বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

বৈধ পথে প্রবাসী আয় বাড়ছে উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে

নতুনধারা
  ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০০:০০
বাংলাদেশ জনসংখ্যাবহুল দেশ। আর এই জনশক্তিকে জনসম্পদে রূপান্তর করা দেশের সার্বিক অগ্রগতির প্রশ্নেই জরুরি। এ প্রসঙ্গে বলা দরকার, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের মানুষ সুনামের সঙ্গে কাজ করছে। এর ফলে দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে প্রবাসী আয়। যখন করোনা পরিস্থিতিতে সারা বিশ্ব দিশেহারা, দেশেও করোনার সংক্রমণ ও সংক্রমণে মৃতু্য বাড়ছিল, সেই পরিস্থিতিতেও প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত ছিল। একের পর এক রেকর্ড হয়েছে- যা আশাব্যঞ্জক। সম্প্রতি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা গেল, এবারে বাংলাদেশ ব্যাংক ডলারের বাজার মূল্য যৌক্তিক করার কারণে বৈধ পথে অর্থাৎ ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স বাড়ছে। আমরা মনে করি, এই বিষয়টি অত্যন্ত ইতিবাচক। তথ্য মতে, জুলাই-আগস্টে প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধি ছিল ১২.২৯ শতাংশ। এ ক্ষেত্রে এটা আমলে নেওয়া জরুরি, সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ডলারের যুগোপযোগী দর সমন্বয়ের কারণে প্রবাসীরা হুন্ডি বা অবৈধ পথ পরিহার করছে। উলেস্নখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যমতে, জুলাই-আগস্ট সময়ে রেমিট্যান্স এসেছে ৪১৩ কোটি ৪১ লাখ ২০ হাজার ডলার। অর্থাৎ এই সময়ে ১২.২৯ শতাংশ রেমিট্যান্স বেড়েছে। চলতি বছরের আগস্ট মাসে এসেছে ২০৩ কোটি ৭৮ লাখ ডলার। এই সময়ে ১২.৫৮ প্রবৃদ্ধি শতাংশ। আমরা বলতে চাই, রেমিট্যান্স বৃদ্ধির অর্থই হলো তাতে দেশের অর্থনীতি আরও অগ্রসর হওয়া। আর যখন বৈধ পথে প্রবাসী আয় বাড়ছে তখন তা আশাপ্রদ বাস্তবতাকে স্পষ্ট করে। আমলে নেওয়া দরকার, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডলারের দর প্রচলিত বাজার দর থেকে অন্তত ১০ টাকার পার্থক্য ছিল বলেও জানা যায়। ফলে প্রণোদনা দিয়েও রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ছিল না এমনটি খবরে উঠে এসেছে। আর সর্বশেষ জুন মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে ডলারের দাম ৯০ টাকায় ওঠে। এর আগে মে মাসেও ডলারের দাম ৮৬ টাকা ছিল। এরপর থেকে পর্যায়ক্রমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক খুবই ধীরগতিতে ডলারের দাম সমন্বয় করে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯৫ টাকা বাড়ায়। জানা যায়, সবশেষ ১৩ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় ব্যাংক টাকার বিপরীতে ডলারের দাম ১০ টাকা ১৫ পয়সা বাড়ায়, এর আগের দিন এটি ছিল ৯৬ টাকা। আমরা বলতে চাই, এটা মনে রাখা দরকার- বাংলাদেশের অর্থনীতি যে কয়টি ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, তার মধ্যে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় উলেস্নখযোগ্য। ফলে এই খাতের অগ্রগতি অব্যাহত রাখতে করণীয় নির্ধারণ ও তার যথাযথ বাস্তবায়নেও সংশ্লিষ্টদের কাজ করতে হবে। করোনা মহামারিকালে প্রবাসী আয়ে ধস নামার আশঙ্কা ছিল অনেকেরই। কিন্তু সব জল্পনা-কল্পনা উড়িয়ে দিয়ে অগ্রগতির ধারা অব্যাহত ছিল। এরও আগে জানা গিয়েছিল, করোনা মহামারির কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রবাসী আয় অর্জন কমলেও বাংলাদেশে প্রবাসী আয় বেড়েছিল। এখন যখন এমনটিও বলছেন অর্থনীতিবিদরা- রেমিট্যান্সকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ায় আগামী মাসগুলোতে বৈধ পথে রেমিট্যান্স আসার পরিমাণ আরও বাড়বে- তখন তা অত্যন্ত সুখকর। অর্থনীতিবিদদের মত হলো, রেমিট্যান্সের ডলার নগদায়নে সর্বোচ্চ দর নির্ধারণ করে প্রবাসীদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেছেন, এটি একটি ইতিবাচক দিক। এছাড়া লক্ষণীয়, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স প্রবাহে ২০২০-২১ অর্থবছরের মতো ইতিবাচক চিত্র দেখা যাচ্ছে। আগস্টের প্রথম ১০ দিনেই ৮১ কোটি ৩০ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা গত বছরের আগস্টের একই সময়ের চেয়ে ২০ দশমিক ৪০ শতাংশ বেশি ছিল। সঙ্গত কারণেই সামগ্রিক পরিস্থিতি আশাব্যঞ্জক। এটাও আলোচনায় এসেছে, প্রবাসীদের বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর ব্যাপারে আরও উৎসাহিত করতে হবে। কিছু কিছু কাজ হচ্ছে যেমন রেমিট্যান্স কার্ড প্রদান। আরও পরিকল্পনা করতে হবে প্রবাসীদের আকৃষ্ট করতে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি আমলে নিয়ে কার্যকর উদ্যোগ অব্যাহত রাখা জরুরি। সর্বোপরি আমরা বলতে চাই, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক। আর যখন বৈধ পথে রেমিট্যান্স বাড়ছে তখন তা সুখকর। প্রবাসী আয়ের বিষয়টিকে সামনে রেখে কার্যকর উদ্যোগ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি নতুন নতুন শ্রমবাজার খুঁজে বের করা এবং দক্ষ জনশক্তি নিশ্চিত করাও আবশ্যক। আর সেই লক্ষ্যে বাড়াতে হবে প্রশিক্ষণের পরিধিও।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে