কার্যকর পদক্ষেপ নিন

ওষুধ উৎপাদন ব্যাহত

ওষুধ উৎপাদন ব্যাহত

বাংলাদেশ জনসংখ্যাবহুল দেশ। ফলে জনসাধারণের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করাই যেখানে একটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের বিষয়, সেখানে যদি ওষুধ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় তবে বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বাস্তবতাকে স্পষ্ট করে। সম্প্রতি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা গেল, দেশের ওষুধশিল্পের কাঁচামালের ৭০ শতাংশই আমদানি করা হয় চীন ও ভারত থেকে। আর করোনাভাইরাসের প্রভাবে এ বছরের জানুয়ারি থেকে অ্যাক্টিভ ফার্মাসিটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট বা এপিআই আমদানি বন্ধ রয়েছে। এদিকে বলা দরকার, আসন্ন সংকট সামলাতে ২৬ ধরনের ওষুধের ইনগ্রেডিয়েন্ট রপ্তানি বন্ধ করেছে ভারত। ফলে দেশের ওষুধের কাঁচামালের সংকট আরও বেড়েছে। দেশের ওষুধ কোম্পানিগুলো বলছে, যে পরিমাণ কাঁচামালের মজুত আছে তাতে খুব বেশি হলে দুই থেকে তিন মাস চলতে পারে। তবে অনেক কোম্পানি ইতোমধ্যেই সংকটে পড়েছে। যার ফলে ব্যাহত হচ্ছে হেপাটাইটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও এসিডিটির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় ওষুধ উৎপাদন।

আমরা বলতে চাই, সৃষ্ট এই পরিস্থিতি আমলে নেওয়া জরুরি। কেননা কাঁচামালের মজুত যা আছে তা দিয়ে দুই থেকে তিন মাস চলতে পারে। সঙ্গত কারণেই এ ক্ষেত্রে করণীয় নির্ধারণ ও সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা অপরিহার্য বলেই প্রতীয়মান হয়। বাংলাদেশে ঔষধশিল্প সমিতির তথ্যানুযায়ী এই শিল্পের কাঁচামালের ৯৭ ভাগই আমদানিনির্ভর। যার ৪০ শতাংশ আসে চীন থেকে, ৩০ শতাংশ ভারত, ১০ শতাংশ আসে কোরিয়া থেকে এবং বাকি কাঁচামাল আমদানি করা হয় জাপান, আমেরিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে। ঔষধশিল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, এভাবে আমদানি বন্ধ থাকলে ভয়াবহ সংকটে পড়বে দেশের উৎপাদন ও এর ওপর নির্ভরশীল বাজার ও সেবা। যেহেতু দেশের ওষুধ উৎপাদন পুরোটাই নির্ভর করে ভারত ও চীনের ওপর। ফলে এই দুই দেশ থেকে আমদানি বন্ধ- তাই সময় এসেছে বিকল্প বাজার খোঁজার- এই বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ ক্ষেত্রে ইউরোপিয়ান মার্কেট যাচাই করা উচিত বলেও মত এসেছে। আমরা বলতে চাই, যদি দ্রম্নত সময়ের মধ্যে বিকল্প বাজার না পাওয়া যায় তাহলে ওষুধের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে- এটিও অযৌক্তিক নয়। আবার সব ধরনের ওষুধের কাঁচামাল ইউরোপিয়ান মার্কেট পাওয়া যায় না এমনটিও জানা গেছে। সঙ্গত কারণেই সামগ্রিক পরিস্থিতি আমলে নিয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।

উলেস্নখ করা দরকার. দেশীয় অনেক কোম্পানি ইতোমধ্যে ইউরোপ থেকে আমদানি শুরুর কথা জনিয়েছে। তবে তা অনেক ব্যয়বহুল। আর সংশ্লিষ্টদের এটাও আমলে নেওয়া দরকার ওষুধের দাম বেড়ে গেলে তাতে করেও উদ্বেগ বেড়ে যাবে। কারণ দেশের বেশির ভাগ মানুষই অভাব-অনটনকে মোকাবিলা করে জীবনযাপন করে। এ ছাড়া কয়েকটি কোম্পানির আমদানি শুরুর কথা জানা গেলেও বড় বড় কোম্পানিগুলোর খুব একটা সমস্যা হয়তো হবে না, কিন্তু বিপাকে পড়বে তুলনামূলক ছোট ওষুধ কোম্পানিগুলো। আমরা বলতে চাই, যেহেতু দেশের ঔষধশিল্প সমিতির হিসাব অনুযায়ী মাত্র ৩ শতাংশ ওষুধের কাঁচামাল দেশে উৎপাদান হয়। আর বাকিটা নির্ভর করতে হয় অন্যদেশের ওপর। ফলে বিকল্প খোঁজার বিষয়টি মাথায় রেখে দাম বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কাকেও এড়ানো যাবে না।

সর্বোপরি আমরা বলতে চাই, ঔষধ প্রশাসনের মহাপরিচালক বলেছেন, অন্তত দুই থেকে তিন মাস পর কাঁচামালের সংকট দেখা দিতে পারে যদি এভাবে আমদানি বন্ধ থাকে। ফলে বিকল্প খোঁজা থেকে শুরু করে সামগ্রিক পরিস্থিতি আমলে নিয়ে কার্যকর উদ্যোগ নিশ্চিত করতে হবে সংশ্লিষ্টদেরই। একই সঙ্গে দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার সার্বিক বিষয়গুলোকে বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্টরা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে এমনটি কাম্য।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে