ভয়ঙ্কর ছিনতাইকারী

রোধে কঠোর হতে হবে

প্রকাশ | ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক
একের পর এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটছেই- যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অথচ এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, অপরাধমূলক ঘটনা রোধ করতে না পারলে তা মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপনকেই হুমকির মুখে ফেলবে। সম্প্রতি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা গেল, আব্দুল হক রনি ওরফে বাবু, বাসচালক ও সুজন ওরফে শাহজালাল কন্ডাক্টর আর আউয়াল হাওলাদার অটোরিকশাচালক তিনজনই পরিবহন শ্রমিক। তারা দিনে গণপরিবহনের কাজ করলেও রাত গভীর হলেই হয়ে উঠেন ভয়ঙ্কর ছিনতাইকারী! প্রসঙ্গত উলেস্নখ্য, সম্প্রতি গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীতে ছুরিকাঘাতে আরএফএল কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম হত্যার ঘটনায় জড়িত অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তারের পর এ তথ্য জানিয়েছের্ যাব। তথ্য মতে, গত ৭ সেপ্টেম্বর ভোর সাড়ে ৪টার দিকে টঙ্গী পূর্ব থানাধীন কলেজ গেট এলাকায় কামরুল ইসলামকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে পালিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা। ধারাল অস্ত্রের আঘাতে মারাত্মকভাবে জখম করে মোবাইলফোন, ল্যাপটপ ও নগদ ৩৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। ঘটনাস্থলেই মারা যান কামরুল। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকান্ডের পর গোয়েন্দা তথ্য ও তদন্তের ভিত্তিতে মূলহোতা বাবু, সহযোগী সুজন ও আউয়ালকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত সুইচ গিয়ার চাকু, হত্যার সময় ব্যবহৃত অটোরিকশা এবং ভিকটিমের মোবাইলফোন উদ্ধার করা হয়। আমরা বলতে চাই, গ্রেপ্তারকৃতরা দিনে যাত্রী পরিবহনের সঙ্গে জড়িত থাকলেও রাতে তারা প্রত্যেকে পেশাদার ছিনতাইকারী- এমন তথ্য যখন সামনে আসছে তখন কতটা ভয়ানক পরিস্থিতিকে স্পষ্ট করে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। জানা যায়, রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এরা হয়ে উঠেন ভয়ঙ্কর ছিনতাইকারী। তারা সাধারণত রাত ১টা হতে ভোর ৫টার মধ্যে টঙ্গীর বিভিন্ন নির্জন এলাকায় ওঁৎ পেতে থাকে এবং সুযোগ বুঝে সাধারণ পথচারীদের আক্রমণ করে সবর্স্ব ছিনিয়ে নেয়! আমরা বলতে চাই, এর আগেও বিভিন্ন সময়ে রাজধানী ও আশপাশ এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এ ক্ষেত্রে বলা দরকার, ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য রোধ করতে না পারলে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয় নিয়ে শঙ্কা সৃষ্টি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। বিভিন্ন সময়েই এমন খবর আলোচনায় এসেছে যে, বেপরোয়া হয়ে উঠছে ছিনতাইকারী চক্র। আর ফিল্মি স্টাইলে অস্ত্র উঁচিয়ে ছিনতাই, চলন্ত বাসে কুপিয়ে ছিনতাই, মা-মেয়েকে গুলি করে ছিনতাই ছাড়াও অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টির খপ্পরে পড়ে সাধারণ মানুষের সর্বস্ব খোয়ানোর ঘটনাও অজনা নয়। সঙ্গত কারণেই আমরা মনে করি, এবার যখন এমন বিষয় উঠে এল যে, দিনে শ্রমিক হলেও রাত হলে তারা হয়ে ওঠেন ভয়ঙ্কর ছিনতাইকারী- তখন এই পরিস্থিতির ভয়াবহতা অনুধাবন করতে হবে এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে। যেহেতু তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, ফলে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে তথ্য সংগ্রহ এবং এদের নেপথ্যে কেউ জড়িত কী না বা এই ধরনের চক্র আরও আছে কী না তা শণাক্ত করতে উদ্যোগী হতে হবে। এভাবে মানুষকে জিম্মি করে ছিনতাইকারীরা সর্বস্ব লুট করতে মরিয়া হয়ে উঠবে এটি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সর্বোপরি আমরা বলতে চাই, ছিনতাইয়ের ঘটনাগুলো জনমনে আতঙ্ক তৈরি করে এটি স্বাভাবিক বিষয়। তাই ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে করণীয় নির্ধারণ এবং এর সুষ্ঠু বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই। ছিনতাই-চাঁদাবাজিসহ মানুষকে জিম্মি করে কেউ যাতে অপরাধমূলক ঘটনা ঘটাতে না পারে এর জন্য তৎপরতা জোরদার করতে হবে। রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়াতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা জারি রাখতে হবে। সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে ছিনতাইকারীদের অপতৎপরতা বন্ধে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিশ্চিত হোক এমনটি কাম্য।