স্কুল শিক্ষার্থীদের টিকা

উদ্যোগ সফল হোক
স্কুল শিক্ষার্থীদের টিকা

করোনা পরিস্থিতিতে বিপর্যস্ত হয়েছে বিশ্ব। প্রায় প্রত্যেকটি খাতে নেতিবাচক প্রভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। দেশেও করোনার সংক্রমণ ও মৃতু্য থেমে নেই। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে করোনার সংক্রমণ ও মৃতু্যর সংখ্যা কমে এসেছে, তবু এটা ঠিক যে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা যেমন জরুরি, তেমনি টিকা কর্মসূচিও সফল করতে হবে। প্রসঙ্গত বলা দরকার, নানা আলোচনার পর অবশেষে স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা করোনাভাইরাসের টিকার আওতায় এসেছে। জানা গেছে, বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে মানিকগঞ্জের চারটি স্কুলের শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়ার মধ্য দিয়ে শিশুদের করোনা টিকা প্রদান করা শুরু হয়েছে দেশে। গত বৃহস্পতিবার ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সি মাধ্যমিক স্কুল শিক্ষার্থীদের টিকাদান কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী। আর এর মধ্য দিয়ে ১২-১৭ বছর বয়সি শিক্ষার্থীদের টিকা প্রদানের যুগে প্রবেশ করল বাংলাদেশ যা অত্যন্ত ইতিবাচক। পরীক্ষামূলকভাবে মানিকগঞ্জের চারটি স্কুলের মোট ১২০ জন শিক্ষার্থীকে টিকা দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষামূলকভাবে এই টিকা কর্মসূচি শুরু করা হয়। পর্যায়ক্রমে সারা দেশের ২১টি জায়গায় শুরু হবে এবং ঢাকায় খুব শিগগিরই বড় একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে টিকা কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। মূলত করোনাভাইরাস থেকে শিশুদের নিরাপদ রাখতেই টিকার কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।

আমরা বলতে চাই, এর আগে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কমে আসায়, স্কুল-কলেজ খোলার বিষয়টি সামনে আসে। ফলে সর্বোচ্চ সতর্কতার প্রশ্নে শিক্ষার্থীদের টিকার কোনো বিকল্প থাকতে পারে না। এর আগে করোনার উপসর্গ নিয়ে শিক্ষার্থীর মৃতু্যকে কেন্দ্র করে স্কুলের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। আমরা মনে করি, সামগ্রিক পরিস্থিতি আমলে নিতে হবে। শিক্ষার্থীদের সতর্কতায় অভিভাবক এবং শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। সংক্রমণ যেন বৃদ্ধি না পায়, সেই দিকটি সামনে রেখে টিকা কর্মসূচি সফল করার পাশাপাশি সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিতে হবে। কেননা, করোনা সংক্রমণ কমে আসলেও তা যেন ভয়াবহ হয়ে আবার না ছড়ায় সেটিকে সামনে রেখেও সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণের বিকল্প নেই। প্রসঙ্গত বলা দরকার, শিক্ষার্থী ছাড়াও, সবাই স্বাস্থ্যবিধি যেন মেনে চলে সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। এটা উলেস্নখ করা দরকার, সাম্প্রতিক সময়ে এমন বিষয়ও জানা গেছে যে, বেশিরভাগ মানুষই স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা করছে না। এছাড়া সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মানার বাধ্যবাধকতা বহাল থাকলেও এর কোনো কার্যক্রম নেই। ধীরে ধীরে করোনা সংক্রমণ ও মৃতু্যর পরিমাণ কমে যাওয়ায় মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার সামান্যতম গরজ যেমন দেখা যাচ্ছে না, তেমনি সরকারি মনিটরিং বা তদারকি উধাও হয়ে গেছে এমন বিষয়ও আলোচনায় এসেছিল।

আমরা মনে করি, জনসাধারণের মধ্যে যেমন সচেতনতা বাড়াতে হবে, তেমনিভাবে শিক্ষার্থীরা যেন সচেতন হয় এবং যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে যেন পাঠদান করা হয় সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। মনে রাখতে হবে, করোনা সংক্রমণ ও মৃতু্য কমে এলেও অসচেতনতার কারণে ঝুঁকি ফের বেড়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। সঙ্গত কারণেই সার্বিক পরিস্থিতি আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।

সর্বোপরি বলতে চাই, যখন জানা যাচ্ছে, ১২ থেকে ১৭ বছরের ১ কো?টি শিশুকে ফাইজারের টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার- তখন এই উদ্যোগের যথাযথ বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে সামগ্রিকভাবে করোনা পরিস্থিতি আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ অব্যাহত রাখতে হবে। এছাড়া আমলে নেওয়া দরকার, করোনা প্রতিরোধে টিকার বিষয়টি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা বা করোনা প্রতিরোধে সচেতনতার বিষয়টিও এড়ানোর সুযোগ নেই। বিশেষজ্ঞরা বারবার বলছেন, এখনো সময় আছে, সবার সতর্ক হতে হবে। করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে মাস্ক পরা, নিয়মিত হাত ধোয়া এবং সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতেই হবে এমন বিষয়ও আলোচনায় এসেছে। ফলে এই দিকগুলো আমলে নিয়ে শিক্ষার্থীদের সচেতনতায় ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে। টিকা কর্মসূচি সফল করতে হবে। সামগ্রিকভাবে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ ও যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত হোক- এমনটি আমাদের প্রত্যাশা।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে