দেশে মৃতু্য ২১ হাজার ছাড়াল

করোনা মোকাবিলায় সর্বাত্মক উদ্যোগ নিন
দেশে মৃতু্য ২১ হাজার ছাড়াল

করোনা পরিস্থিতিতে পুরো বিশ্বই বিপর্যস্ত। প্রায় প্রত্যেকটি খাতে যেমন নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, তেমনি মানুষের জীবনযাপনের স্বাভাবিকতাও বিঘ্নিত হয়েছে। প্রসঙ্গত বলা দরকর, দেশে করোনায় মৃতু্য উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে যা এড়ানোর সুযোগ নেই। পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে এমনটিও জানা যায়, দেশে গোটা জুলাইয়ে মৃতু্যর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। প্রায় প্রতিদিনই পুরনো রেকর্ড ভেঙে নতুন মৃতু্যর রেকর্ড তৈরি হয়েছে। উলেস্নখ্য, গত সোমবার বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনাভাইরাস বিষয়ক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির তথ্যে জানা যায়, ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ২৪৬ জনের মৃতু্য হয়। এ ক্ষেত্রে বলা দরকার, মাত্র পাঁচদিনের ব্যবধানে এক হাজার মানুষের প্রাণ ঝরে যাওয়ায় ভাইরাসটিতে মৃতের সংখ্যা ২১ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এছাড়া দেশে করোনা শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১২ লাখ ৮০ হাজার পার হয়েছে। সঙ্গত কারণেই সার্বিক পরিস্থিতি আমলে নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ অব্যাহত রাখতে হবে।

বলার অপেক্ষা রাখে না, এর আগে মৃতু্যর হার বৃদ্ধির জন্য চিকিৎসকরা রোগীদের অসচেতনতাকেই প্রধানভাবে দায়ী করেছেন। আবার জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এজন্য চিকিৎসা ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনাকেও দুষেছেন। এছাড়া দেশে ছড়িয়ে পড়া ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের ভয়াবহতা সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করে তুলতে না পারা, হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় চরম সমন্বয়হীনতাসহ বিভিন্ন ধরনের বিষয় মৃতু্যর হার বৃদ্ধির কারণ বলেও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছিলেন। আমরা মনে করি, করোনায় মৃতু্য সংখ্যা বাড়ার যেসব কারণ উঠে আসছে, তা আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্টদের কর্তব্য হওয়া দরকার- প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখা। এটাও আমলে নেওয়া জরুরি, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে জুলাই মাসের প্রথম দুই সপ্তাহ দেশে সর্বাত্মক বিধিনিষেধ পালন করা হয়। এ সময় সব ধরনের অফিসের পাশাপাশি গণপরিবহণ চলাচলও বন্ধ রাখা হয়। ২১ জুলাই ঈদুল আজহা উপলক্ষে এই বিধিনিষেধ ৮ দিনের জন্য শিথিল থাকার পর আবার লকডাউনের বিষয়টি সামনে আসে। কিন্তু বলা দরকার, ঈদের ছুটিতে লাখ লাখ মানুষের শহর থেকে গ্রামে যাওয়া এবং তাদের ফিরে আসায় সংক্রমণ বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছিলেন বিশেষজ্ঞরা।

আমরা বলতে চাই, করোনা সংক্রমণের যে পরিস্থিতি, তাতে দেশের নাজুক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়তে পারে এবং এতে মৃতু্যর মিছিল আরও দীর্ঘ হবে এমন আশঙ্কাও উঠে এসেছিল। ফলে এই বিষয়টিকে সামনে রেখেও সর্বাত্মক পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া এটা এড়ানো যাবে না, করোনা পরিস্থিতিতে উদাসীনতা, মাস্ক ব্যবহার না করা, স্বাস্থ্যবিধি না মানার মতো অভিযোগ সামনে এসেছে। কঠোর বা সর্বাত্মক লকডাউনে অফিস-আদালতসহ প্রায় সব ধরনের কর্মপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকা সত্ত্বেও নানা অসিলায় মানুষ ঘর থেকে বের হয়েছে বলেও খবরে উঠে এসেছিল। ফলে এই ধরনের ঘটনার মধ্যদিয়ে সচেতনতার অভাব পরিলক্ষিত হয়; যা করোনা মোকাবিলার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক। এটাও ভুলে যাওয়া যাবে না, স্বাস্থ্যবিধি না মেনে যদি কাঁচাবাজারে গাদাগাদি করে দীর্ঘসময় ধরে কেনাকাটা করা কিংবা জরুরি কাজের মিথ্যে অজুহাতে ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটর সাইকেল কিংবা রিকশায় চড়ে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যাওয়ার মতো ঘটনাও আলোচনায় এসেছে, যার ফলে ঝুঁকি বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকে।

সর্বোপরি আমরা বলতে চাই, করোনা মোকাবিলার ক্ষেত্রে সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ করার বিকল্প নেই। এমন বিষয়ও আলোচনায় এসেছে, লকডাউন সংক্রমণের গতি কিছুটা রোধ করতে পারলেও তা নিয়ন্ত্রণের জন্য স্বাস্থ্যবিধি মানা ও ভ্যাকসিনেশন জরুরি। তা না হলে মৃতু্যর হার কমিয়ে আনা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। সঙ্গত কারণেই এই বিষয়গুলো আমলে নিয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ অপরিহার্য। এমন বিষয়ও খবরে উঠে এসেছিল, বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে ঠুনকো অজুহাতেও মানুষ বাইরে বের হয়েছে। মনে রাখা দরকার, কিছু দিন আগে, বিশ্বে করোনা মহামারির তৃতীয় ঢেউ শুরু হয়ে গেছে এবং বিশ্ববাসী এখন এর প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডবিস্নউএইচও)। আর বিশেষজ্ঞরা বারবার বলছেন, এখনো সময় আছে, সবার সতর্ক হতে হবে। ফলে সামগ্রিক পরিস্থিতি আমলে নিয়ে করোনা মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকুক এমনটি কাম্য।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে