সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৩ মাঘ ১৪২৯
walton1

মানব পাচার

যথাযথ পদক্ষেপ নিন
নতুনধারা
  ২৫ জানুয়ারি ২০২৩, ০০:০০
নানা তৎপরতা সচেতনতা পদক্ষেপের পরও কোনোভাবেই বন্ধ করা যাচ্ছে না মানব পাচার। এটা এখন বড় ধরনের জাতীয় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় আর টাইফুনের আঘাতে লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচু্যত হওয়ার পর বাংলাদেশ এবং ফিলিপাইনে মানব পাচারের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। মঙ্গলবার জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক সংস্থার (ইউএনওডিসি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। মনে রাখতে হবে, মানব পাচারের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে জলবায়ুসংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের দুর্যোগ। আর এই বিষয়ে প্রমাণও পাওয়া যাচ্ছে, কারণ সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র ক্রমবর্ধমান বাস্তুচু্যত মানুষকে শোষণ করছে। মানব পাচারের ঘটনা বৃদ্ধির জন্য আরেকটি বড় কারণ ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধ। আফ্রিকার দেশ ঘানায় খরা এবং বন্যা, ক্যারিবীয় অঞ্চলে হ্যারিকেনের আঘাত ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিও অনেক মানুষকে স্থানান্তরিত হতে বাধ্য করেছে। সংস্থাটি বলেছে, 'জলবায়ু পরিবর্তন মানব পাচারের ঝুঁকি ক্রমবর্ধমান হারে বৃদ্ধি করছে।' গেস্নাবাল ট্রাফিকিং অন পারসন রিপোর্ট-২০২২ শীর্ষক প্রতিবেদনে জাতিসংঘের মাদকবিষয়ক এই সংস্থা বলেছে, মানব পাচারের ঘটনায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের পদ্ধতিগত বৈশ্বিক বিশ্লেষণের ঘাটতি থাকলেও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের স্থানীয় পর্যায়ের গবেষণায় মানব পাচারের মূল কারণ হিসেবে আবহাওয়াজনিত বিপর্যয়কে চিহ্নিত করা হয়েছে। ২০১৭ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত বিশ্বের ১৪১টি দেশের সংগৃহীত তথ্য-উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে মানব পাচার বিষয়ক এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে ইউএনওডিসি। প্রতিবেদন তৈরিতে বিভিন্ন দেশের আদালতের মানব পাচার সংক্রান্ত ৮০০টি মামলার বিশ্লেষণকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। কেবল ২০২১ সালেই জলবায়ুসংশ্লিষ্ট বিপর্যয়ের কারণে বিশ্বজুড়ে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচু্যত হয়েছেন ২ কোটি ৩৭ লাখ মানুষ। একই সময়ে আরও অসংখ্য মানুষ তাদের দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। এটা সত্য বিশ্বের সব অঞ্চল ক্রমবর্ধমান হারে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে আছে। এর ফলে লাখ লাখ মানুষ অভিবাসনের পথে শোষণের উচ্চ ঝুঁকির মুখোমুখি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের নানা ধরনের উদ্যোগ ও তৎপরতা সত্ত্বেও মানব পাচার কিছুতেই বন্ধ হচ্ছে না। সাগরপথে থাইল্যান্ড কিংবা মালয়েশিয়ায় মানব পাচার হচ্ছে। \হমানব পাচার বাংলাদেশের অন্যতম শিরঃপীড়ায় পরিণত হয়েছে। জল-স্থল-আকাশপথে প্রতিদিন মানব পাচার চলছে। মূলত জীবন ও জীবিকার কারণে, দেশে কর্মসংস্থানের অভাবে, দারিদ্র্যের পীড়নে মানুষ পাড়ি জমাচ্ছে বিদেশে। এসব মানুষের বেশির ভাগই প্রতারিত হচ্ছে, হচ্ছে সর্বস্বান্ত। জলবায়ুসংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের দুর্যোগের কারণেই মানব পাচার আগে তুলনায় বেড়েছে। আমরা মনে করি, মানব পাচার বন্ধ না হলে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ যে মানবতার পরিচিতি পেয়েছে সেই ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হবে। কাজেই কোস্টগার্ড, পুলিশ ও বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও নজরদারি বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনে সীমান্তের সক্ষমতা বাড়িয়ে, পাচার বন্ধ করতে হবে এবং এর কোনো বিকল্প নেই।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে