বিবরণমূলক লেখা
স্থান, বস্তু, ব্যক্তি, প্রাণী, অনুভূতি, ঘটনা বা কোনো বিষয়ের বিবরণ দেওয়া হয় যে রচনায়, তাকে বিবরণমূলক লেখা বলে। যে কোনো বিষয়ের উপরই বিবরণমূলক লেখা প্রস্তুত করা যায়। বিবরণমূলক লেখায় লেখকের চিন্তা ও অনুভূতির প্রকাশ ঘটে। সাধারণত কয়েকটি অনুচ্ছেদে বিবরণটি তুলে ধরা হয়।
'রবীন্দ্রনাথ' শিরোনামের লেখাটিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছেলেবেলার বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। এই বিবরণের মধ্য দিয়ে একজন মানুষের বেড়ে ওঠা উপলব্ধি করা যায়। একইসঙ্গে এই লেখায় উনিশ শতকের কলকাতার পরিচয়ও পাওয়া যায়।
প্রশ্ন: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কত সালে ও কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১২৬৮ সালের ২৫ বৈশাখ বা ৭ মে ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
প্রশ্ন:ঠাকুর বাড়ি কোন লেনে ছিল?
উত্তর: দ্বারকানাথ ঠাকুর লেনে ঠাকুর বাড়ি ছিল।
প্রশ্ন: দ্বারকানাথ ঠাকুর লেনের কত নম্বর বাড়িতে তারা থাকতেন?
উত্তর: দ্বারকানাথ ঠাকুর লেনের ১৩ নম্বরে তারা থাকতেন।
প্রশ্ন: প্রিন্সের পুত্রের নাম কি?
উত্তর: প্রিন্সের পুত্রের নাম দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
প্রশ্ন: কত নম্বর বাড়ি বৈঠকখানা হিসেবে পরিচিত ছিল?
উত্তর: ৫ নম্বর বাড়িটি বৈঠকখানা হিসেবে পরিচিত ছিল।
প্রশ্ন: ঠাকুরবাড়ি কার আমলে হয়েছিল?
উত্তর:ঠাকুরবাড়ি নীলমণি ঠাকুরের আমলে হয়েছিল।
প্রশ্ন: ঠাকুরবাড়ি রবীন্দ্রনাথের জন্মের কত বছর পূর্বে হয়েছিল?
উত্তর:ঠাকুরবাড়ি রবীন্দ্রনাথের জন্মের ৭৫ বছর পূর্বে হয়েছিল।
দ্বিতীয় অধ্যায় : ধ্বনির উচ্চারণ
উচ্চারণ ঠিক রেখে কবিতা পড়ি
আবু জাফর ওবায়দুলস্নাহ (১৯৩৪-২০০১) বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট কবি। তাঁর উলেস্নখযোগ্য কবিতার বইয়ের নাম 'সাত নরী হার', 'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' ইত্যাদি। 'মাগো, ওরা বলে' কবিতাটি ভাষা-আন্দোলন বিষয়ক একটি বহুল পঠিত কবিতা। এটি কবির 'সাত নরী হার' কাব্য থেকে নেওয়া।
কবিতাটি প্রথমে নীরবে পড়ো; এরপর সরবে পাঠ করো। সরবে পাঠ করার সময়ে ধ্বনির উচ্চারণে সতর্ক থাকতে হবে।
কম্পনমাত্রা ও বায়ুপ্রবাহ অনুযায়ী ধ্বনির উচ্চারণ
'মাগো, ওরা বলে' কবিতা থেকে কিছু শব্দ লেখো। বর্ণগুলো উচ্চারণ করে এগুলোর বৈশিষ্ট্য যাচাই করো এবং ছকে লেখো। কাজ শেষে সহপাঠীদের সঙ্গে নিজের উত্তর মেলাও, আলোচনা করো এবং প্রয়োজনে সংশোধন করো।
বাক প্রত্যঙ্গ
ধ্বনি উচ্চারণে যেসব প্রত্যঙ্গ সরাসরি কাজ করে সেগুলোকে বাক প্রত্যঙ্গ বলে। এখানে বাক প্রত্যঙ্গের ছবি দেওয়া হলো।
ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণে বাক প্রত্যঙ্গের সক্রিয়তা উচ্চারণের সময়ে কোন বাক প্রত্যঙ্গ ব্যবহৃত হচ্ছে তা বোঝার চেষ্টা করো এবং ছকের নির্দিষ্ট জায়গায় লেখো। কাজ শেষে সহপাঠীদের সঙ্গে নিজের উত্তর মেলাও, আলোচনা করো এবং প্রয়োজনে সংশোধন করো।
উচ্চারণ স্থান অনুযায়ী ব্যঞ্জন ধ্বনি
বাক প্রত্যঙ্গের যে জায়গায় বায়ু বাধা পেয়ে ব্যঞ্জনধ্বনি সৃষ্টি করে, সেই জায়গাটি হলো ঐ ব্যঞ্জনের উচ্চারণ স্থান। উচ্চারণ স্থান অনুযায়ী ব্যঞ্জনধ্বনিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয় :
কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন
তালব্য ব্যঞ্জন
মূর্ধন্য ব্যঞ্জন
দস্ত্য ব্যঞ্জন
ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন।
ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে কোন বাক প্রত্যঙ্গের অংশগ্রহণ মুখ্য এবং কোন বাক প্রত্যঙ্গের অংশগ্রহণ গৌণ।
কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন কি বা কাকে বলে?
কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন : যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের পিছনের অংশ উঁচু হয়ে আলজিভের কাছাকাছি নরম তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে। কাকা, খালু, গাছ, ঘাস, কাঙাল প্রভৃতি শব্দের ক, খ, গ, ঘ, ও কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনের উদাহরণ।
তালব্য ব্যঞ্জন কি বা কাকে বলে?
তালব্য ব্যঞ্জন : যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে। চাচা, ছাতা, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনের উদাহরণ।
মূর্ধন্য ব্যঞ্জন কি বা কাকে বলে?
মূর্ধন্য ব্যঞ্জন : দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা। যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে। টাকা, ঠেলাগাড়ি, ডাকাত, ঢোল, গাড়ি, মূঢ় প্রভৃতি শব্দের ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনের উদাহরণ।
দন্ত্য ব্যঞ্জন কি বা কাকে বলে?
দন্ত্য ব্যঞ্জন : যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দন্ত্য ব্যঞ্জন বলে। তাল, থালা, দাদা, ধান প্রভৃতি শব্দের ত, থ, দ, ধ দন্ত্য ব্যঞ্জনের উদাহরণ।
ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন কি বা কাকে বলে?
ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন : যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট দুটি কাছাকাছি এসে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে। পাকা, ফল, বাবা, ভাই, মা প্রভৃতি শব্দের প, ফ, ব, ভ, ম ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনের উদাহরণ।
হ পরবর্তী অংশ আগামী সংখ্যায়