logo
রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ ৫ আশ্বিন ১৪২৭

  অনলাইন ডেস্ক    ০৪ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০  

হটলাইন সেবা চালু

মাদকের বিস্তার রোধ হোক

বিভিন্ন সময়েই পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে উঠে এসেছে যে, মাদকদ্রব্যের ব্যবহার বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। বলার অপেক্ষা রাখে না, মাদকদ্রব্যের ব্যবহার বাড়লে তা সন্দেহাতীতভাবেই ভয়ানক পরিস্থিতিকে স্পষ্ট করে। এ ছাড়া শুধু শহর নয়- গ্রামপর্যায়ে ইয়াবা, হেরোইন, ফেনসিডিল, প্যাথেডিনসহ নানা নেশাজাতীয় দ্রব্য ছড়িয়ে পড়েছে এমন বিষয়ও আলোচনায় এসেছে। মনে রাখা দরকার, মাদকের ভয়াবহ আগ্রাসনে নানা ধরনের ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে এবং এর নেতিবাচক দিকগুলো এড়ানোর সুযোগ নেই। মাদকের জন্য সমাজ ও পরিবারে বিপর্যয় নেমে আসা, খুন, ধর্ষণ, ছিনতাইসহ নানা ধরনের অপরাধের ঘটনাও ঘটছে। সঙ্গত কারণে, এই সামগ্রিক পরিস্থিতি কতটা আশঙ্কাজনক তা বলাই বাহুল্য। সম্প্রতি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা গেল, মাদকের বিস্তার রোধে গত বৃহস্পতিবার থেকে একটি হটলাইন সেবা চালু করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর- আমরা মনে করি, বিষয়টি অত্যন্ত ইতিবাচক।

তথ্য মতে, হটলাইন নম্বরে ফোন করে মাদক সম্পর্কে যে কোনো রকম তথ্য জানাতে পারবে সাধারণ মানুষ। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেছেন, মাদক সমস্যা নির্মূলে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে জনগণকে সংযুক্ত করাই এই হটলাইন সেবা চালু করার মূল উদ্দেশ্য। আমরা বলতে চাই, এই উদ্দেশ্য যেন সফল হয় সেই মোতাবেক কাজ করতে হবে সংশ্লিষ্টদেরই। কেউ যেন ব্যক্তিগত ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে বা প্রতিশোধ চরিতার্থ করতে কাউকে হয়রানি না করতে পারে সেই বিষয়টিও লক্ষ্য রাখতে হবে। একই সঙ্গে সেবার মানোন্নয়ন এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনাও নিশ্চিত করতে হবে। 'মাদকের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা কর্তৃপক্ষ যত কঠোর অবস্থানেই থাকুক না কেন, জনগণ নিজে থেকে মাদক নিরাময়ে পদক্ষেপ না নিলে এ সমস্যা পুরোপুরি কখনোই সমাধান করা সম্ভব নয়।' এমন বিষয়ও আলোচনায় এসেছে। ফলে সংশ্লিষ্টদের কর্তব্য হওয়া দরকার, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনাসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধিতেও ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালানো। এ ছাড়া মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে যেমন আইনের আওতায় আনতে হবে তেমনিভাবে মাদকের বিস্তার রোধে সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা অপরিহার্য।

জানা গেছে, নতুন এ হটলাইন সেবায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছ পর্যন্ত মাদকসংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করা যাবে। এ ছাড়া 'হটলাইনের প্রধান লক্ষ্য, মাদক ব্যবসায়ী সম্পর্কে কোনো তথ্য দেওয়া হলে তা পর্যালোচনা ও যাচাই-বাছাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এমন বিষয়ও সামনে এসেছে। আমরা মনে করি, সার্বিকভাবে এর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে এবং একই সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিবেচনায় নিতে হবে, মাদকের বিস্তার হওয়ার অর্থই হলো পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়ানক হয়ে ওঠা যা এড়ানো যাবে না। দেশের তরুণ প্রজন্ম থেকে শুরু করে নানান শ্রেণি পেশার মানুষ মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ছে। ধনী-দরিদ্র উভয় পরিবারের কিশোর-কিশোরী, বিশেষ করে তরুণসমাজ বিপথগামী হচ্ছে- এই বিষয়গুলোকে সহজ করে দেখার সুযোগ নেই। মনে রাখতে হবে, মাদক নিয়ন্ত্রণে আশানুরূপ পারিবারিক ও সামাজিক উদ্যোগের অভাব পরিলক্ষিত হলে এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে সবাই, যা কাম্য হতে পারে না।

সর্বোপরি আমরা বলতে চাই, মাদকের বিস্তার রোধে যে হটলাইন সেবা চালু করা হলো সেই বিষয়টি সামনে রেখে যথাযথ উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে। মাদক সম্পর্কে যে কোনো রকম তথ্য এলে সেই অনুযায়ী পদক্ষেপও নিশ্চিত করতে হবে। মাদকের কারণে বিপর্যস্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, নষ্ট হয়ে যায় ভবিষ্যৎ, খুন থেকে শুরু করে নানারকম অপরাধপ্রবণতা তৈরি হয়- এই বিষয়গুলো আমলে নিতে হবে। সুতরাং সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে মাদক নিয়ন্ত্রণে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা জারি রাখা জরুরি।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে