প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি

সর্বস্তরে চালু হয়নি বাংলা ভাষা

প্রকাশ | ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক
ফেব্রম্নয়ারি মাস এলে আমরা নতুন করে ভাষার চেতনায় উজ্জীবিত হই, কিন্তু এই বিষয়টাও বিবেচনায় নেয়া জরুরি যে, সারা বছর ধরে বাংলার চর্চা আসলে কতটা হয়। রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলার যে মর্যাদা তা কতটুকু প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সেটিও ভেবে দেখা দরকার। প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি পেয়েছে ২১ ফেব্রম্নয়ারি যা আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গৌরবের। কিন্তু ভাষা আন্দোলনের ৬৬ বছর পার হলেও সর্বস্তরে বাংলা ভাষা ব্যবহার নিশ্চিত হয়নি। বরং দিন দিন অবহেলা আর উপেক্ষার পাত্র হচ্ছে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি- এমন বিষয় যখন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে উঠে এসেছে তখন তা ইতিবাচক নয়। সঙ্গত কারণেই আমরা মনে করি, সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ সমীচীন। তথ্য মতে, স্বাধীনতা-পরবর্তীতে সর্বস্তরে বাংলার ব্যবহার নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। বিভিন্ন সরকারের আমলে আইনও প্রণয়ন করা হয়। কিন্তু আইনের প্রয়োগ না থাকা অথবা মাতৃভাষার প্রতি অবজ্ঞার কারণে দেশের বেশির ভাগ স্তরেই বাংলা বিমুখতা প্রকট আকার ধারণ করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সর্বস্তরে বাংলার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হাইকোর্ট থেকে রুলসহ দুটি আদেশ জারি করা হয়। কিন্তু এত কিছুর পরও সর্বস্তরে বাংলা ভাষা ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়নি এমনটি জানা গেছে। আর এভাবে চলতে থাকলে রাষ্ট্রভাষা বাংলা একদিন অস্তিত্ব সংকটে পড়বে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাই ভাষার সম্মান ও মর্যাদা অবিলম্বে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের যে পরামর্শ দিয়েছেন ভাষাবিদরা- তা আমলে নিয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টরা এগিয়ে আসবেন এমনটি কাম্য। বলা দরকার, এমন বিষয়ও উঠে এসেছে যে, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের যে দাবি ছিল তা আজও পূরণ হয়নি। শুধু কাগজে-কলমে রাষ্ট্রভাষা বাংলা। কিন্তু সর্বত্রই ইংরেজিসহ বিদেশি ভাষার দাপট। এ অবস্থা চলতে থাকলে নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি বিলিন হয়ে যেতে পারে এমন আশঙ্কার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। আমরা মনে করি, এই পরিস্থিতি কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। সঙ্গত কারণেই এর পরিপ্রেক্ষিতে করণীয় নির্ধারণ এবং তার সুষ্ঠু বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে। ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগ যাতে বৃথা না যায় সেদিকে দৃষ্টি রেখেই সর্বস্তরে বাংলার ব্যবহার চালু করতে হবে। ভাষাবিদরা বলছেন- প্রথমে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে হবে। যাতে অন্যরাও এতে উৎসাহিত হয়। শহীদ ভাষা সৈনিকদের উত্তরসূরি হিসেবে গোটা জাতির দায়িত্ব হচ্ছে মাতৃভাষাকে রক্ষা করা। এত বছর পরও সমাজ ও রাষ্ট্রের সব জায়গায় বাংলা ব্যবহার নিশ্চিত না হওয়ার পেছনে ক্ষমতায় থাকা সরকারগুলোর স্বদিচ্ছার অভাব ছিল বলেও মনে করছেন তারা। আমরা বলতে চাই, এই বিষয়গুলোকে আমলে নিয়ে সার্বিক পরিস্থিতি বিচার-বিশ্লেষণ করে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে সংশ্লিষ্টদেরই। সর্বোপরি, সর্বস্তরে বাংলা ভাষা এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি এটি দুঃখজনক। রাষ্ট্রীয় ও দাপ্তরিক অনেক কাজও হয় ইংরেজিতে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নাম থেকে শুরু করে সাইনবোর্ড পর্যন্ত সবকিছু ইংরেজিতে। আইনজ্ঞরা বলছেন, সর্বোচ্চ আদালতেও বাংলা ভাষার ব্যবহার সময়ের দাবি। তাদের মতে, বাংলা ভাষায় উচ্চ আদালতের রায় হলে বিচারপ্রার্থীদের জন্য অনেক সুবিধা হবে। যদিও জানা যাচ্ছে, এখন অনেক রায় বাংলায় হচ্ছে। সম্প্রতি নদী দখল নিয়ে হাইকোর্ট একটি ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন। আর এর পুরোটাই দেয়া হয়েছে বাংলায়, যা গণমাধ্যমও গুরুত্বসহকারে তুলে ধরেছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালু করতে সংশ্লিষ্টরা প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ ও তার সুষ্ঠু বাস্তবায়নে কাজ করবেন এমনটি আমাদের প্রত্যাশা।