কাযর্কর পদক্ষেপ নিতে হবে

আবারও রেল দুঘর্টনা

প্রকাশ | ১০ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক
রেলপথে রোধ হচ্ছে না দুঘর্টনা। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, অসাবধানতা থেকে শুরু করে যখন নানা কারণেই দুঘর্টনা নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দঁাড়ায়, তখন তা স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগজনক পরিস্থিতিকে স্পষ্ট করে। ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি, এর সঙ্গে সেবা বাড়াতেও নানা রকম উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়টি পরিলক্ষিত হয়েছে। তদুপরি যদি রেল দুঘর্টনা ঘটতে থাকে, তবে আমরা মনে করি রেলপথের দুঘর্টনা প্রতিরোধে কাযর্কর উদ্যোগ গ্রহণের বিকল্প নেই। সম্প্রতি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা গেল, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়গামী শাটল ট্রেনে কাটা পড়ে দুই পা হারিয়েছেন এক শিক্ষাথীর্। তথ্য মতে, তার হঁাটুর নিচ থেকে পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় আর জোড়া দেয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। উল্লেখ্য, বুধবার সকাল ৮টার দিকে নগরের ষোলশহর স্টেশন এলাকায় এই দুঘর্টনাটি ঘটেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রত্যক্ষদশীর্রা বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়গামী শাটল ট্রেন ষোলশহর এলে দ্রæত রেললাইন পার হতে গিয়ে ওই শিক্ষাথীর্ কাটা পড়েন। যদিও কেউ আবার এমনটিও বলেছেন, ট্রেনে উঠতে গিয়ে তিনি পড়ে যান। তবে ষোলশহর স্টেশন মাস্টার জানিয়েছেন, ট্রেন বারবার বঁাশি বাজালেও ওই শিক্ষাথীর্ রেললাইন থেকে সরেননি। আমরা বলতে চাই, যখন এভাবে একের পর এক দুঘর্টনা ঘটতে থাকে তখন তা নিশ্চিতভাবেই ভীতিপ্রদ বাস্তবতাকেই সামনে আনে। আর শুধু এই ঘটনাটি নয়, এর আগেও বিভিন্ন সময়েই ট্রেনে কাটা পড়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া রেল দুঘর্টনায় মৃত্যুর মতো বিভীষিকা নেমে এসেছে। আমরা মনে করি, এ ক্ষেত্রে সচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প থাকতে পারে না। সঙ্গত কারণেই সংশ্লিষ্টদের কতর্ব্য হওয়া দরকার, জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে আরও বেশি উদ্যোগ গ্রহণ করা। মনে রাখতে হবে, শুধু যোগাযোগের উন্নয়ন ও সেবা নিশ্চিত করলেই হবে না, যাতায়াতের সাবির্ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও অপরিহাযর্। প্রসঙ্গত বলতে চাই, এর আগে বিভিন্ন সময়েই রেল দুঘর্টনা ঘটেছেÑ আর তাতে অসতকর্তার বিষয় যেমন আলোচনায় এসেছে, তেমনিভাবে অরক্ষিত রেলক্রসিংসহ নানা বিষয়ই দুঘর্টনার কারণ হিসেবে সামনে এসেছে। ট্রেন আসছে দেখার পরও দ্রæত রেললাইন পার হতে গিয়েও ঘটেছে মৃত্যুর ঘটনা। কানে ইয়ারফোন লাগিয়ে রেললাইনে হঁাটার সময়ও দুঘর্টনায় প্রাণ গেছে। এসব ঘটনাতে যেভাবে অসচেতনতার বিষয়গুলো স্পষ্ট হয় তা আমলে নেয়া জরুরি বলেই আমরা মনে করি। সামগ্রিকভাবে বলতে চাই, দুঘর্টনার কারণগুলো খতিয়ে দেখে সেই মোতাবেক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে যত দ্রæত সম্ভব। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের এটাও মনে রাখা দরকার, দায়িত্বহীন গেটম্যান লেভেল ক্রসিংয়ের গেট বন্ধ না করার কারণে রাস্তায় চলাচলকারী যানবাহনের সঙ্গে ট্রেনের সংঘষর্ হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। ফলে এসব বিষয়ে কতৃর্পক্ষ সচেতন ও কাযর্কর উদ্যোগ না নিলে রেলপথের দুঘর্টনা রোধ করা সম্ভব নয় বলেই মনে করা সঙ্গত। সবোর্পরি আমরা বলতে চাই, এবারের দুঘর্টনাটি আমলে নিন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে উদ্যোগ গ্রহণ করুন। রেললাইনে প্রাণহানি ও দুঘর্টনার বিষয়গুলো আমলে নিয়ে মানুষের সচেতনতা বাড়াতে সামগ্রিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা জরুরি। এ ছাড়া ক্রসিংয়ের চারপাশজুড়ে অবৈধভাবে যানবাহন দঁাড়ানো বন্ধ করা এবং লেভেল ক্রসিংয়ে গেটম্যানের সাবর্ক্ষণিক উপস্থিতি নিশ্চিত করাসহ যথাযথ উদ্যোগ জারি রাখা বাঞ্ছনীয়। একই সঙ্গে যে কোনো ধরনের অনিয়ম বন্ধেও নিতে হবে কঠোর পদক্ষেপ। একের পর এক রেল দুঘর্টনা ঘটতে থাকবে, কেউ আহত হবে, কেউ পঙ্গুত্ব বরণ করবে, কিংবা ঝরে যাবে একেকটি তরতাজা প্রাণ, এই পরিস্থিতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রেল দুঘর্টনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নিশ্চিত হোক এমনটি আমাদের প্রত্যাশা।