শুক্রবার, ২২ জানুয়ারি ২০২১, ৮ মাঘ ১৪২৭

শ্রমিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক

রানা পস্নাজা ধসের ৭ বছর

রানা পস্নাজা ধসের ৭ বছর

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারে রানা পস্নাজার ভয়াবহ দুর্ঘটনায় এক হাজারের বেশি শ্রমিকের মৃতু্য হয়েছিল। আহত হন কয়েক হাজার শ্রমিক। বেশ কয়েকজনের খোঁজ আজও পাওয়া যায়নি। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, ওই ঘটনা শুধু বাংলাদেশকে নয়, পুরো বিশ্বকে নাড়া দিয়েছিল। রানা পস্নাজা ধসে সহস্রাধিক পোশাক শ্রমিক নিহতের সাত বছর পূর্ণ হলো গত শুক্রবার। এ ক্ষেত্রে উলেস্নখ্য, প্রতি বছর বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে হতাহত শ্রমিকদের স্মরণ করলেও করোনা পরিস্থিতিতে এবার কোনো জনসমাগম ছিল না। তবে ভিন্নভাবে স্মরণ করা হয়েছে ভয়াবহ সেই ঘটনায় প্রাণ হারানো মানুষকে। আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই শুক্রবার সকালে স্থানীয় প্রশাসন, শ্রমিক সংগঠন ও হতাহত শ্রমিকদের পরিবারের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে নিহতদের স্মরণ করা হয়েছে।

রানা পস্নাজা ট্র্যাজেডি কতটা ভয়াবহ ছিল তা নতুন করে বলার দরকার পড়ে না। কিন্তু পরিতাপের বিষয় ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনার এতদিন পরও দায়ের করা মামলাগুলোর কোনো অগ্রগতি নেই এমনটি খবরে উঠে এসেছে। নির্মম পঙ্গুত্ব বরণ করা শ্রমিকরা সুবিচার পাওয়ার আশায় থাকলেও অভিযুক্তদের বিচারে তেমন কোনো অগ্রগতি নেই- এমন বিষয় যখন সামনে আসছে, তখন আমরা মনে করি, সংশ্লিষ্টদের কর্তব্য হওয়া দরকার পরিস্থিতি আমলে নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করা। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের এটাও মনে রাখা দরকার, রানা পস্নাজা ধসের সময় কারখানায় কাজের পরিবেশ এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি ব্যাপকভাবে সামনে আসে- সেই দিকটিও আমলে নিয়ে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা জরুরি। মনে রাখতে হবে, যে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অবহেলা বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটাতে পারে। তাই রানা পস্নাজা দুর্ঘটনার মতো এমন ভয়ঙ্কর দুর্র্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সর্বাত্মক সতর্ক ও যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণের বিকল্প নেই।

লক্ষণীয়, অনেক নিহত শ্রমিকদের স্বজন ও আহত শ্রমিকরা পায়নি প্রয়োজনীয় সহায়তা ও আর্থিক ক্ষতিপূরণ এমনটিও জানা গেছে। যার ফলে অনেক আহত শ্রমিক অর্থাভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা নিয়ে আজও ফিরতে পারেনি স্বাভাবিক জীবনে। এই বিষয়গুলোও সংশ্লিষ্টদের বিবেচনায় নেওয়া দরকার। পাশাপাশি এটাও মনে রাখতে হবে, তৈরি পোশাক খাত দেশের রপ্তানি আয়ের ক্ষেত্রে অন্যতম খাত। ফলে এই খাতের সামগ্রিক অগ্রগতি বজায় রাখতে হলে কারখানার পরিবেশ এবং শ্রমিকদের জীবনমান ও নিরাপত্তার বিষয়টি অগ্রগণ্য। নানা সময়েই শ্রমিকদের বেতনের দাবিতে বিক্ষোভের বিষয় সামনে আসে, এ ছাড়া রানা পস্নাজা ধসের পর দেশের বিভিন্ন কারখানার পরিবেশ এবং নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি আলোচনায় এসেছিল- যা আমলে নিতে হবে। আমরা মনে করি, রানা পস্নাজা ট্র্যাজেডি তথা এই ধরনের ভয়াবহ ঘটনা যাতে না ঘটে তার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতির পাশাপাশি কারখানার পরিবেশ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। এ কথাও ভুলে যাওয়া যাবে না যে, রানা পস্নাজা ধসের পর বিশ্ব ক্রেতারা নিরাপত্তাহীনতা ও কাজের পরিবেশ নিয়ে ব্যাপক অভিযোগ তুলেছিল।

সর্বোপরি আমরা বলতে চাই, রানা পস্নাজা সাত বছর পার করল, কিন্তু এতদিনেও দায়ের করা মামলাগুলোর কোনো অগ্রগতি নেই বলে যে বিষয়টি উঠে আসছে- তা অত্যন্ত পরিতাপের। এ ছাড়া নিহত শ্রমিকদের স্বজন ও আহত শ্রমিকরা পায়নি প্রয়োজনীয় সহায়তা ও আর্থিক ক্ষতিপূরণ- এই বিষয়টিও আমলে নিয়ে উদ্যোগী হতে হবে। সামগ্রিকভাবে আমরা চাই, দেশের তৈরি পোশাক খাতের অগ্রগতি বজায় রাখতে কারখানার পরিবেশ উন্নত হোক এবং শ্রমিকদের জীবনমান ও নিরাপত্তা যেন বিঘ্নিত না হয় সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। কোনো প্রকার অসতর্কতা ও গাফিলতির কারণে দেশের পোশাক খাত যেন সংকটে পতিত না হয় সেটি নিশ্চিত করা জরুরি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে