গণতন্ত্র সূচকের পতন উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে

প্রকাশ | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক


বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্র সূচকের তালিকা প্রকাশ করেছে ‘ইকোনমিস্ট ইনটেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ)। প্রতিবেদনে ১৬৫টি স্বাধীন রাষ্ট্র ও দু’টি অঞ্চলের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের মান কমেছে। সেই তালিকার শীর্ষে রয়েছে যথাক্রমে নরওয়ে, নিউজিল্যান্ড ও আইসল্যান্ড। তালিকার একদম নিচে রয়েছে উত্তর কোরিয়া, মিয়ানমার ও আফগানিস্তান।
এই তালিকায় বিভিন্ন রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে ‘পূর্ণ গণতন্ত্র’, ‘ত্রæটিপূর্ণ গণতন্ত্র’, ‘মিশ্র শাসন ব্যবস্থা’, ‘স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থা’ ইত্যাদি বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। গণতন্ত্র সূচকে গতবারের তুলনায় দুই ধাপ পিছিয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বের ১৬৭টি দেশ ও অঞ্চলের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ৭৫তম। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে ভারত ও শ্রীলঙ্কা। সূচকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশ ভারতের অবস্থান ৪১তম। শ্রীলঙ্কার ৭০তম। অন্যদিকে, বাংলাদেশের পরে রয়েছে ভুটান (৮১তম), নেপাল (৯৮তম) ও পাকিস্তান (১১৮তম)। ভারতকে রাখা হয়েছে ‘ত্রæটিপূর্ণ গণতন্ত্র’ বিভাগে। যদিও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘অর্থনৈতিক বিকাশের সম্ভাবনার’ জন্য ভারতের গণতন্ত্র সূচকের সামান্য উন্নতি হয়েছে। পশ্চিম ইউরোপ ছাড়া গোটা বিশ্বেই গণতন্ত্র সূচকের পতন হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। গণতন্ত্র সূচকে পশ্চিম ইউরোপ উত্তর আমেরিকাকে  পেছনে ফেলে দিয়েছে। বলা হয়েছে, লাতিন আমেরিকা, ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ, উত্তর আফ্রিকা ও পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি সব থেকে উদ্বেগজনক। 
আমরা জানি, বাংলা গণতন্ত্র পরিভাষাটি ইংরেজি  ডেমোক্রেসি  থেকে এসেছে। এই ইংরেজি শব্দটি আবার এসেছে গ্রিক শব্দ  থেকেÑ যার অর্থ জনগণের শাসন। গণতন্ত্র বলতে কোনো রাষ্ট্রের এমন একটি শাসনব্যবস্থাকে  বোঝায়  যেখানে নীতিনির্ধারণ বা সরকারি প্রতিনিধি নির্বাচনের  ক্ষেত্রে প্রত্যেক নাগরিক বা সদস্যের সমান ভোটাধিকার থাকে। 
একুশ শতকে এসে গণতন্ত্রের অবনমনের সূচনা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে চালানো জরিপের জনমতে দেখা যাচ্ছে, আধা গণতান্ত্রিক অথবা একদলীয় শাসনের  দেশের মানুষের  চেয়ে গণতান্ত্রিক  দেশগুলোর জনগণ তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক হতাশাগ্রস্ত।  বেশিরভাগ  ক্ষেত্রে  সেই হতাশার ব্যবধান অনেক। নিজেদের সরকার সম্পর্কে তাদের আস্থার মাত্রার  ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রবণতা  দেখা যাচ্ছে। অর্থাৎ অগণতান্ত্রিক  দেশগুলোর  চেয়ে গণতান্ত্রিক  দেশগুলোর আস্থাশীলতার  স্কোর অনেক নিচুতে। নিজ দেশের নাগরিকদের আস্থা অর্জনের  ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের সরকার যত  স্কোর অর্জন করেছে, চীনের  স্কোর তাদের  চেয়ে ৫০ শতাংশ  বেশি।
মনে রাখতে হবে, সাধারণ মানুষের গণতন্ত্র হচ্ছে ভোট ও ভাতের অধিকার। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পাঁচ দশকে আমাদের অনেক অর্জন রয়েছে। কাক্সিক্ষত অর্থনৈতিক উন্নতি লাভে পুরোপুরি সফল না হলেও অর্জিত সাফল্য আশাব্যঞ্জক। মানবসম্পদ উন্নয়ন ও সামাজিক ক্ষেত্রে প্রভ‚ত উন্নতি সাধিত হয়েছে। আমরা চাই, সাধারণ মানুষের গণতন্ত্র। সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক নিশ্চয়তাসহ সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। গণতন্ত্র বিকাশের মাধ্যমে বাংলাদেশ এগিয়ে যাক সমহিমায় তার উজ্জ্বলতা নিয়ে।