শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

কমেনি ভোজ্যতেলের দাম

সঠিক পদক্ষেপ নিন
নতুনধারা
  ০৬ অক্টোবর ২০২২, ০০:০০
বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ১৪ টাকা কমানোর ঘোষণা দেয় গত সোমবার। ৪ অক্টোবর গত মঙ্গলবার নতুন দাম কার্যকর হওয়ার কথা। অবাক ব্যাপার হচ্ছে, নতুন দামের কোনো প্রভাব নেই বাজারে। প্রতি লিটার তেল আগের দামেই, অর্থাৎ ১৯২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোথাও ১৭৮ টাকায় বিক্রি নেই। এর আগে অসাধু ব্যবসায়ীরা অধিক মুনাফার লক্ষ্যে তেলের মূল্যবৃদ্ধি করে জনগণের পকেট কেটেছে। আর এখন তেলের মূল্যহ্রাস পেলেও তা কার্যকর হচ্ছে না। আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দরপতন হওয়ার কারণে দাম কমানোর ঘোষণা এলেও দেশের অসৎ ব্যবসায়ীরা তা কার্যকর করছে না। বাজারে পণ্যের কোনো ঘাটতি না থাকলেও অসৎ ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে বাজারে পণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে। সরকারকে দ্রম্নত এসব অসৎ, মুনাফাখোর সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বিভিন্ন অজুহাতে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানোর বিষয়টি বহুল আলোচিত এবং বাজার সংস্কৃতিরই অংশ। যে পণ্যের দাম একবার বাড়ে, তা আর কখনোই আগের দামে ফিরে যায় না। মনে রাখতে হবে, এর চাপ পড়ছে খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর। সরু চালের পাশাপাশি মোটা চালের দামও বাড়ানো হয়েছে। এটা নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য অশুভ বার্তা। প্রথমে করোনা এবং পরে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে চালসহ নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে গেছে। ফলে দেশের সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। বর্তমানে স্বল্প আয়ের মানুষ এমনিতেই পরিবারের সব ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। দরিদ্র পরিবারের অনেকে ঋণ করে ব্যয় মেটাতে বাধ্য হচ্ছে। যদি তেল ও চালসহ নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যায়, তাহলে সীমিত ও দরিদ্র পরিবারে কী দুর্ভোগ সৃষ্টি হয় তা সহজেই অনুমান করা যায়। এ দুর্ভোগ দীর্ঘ সময় চললে এর অনিবার্য পরিণতি হিসেবে দরিদ্র পরিবারের সদস্যরা পুষ্টিহীনতায় ভোগে, অনেক পরিবারের শিশুদের শিক্ষা জীবনের অবসান ঘটে। কাজেই তেল-চালসহ নিত্যপণ্যের বাজারে যেন অস্থিরতা সৃষ্টি না হয় সেজন্য দ্রম্নত ব্যবস্থা নিতে হবে। আসলে পণ্যের সরবরাহ বা সংকটের সঙ্গে দাম বাড়ার কোনো সম্পর্ক নেই। এটা হচ্ছে অসৎ ব্যবসায়ীদের হীনমানসিকতা। অতীতেও আমরা লক্ষ্য করেছি, তারা একেক সময় একেক পণ্যের দাম বাড়িয়ে ক্রেতাদের পকেট কেটেছে। একইভাবে তারা চিনির দামও বাড়িয়েছিল। আর তেল ও চালের দাম তো নানা অজুহাতে কয়েক দফা বাড়ল। এটা তাদের ব্যবসায়িক অসুস্থ সংস্কৃতি। এটা হচ্ছে বাজার সিন্ডিকেটের কারসাজি। এই কারসাজির কারণেই তারা তেলের দাম কমাচ্ছে না। অথচ কোনো পণ্যের দাম বৃদ্ধির ঘোষণার আগেই তারা দাম বাড়িয়ে দেয়। এ ব্যাপারে সরকারের কার্যকর কঠোর উদ্যোগই কেবল পারে জনগণকে হয়রানি ও দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে