৬ ছাত্র হত্যা মামলার রায়

এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ হোক
৬ ছাত্র হত্যা মামলার রায়

সন্দেহ কিংবা অনুমানের ভিত্তিতে কাউকে হত্যার ঘটনা কাম্য হতে পারে না। বলা দরকার, ১০ বছর আগে রাজধানীর অদূরে সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশী গ্রামে ডাকাত সন্দেহে ছয় ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছিল। পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা যাচ্ছে, এই মামলায় ১৩ জনকে মৃতু্যদন্ড এবং ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। খালাস পেয়েছেন ২৫ জন। ঢাকা জেলার দ্বিতীয় অতিরিক্ত দায়রা জজ ইসমত জাহান বৃহস্পতিবার এ রায় ঘোষণা করেন। আমরা মনে করি, গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনার ভয়াবহতা অনুধাবন করতে হবে এবং এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সচেতনতা বৃদ্ধিসহ সার্বিক কার্যক্রম জারি রাখতে হবে।

বলা দরকার, বিভিন্ন সময়েই হত্যাকান্ডের ঘটনা সামনে আসে। আর গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনা কতটা ভয়ঙ্কর এবং আশঙ্কাজনক তা আমলে নেওয়া জরুরি। কেননা এই ধরনের ঘটনায় যেমন নিরীহ নিরপরাধ মানুষ শিকার হয়। তেমনি অনেক সময় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেও টার্গেট করা হয়। আর গণপিটুনিতে হত্যাকান্ডের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বলতে চাই, আইন হাতে তুলে নেওয়াও অপরাধ। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা বন্ধ করতে না পারলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে এমন আশঙ্কা অমূলক নয়। সঙ্গত কারণেই এই বিষয়গুলো এড়ানো যাবে না।

উলেস্নখ্য, ছয় ছাত্র হত্যা মামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জানা যায়, গত ২২ নভেম্বর আসামিপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুনানি শেষে আদালত রায় ঘোষণার জন্য ২ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছিলেন। একই সঙ্গে ৪১ আসামির জামিন বাতিলের আদেশ দেন। মামলায় ৯২ সাক্ষীর মধ্যে ৫৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে এ রায় দেওয়া হলো। জানা গেছে, মামলার মোট আসামি ৬০ জনের মধ্যে ইতোমধ্যে তিনজন মারা গেছেন। অবশিষ্ট ৫৭ জনের মধ্যে ৪৫ জন ছিলেন হাজতে এবং পলাতক রয়েছেন ১২ জন। রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আনন্দ চন্দ্র বিশ্বাস রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, এ আলোচিত হত্যা মামলাটির রায় দীর্ঘদিন পর ঘোষণা হলো। রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে প্রত্যাশা করা হয়েছিল আসামিদের যেন সর্বোচ্চ শাস্তি হয়- এমনটি জানিয়ে রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। আর ছয় ছাত্র হত্যা মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভিকটিমদের পরিবার। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী শিউলি আক্তার রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, এ রায়ে তারা অসন্তুষ্ট। ন্যায়বিচার পাননি। রায়ের কপি হাতে পেলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের ১৭ জুলাই শবেবরাতের রাতে আমিনবাজারের বড়দেশী গ্রামের কেবলাচরে ঘুরতে যান ৭ বন্ধু। ডাকাত সন্দেহে তাদের মধ্যে ছয়জনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর ডাকাতির অভিযোগে আহত আল-আমিনসহ নিহতদের বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় ডাকাতির মামলা করেন স্থানীয় বালু ব্যবসায়ী আবদুল মালেক। আর পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা গ্রামবাসীকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করে। ২০১৩ সালের ৭ জানুয়ারি তদন্ত শেষের্ যাবের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরীফ উদ্দিন আহমেদ ৬০ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এরপর একই বছরের ৮ জুলাই আদালত ৬০ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের মাধ্যমে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু করেন।

আমরা বলতে চাই, শুধু এই ঘটনা নয়- বিভিন্ন সময়ে নানারকম সন্দেহের জেরে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ফলে এটা ভুলে যাওয়া যাবে না, গণপিটুনিতে হত্যা ফৌজদারি অপরাধ। তাই এরকম ঘটনা রোধে সর্বাত্মক উদ্যোগ নিতে হবে। গুজব বা সন্দেহসহ বিভিন্ন কারণ কিংবা অনুমানের ওপর ভিত্তি করে হত্যা করা হবে এটা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। কারও গতিবিধি সন্দেহজনক হলে অথবা কেউ যদি অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকে তাহলে জনসাধারণের কাজ হচ্ছে তাকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে সোপর্দ করা।

সর্বোপরি বলতে চাই, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। গণপিটুনির মতো ভয়ঙ্কর ঘটনা রোধে সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগী হতে হবে। সচেতনতা বাড়াতে হবে। এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সামগ্রিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকুক এমনটি কাম্য।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

সকল ফিচার

ক্যাম্পাস
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
হাট্টি মা টিম টিম
কৃষি ও সম্ভাবনা
রঙ বেরঙ

Copyright JaiJaiDin ©2022

Design and developed by Orangebd


উপরে