শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

গ্রিড বিপর্যয়

কার্যকর উদ্যোগ জরুরি
নতুনধারা
  ০৬ অক্টোবর ২০২২, ০০:০০
জাতীয় গ্রিডের পূর্বাঞ্চলে মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে হঠাৎ বিপর্যয় দেখা দেয়, আর তাতে দেশের অর্ধেক এলাকা বিদু্যৎহীন হয়ে পড়ে। এ প্রসঙ্গে বলার অপেক্ষা রাখে না, এক বিপর্যস্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল বিদু্যৎহীন অবস্থার কারণে। প্রসঙ্গত, গত তিন মাস ধরেই দেশে লোডশেডিং একটি স্বাভাবিক চিত্র হয়ে দাঁড়ায়। আর এমন পরিস্থিতিতে হঠাৎই পূর্বাঞ্চলীয় গ্রিড ফেল করায় দেশের একটি বড় অংশ বিদু্যৎহীন হয়ে পড়ে এবং এর ফলে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, তখন তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক পরিস্থিতিকেই স্পষ্ট করে। জানা গেছে, রাজধানী ঢাকার কিছু অংশ, নারায়ণগঞ্জ, কুমিলস্না, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, রাজবাড়ী, টাঙ্গাইল সিলেট ও ময়মনসিংহ অঞ্চল একযোগে দীর্ঘ সময় বিদু্যৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে। ঘটনার ৪ ঘণ্টা পর টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, জামালপুর, মানিকগঞ্জে বিদু্যৎ সরবরাহ সচল হওয়ার খবর আসে। এরপর আস্তে আস্তে অন্যান্য এলাকায়ও বিদু্যৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হতে থাকে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের আমলে নেওয়া জরুরি, ঘটনার পর পরই বিভিন্ন সেবা কার্যক্রমে দেখা দেয় গোলযোগ। বিশেষ করে ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হয় হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম। ভোগান্তিতে পড়েন মোবাইল-ইন্টারনেট গ্রাহকরা। বেড়ে যায় কলড্রপ। ইন্টারনেটের গতি কমে যায়। দুর্ভোগ দেখা দেয় সিএনজি স্টেশনগুলোতে। এছাড়া উৎপাদন ব্যাহত হয় পোশাক কারখানায়। একই সঙ্গে প্রভাব পড়ে বিমানবন্দর, বিচারকাজ ও অনলাইন ব্যাংকিং সেবাসহ বিভিন্ন কাজে। অন্যদিকে, রাজধানীর সব পূজামন্ডপের জন্য বাড়তি সতর্কতা জারি করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এছাড়া এ ঘটনা খতিয়ে দেখতে বিদু্যৎ বিভাগকে দুটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন বিদু্যৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী। আমরা বলতে চাই, হঠাৎ করে এমন পরিস্থিতিতে ব্যাপক ছন্দপতন ঘটে এবং নানা ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হয়- যা আমলে নেওয়ার বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে এটাও বিবেচ্য যে, দেশে জাতীয় গ্রিড বন্ধ হয়ে বিদু্যৎ বিপর্যয়ের ঘটনা এবারই যে প্রথম, তা নয়। বরং এর আগেও বিভিন্ন সময়ে এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। ১৯৯০ সাল থেকে অসংখ্যবার এমন ঘটনা ঘটেছে। তবে এ ক্ষেত্রে এটাও বলা দরকার, গত কয়েক বছরে তেমন গ্রিড বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হয়নি। জানা যায়, ২০১৪ সালের ১ নভেম্বর দেশে বিদু্যৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছিল। বেলা ১১টা ২৭ মিনিট সারাদেশ বিদু্যৎহীন হয়ে পড়ে। ১২ ঘণ্টা পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। তখন জানা গিয়েছিল যে, ভেড়ামারায় জাতীয় গ্রিডে বাংলাদেশ ও ভারতের বিদু্যৎ সঞ্চালন লাইনে সংযোগস্থলে ত্রম্নটি থেকেই বিভ্রাটের শুরু হয়। এরপর ২০১৭ সালের ৩ মে আকস্মিক গ্রিড বিপর্যয়ে উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমের ৩২টি জেলা কয়েক ঘণ্টা ধরে বিদু্যৎ বিচ্ছিন্ন ছিল। উলেস্নখ্য, পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের ডেপুটি ম্যানেজার এবিএম বদরুদ্দোজা খান বলেছেন, 'দুপুর ২টার দিকে যমুনা নদীর পূর্ব পাশ থেকে ঢাকার দিকে যে গ্রিড আছে তা ট্রিপ করে গেছে। গ্রিডের এই সমস্যার কারণে ঢাকার কিছু অংশ, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ অঞ্চলের গ্রাহকরা বিদু্যৎহীন অবস্থায় থাকে।' আমরা মনে করি, এই ধরনের ঘটনা যেহেতু এর আগেও ঘটেছে- ফলে সার্বিক পরিস্থিতি আমলে নিতে হবে সংশ্লিষ্টদেরই। একইসঙ্গে এবারের ঘটনায় যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে- সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সতর্কও থাকতে হবে। সর্বোপরি বলতে চাই, শুধু বাংলাদেশ নয়, উন্নত দেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেই গ্রিড বির্যয়ের ঘটনা ঘটে। অর্থাৎ বিদু্যৎ গ্রিডে ত্রম্নটি দেখা দিতেই পারে, কিন্তু সে রকম কিছু হলে- দ্রম্নত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা কিংবা সর্বব্যাপী বিপর্যয় যেন না ঘটে সেই লক্ষ্যে প্রস্তুত থাকতে হবে। গ্রিড বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধান এবং সেই মোতাবেক কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে। সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে সংশ্লিষ্টদের কর্তব্য হওয়া দরকার, গ্রিড ব্যবস্থাপনার জন্য এবারের ঘটনা এবং এর আগের ঘটনাগুলোকে আমলে নিয়ে পরবর্তী সময়ে এ ধরনের পরিস্থিতি কীভাবে মোকাবিলা করা যায় সেই দিকটিকে সামনে রেখে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে