স্কুলছাত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা

কার্যকর পদক্ষেপ নিন

প্রকাশ | ১০ জুন ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক
একের পর এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটছেই। এমন সব ঘটনা সামনে আসছে, তা যেন আদিম বর্বরতাকেও হার মানায়। অথচ এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা রোধ করতে না পারলে জীবনযাপনের স্বাভাবিকতাই প্রশ্নবিদ্ধ হবে- এমন আশঙ্কা অমূলক নয়। সম্প্রতি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা গেল যে, অশ্লীল ছবি তুলে বস্ন্যাকমেইলের পর অর্থ না পেয়ে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আর এই ঘটনাটি ঘটেছে রাজবাড়ী সদর উপজেলার পাঁচুরিয়া ইউনিয়ন এলাকায়। এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে ওই ছাত্রীর বাবা এক নারীসহ অজ্ঞাত আরও চারজনের বিরুদ্ধে রাজবাড়ী সদর থানায় মামলা করেছেন। আমরা বলতে চাই, বস্ন্যাকমেইল করা এবং অর্থ না পাওয়াকে কেন্দ্র করে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের আমলে নিতে হবে এবং সৃষ্ট পরিস্থিতি কতটা ভয়ানক হতে পারে সেটাকে সামনে রেখে যথাযথ পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে। প্রসঙ্গত বলা দরকার, মামলায় বাদী ও স্কুলছাত্রীর বাবা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন- গত ১২ এপ্রিল স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার সময় অজ্ঞাত কয়েকজন লোক তার মেয়েকে জোরপূর্বক রাস্তার পাশে জঙ্গলে নিয়ে ছোরার ভয় দেখিয়ে অশ্লীল ছবি ধারণ করে। সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে জনৈক শিল্পী বেগম তার মেয়ের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এ ছাড়া ৬ জুন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তার মেয়ে বাড়ির বারান্দায় একাকী বসে থাকার সময় আকস্মিক অজ্ঞাতনামা চারজন বোরকা পরিহিত লোক জোরপূর্বক তাকে ধরে নিয়ে বাড়ির পেছনে একটি পাট ক্ষেতে নিয়ে যায়। আর মেয়ের পিতার অভিযোগ, সেখানে তার মেয়ের ওড়না দিয়ে হাত, পা ও মুখ বেঁধে ম্যাচের কাঠি দিয়ে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় সে মাটিতে গড়াগড়ি করে আগুন নিভিয়ে ফেলে প্রাণে রক্ষা পায়। পরে তার মেয়ের গোঙানির শব্দে তার স্ত্রী এগিয়ে গিয়ে উদ্ধার করেন এবং তাকে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে সেবা শুশ্রূষা দেয়া হয়। আমরা বলতে চাই, এই ঘটনায় যত দ্রম্নত সম্ভব সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করা সাপেক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মনে রাখতে হবে যে, এই ধরনের ঘটনা রোধ করতে না পারলে শুধু বর্তমান সময় নয়, আগামী দিনের জন্যও এর নেতিবাচক প্রভাব আরও বেশি ভয়ঙ্কর হয়ে উঠবে এমন আশঙ্কা অমূলক নয়। ফলে পুরো ঘটনাটি আমলে নিয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। প্রসঙ্গক্রমে আমরা এটাও বলতে চাই যে, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আনা যৌন হয়রানির অভিযোগ প্রত্যাহার করতে রাজি না হওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছিল। এরপর, ১০ এপ্রিল রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান নুসরাত। ফলে এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, এভাবে একের পর এক দেশে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ও বর্বর ঘটনা ঘটতে থাকবে- এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সর্বোপরি আমরা বলতে চাই, এবারের ঘটনাটি আমলে নিয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিশ্চিত করুন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মনে রাখতে হবে যে, শুধু এই ঘটনাটি নয়, এর আগেও বিভিন্ন সময়েই স্কুলছাত্রী বখাটের উৎপাতের শিকার হয়েছে, ঘটেছে ভয়ঙ্কর, চলে যেতে হয়েছে না ফেরার দেশে। সঙ্গত কারণেই এবারের ঘটনাটি আমলে নেয়ার পাশাপাশি এই ধরনের বর্বর ও ঘৃণ্য ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা জারি থাকুক এমনটি আমাদের প্রত্যাশা।