা আমলে নেওয়া দরকার, মৃতু্যর হার বৃদ্ধির জন্য চিকিৎসকরা রোগীদের অসচেতনতাকেই প্রধানভাবে দায়ী করছেন। আবার জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এজন্য চিকিৎসা ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনাকেই দুষছেন। এছাড়া দেশে ছড়িয়ে পড়া ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের ভয়াবহতা সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করে তুলতে না পারা, হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় চরম সমন্বয়হীনতা, প্রান্তিক পর্যায়ে চিকিৎসার সামর্থ্য বাড়াতে না পারা, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ উপেক্ষা এবং সময় উপযোগী ট্রিটমেন্ট প্রোটোকল তৈরি না করার ব্যর্থতা মৃতু্যর হার বৃদ্ধির কারণ বলেও মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

আমরা বলতে চাই, মৃতু্যর হার বাড়ার যেসব কারণ উঠে আসছে, তা আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্টদের কর্তব্য হওয়া দরকার- প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখা। কঠোর লকডাউনের মধ্যেও দেশে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে মৃতু্য বাড়লে তা কতটা ভয়ানক সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। উলেস্নখ্য, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে জুলাই মাসের প্রথম দুই সপ্তাহ দেশে সর্বাত্মক বিধিনিষেধ পালন করা হয়। এ সময় সব ধরনের অফিসের পাশাপাশি গণপরিবহণ চলাচলও বন্ধ রাখা হয়। ২১ জুলাই ঈদুল আজহা উপলক্ষে এই বিধিনিষেধ ৮ দিনের জন্য শিথিল থাকার পর আবার দুই সপ্তাহের লকডাউন শুরু হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের আমলে নেওয়া দরকার, ঈদের ছুটিতে লাখ লাখ মানুষের শহর থেকে গ্রামে যাওয়া এবং তাদের ফিরে আসায় সংক্রমণ বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছিলেন বিশেষজ্ঞরা। করোনা নিয়ন্ত্রণে গঠিত জাতীয় কারিগরি কমিটি ঈদ ঘিরে বিধিনিষেধ শিথিলের সরকারি সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগও জানিয়েছিল। সঙ্গত কারণেই, করোনাসংক্রান্ত সার্বিক পরিস্থিতি আমলে নিতে হবে এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

বর্তমানে করোনা সংক্রমণের যে ঊর্ধ্বগতি, তাতে দেশের নাজুক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়তে পারে এবং এতে মৃতু্যর মিছিল আরও দীর্ঘ হবে এমন আশঙ্কাও উঠে এসেছে। ফলে এই বিষয়টিকে সামনে রেখেও সর্বাত্মক পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে। এটা এড়ানো যাবে না, করোনা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু অসচেতনতার কারণে রোগীরা দেরিতে হাসপাতালে আসছে তা নয়। অনেক সচেতন রোগী উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর থেকেই চিকিৎসা সেবার আওতায় আসার চেষ্টা করে ব্যর্থ হচ্ছে- এ নজিরও অসংখ্য। তাদের ভাষ্য, মহামারির এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো অনেক জেলা হাসপাতালে আইসিইউ দেওয়া যায়নি, সেবাও নিশ্চিত করা যায়নি। এমন অনেক ধরনের অভিযোগ আসছে। এটা ভুলে যাওয়া যাবে না, করোনা মোকাবিলার ক্ষেত্রে যেমন জনসচেতনতা জরুরি, তেমনি চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার দিকে অধিক মনোযোগী হতে হবে। হাসপাতালগুলো শয্যা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সংকুলান দিতে না পারলে পরিস্থিতি আরও ভয়ানক হতে পারে এমন আশঙ্কা আছে। ফলে দ্রম্নত করণীয় নির্ধারণ সাপেক্ষে তার যথাযথ বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে।

সর্বোপরি আমরা বলতে চাই, করোনা মোকাবিলার ক্ষেত্রে সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ করার বিকল্প নেই। এমন বিষয়ও আলোচনায় এসেছে, লকডাউন সংক্রমণের গতি কিছুটা রোধ করতে পারলেও তা নিয়ন্ত্রণের জন্য স্বাস্থ্যবিধি মানা ও ভ্যাকসিনেশন জরুরি। তা না হলে মৃতু্যর হার কমিয়ে আনা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। সঙ্গত কারণেই এই বিষয়গুলো আমলে নিয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ অপরিহার্য। এমন বিষয়ও খবরে উঠে এসেছে, বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে ঠুনকো অজুহাতেও মানুষ বাইরে বের হচ্ছে। মনে রাখা দরকার, কিছু দিন আগে, বিশ্বে করোনা মহামারির তৃতীয় ঢেউ শুরু হয়ে গেছে এবং বিশ্ববাসী এখন এর প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডবিস্নউএইচও)। আর বিশেষজ্ঞরা বারবার বলছেন, এখনো সময় আছে, সবার সতর্ক হতে হবে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি আমলে নিয়ে করোনা মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকুক এমনটি কাম্য।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে