সা ক্ষা ৎ কা র

একজন অভিনয়শিল্পীর বছরে দুটি ছবি করা উচিত

ঢালিউডের চৌকস অভিনেতা সাখাওয়াত হোসেন নিরব। সর্বশেষ ওটিটি পস্ন্যাটফর্মে মুক্তি পাওয়া 'কসাই'য়ে তার অভিনয় দর্শকের মধ্যে সাড়া ফেলেছে। চলচ্চিত্রে এক দশকের ক্যারিয়ার নিয়ে এ অভিনেতার সঙ্গে কথা হয় যাযাদির। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মাতিয়ার রাফায়েল
একজন অভিনয়শিল্পীর বছরে দুটি ছবি করা উচিত
সাখাওয়াত হোসেন নিরব

সিনেমা হলে 'কসাই' মুক্তি না পাওয়ায়

নিশ্চয় আক্ষেপও আছে?

আক্ষেপ তো অবশ্যই আছে। সিনেমা তো প্রেক্ষাগৃহের জন্যই। ছোটপর্দার জন্য নয়। কিন্তু সময়টা যে রকম যাচ্ছে তাতে তো কিছু করারও নেই। তারপরও ওটিটিতে মুক্তি পাওয়ার পর থেকে দর্শকের মাঝে ভালো সাড়া পড়েছে। চ্যানেল আই এবং সিনেপেস্নক্সে মুক্তি পাওয়ার পর তো ছবিটি একের পর এক মুক্তির সিরিয়ালে আছে। এখন এই মুক্তির আর শেষ নেই।

চলচ্চিত্রে ক্যারিয়ারের এক দশক, কীভাবে

মূল্যায়ন করবেন?

মূল্যায়ন বলতে আমি প্রতিনিয়তই নিজের উন্নতির লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। আসলে একটি সিনেমা বানাতে অনেক বাধাবিপত্তি পেরোতে হয়। অনেক টেকনিক্যাল ইনভল্বমেন্ট সারতে হয়। যেমন- ডিরেক্টর, ক্যারেক্টার, স্ক্রিপ্ট, লোকেশন নির্বাচন, রিহার্সাল, কস্টিউম ডিজাইন, শুটিং, লাইটিং, এডিটিং... একটা টোটাল পারফরম্যান্সের বিষয় এবং তা সময় নিয়েই করা উচিত। সে জন্য প্রয়োজনীয় সাপোর্টও দরকার। সেটা কি আমাদের দেশে আছে? এই সীমাবদ্ধতার কারণেই বাজেট কমাতে তা কমপ্যাক্ট বা শর্টকাট করে ফেলছি। এ কারণেই একজন শিল্পীর বছরে দু'একটা ছবিই করা উচিত। তখন সিনেমার কলাকুশলীরা নিজেদের কাজের দক্ষতা আরও ভালোভাবে ফুটিয়ে তুলতে সময় পাবে।

মানসম্মত কম সিনেমা করা উচিত

বলে কি মনে করেন?

একজন অভিনয়শিল্পীর জন্য আমি তাই মনে করি। তাতে সিনেমার স্ক্রিপ্ট নিয়ে ডিরেক্টর ও রাইটারের সঙ্গে প্রপারলি শেয়ার করা যায়। আর সঠিক প্রস্তুতি ছাড়া ঘন ঘন সিনেমা করলে তার মান আলটিমেটলিই কমে যাবে। আবার মানসম্মত সিনেমার অভাবে হলগুলোও দর্শক টানতে পারছে না। ফলে হল মালিকরা রিটার্নও দিতে পারছে না। তখন তারা মানসম্মত সিনেমা দাবি করে। আবার মানসম্মত সিনেমা বানাতে গেলে যে বাজেটের দরকার সেই বাজেটও প্রযোজক দিতে চাচ্ছেন না। এ রকম উভয়-সংকটের মধ্যে মানসম্মত সিনেমা কীভাবে হবে? এ নিয়ে আসলে প্রচুর ক্যালকুলেশনের ব্যাপার আছে।

চলমান পরিস্থিতিতে নির্মাতারা এক প্রকার বেকার হয়ে পড়েছেন- কেমন মনে করছেন বিষয়টা?

বেকার তো নেই! সিনেমা নির্মাণ তো চলছে। অ্যাপ-নির্ভর, ওটিটি-নির্ভর কাজ তো চলছে। তবে এতে নির্মাণের বাজেট অনেক কমে গেছে। পারফর্মারদের ইনভল্বমেন্টও অনেক কমে গেছে। তবে আমরাও চাই বড় পর্দার জন্যই সিনেমা বানানো হোক। কিন্তু সিনেমার চলমান প্রেক্ষাপটে বছরের বায়ান্ন সপ্তাহে বায়ান্নটি মানসম্মত বা ব্যবসা সফল সিনেমা মুক্তি দেওয়া কঠিন। এই যে শাকিব ভাই, তার তো বছরে এত সিনেমা করার কথা না। আর তা না হলে বায়ান্ন সপ্তাহ চালানোর মতো সিনেমাও হয় না।

নতুন ও অপেক্ষমাণ কাজগুলো

সম্পর্কে কিছু বলেন?

'কসাই' ছবিটা বিপুল সাড়া পাওয়ার পর এখন ছবিটির পরিচালক অনন্য মামুন 'কসাই-২' নির্মাণের চিন্তাভাবনা করছেন। স্ক্রিপ্ট তৈরির কাজও চলছে। এর মধ্যে তার 'অমানুষ' ছবির কিছু কাজ বাকি রয়েছে। এটা শেষ হলেই 'কসাই-২' এর কাজ শুরু হবে। এছাড়া সৈকত নাসিরের 'ক্যাসিনো' ও 'ক্যাশ', আসিফ ইকবাল জুয়েলের 'চোখ', অভিনেত্রী রোজিনার 'ফিরে দেখা', বন্ধন বিশ্বাসের 'ছায়াবৃক্ষ', দায়েল রহমানের 'তিতুমীর' ছবির কাজ অপেক্ষমাণ রয়েছে।

ঐতিহাসিক গল্পের 'তিতুমীর' সিনেমাটি

কোন পর্যায়ে আছে?

ছবিটা শুরু করার কথা ছিল। এখন আমরা নভেম্বর-ডিসেম্বরের দিকে এটা শুরুর পরিকল্পনা করেছি। ছবিটিতে ঐতিহাসিক ক্যারেক্টার মায়মুনা, রায় মোহন, নীলকর চাষী, দারোগা, দাঙ্গাল বাহিনী, বাঁশের কেলস্না, তিতুমীরের শৈশব, গুপ্তচর হামিদা বানু এবং তিতুমীরের সঙ্গে তার প্রেম, তিতীমুরের প্রতি তার নৈতিক সমর্থন- সব মিলিয়েই সমকালীন প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে সিনেমাটির স্ক্রিপ্টে। ছবিটিতে আমি নাম ভূমিকায় আছি।

একসময় নাটকে অভিনয় করতেন

ছেড়ে দিলেন কেন?

দুই নৌকায় পা রেখে কাজ করলে কোনোটাই ভালোভাবে হবে না। তা ছাড়া সিনেমায় যতবড় ক্যানভাসের মধ্যে কাজ করা যায়, নিজের সর্বোচ্চটা মেলে ধরা যায়- নাটকে সেটা সম্ভব নয়। এসব চিন্তা থেকেই নাটকে দেখা যাচ্ছে না।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে