চলচ্চিত্রে নীতিমালা থাকলেও বাস্তবায়ন নেই

প্রকাশ | ২২ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক
বিনোদন রিপোর্ট চলচ্চিত্রে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বারবার কঠোর নীতিমালা করলেও 'বার বারই যেন 'বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরো'তে পরিণত হয়েছে। বাস্তবে দেখা গেছে, নীতিমালাকে তোয়াক্কা না করে আগের মতোই নিজেদের খেয়ালখুশি মতো আচরণ করছেন চলচ্চিত্র শিল্পীরা। আর নীতিমালা না মানায় আবারও ক্ষুব্ধ চলচ্চিত্র সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা। দীর্ঘদিন ধরে জিইয়ে থাকা এসব অনিয়মে দেশীয় চলচ্চিত্রাঙ্গন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সম্প্রতি সিনেমা নির্মাণে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষে একটি নীতিমালা তৈরি করেছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক সমিতি ও চিত্রগ্রাহক সমিতির নেতারা। চলচ্চিত্র নির্মাণে প্রতিবন্ধকতা ও অনিয়ম চিহ্নিত করা এবং চলচ্চিত্র নির্মাণে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য নীতিমালা প্রণয়নের পাশাপাশি একটি আহ্বায়ক কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এ নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে খোরশেদ আলম খসরু বলেছেন, সিনেমা নির্মাণে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি প্রোডাকশনের অতিরিক্ত খরচ কমানোর জন্য এই নীতিমালা গঠন করা হয়েছে। এটি সকল শিল্পী, পরিচালক, এমনকি প্রযোজকের জন্যও প্রয়োগ করা হবে। নীতিমালার মধ্যে আছে- সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত শুটিং সময় নির্ধারণ, কোনো শিল্পী অথবা কলাকুশলী যদি সময়মতো না আসেন, তার জন্য শুটিং করতে যদি দেরি হয়, তার দায় বা ক্ষতিপূরণ তাকেই বহন করতে হবে। সেই সঙ্গে শিল্পী ও কুশলীদের প্রযোজকের সঙ্গে অবশ্যই চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করতে হবে। প্রথম কিস্তিতে ২৫ ভাগ, এরপর কাজের অগ্রগতির ভিত্তিতে ৭৫ ভাগ অর্থাৎ তিন কিস্তিতে পারিশ্রমিক পরিশোধ করার কথা উলেস্নখ থাকবে। একই সঙ্গে এক লাখ টাকার ওপর যাদের সম্মানী, তারা যাতায়াত খরচ পাবেন না। এছাড়া আউটডোরে অবস্থান করার সময় সহকারী পরিচালক ও সহকারী চিত্রগ্রাহকরা যাতায়াতের অর্ধেক হাত খরচ বাবদ পাবেন। এছাড়া পোশাক বানানোর জন্য কোনো শিল্পী টাকা পাবেন না। গল্প অনুযায়ী শিল্পীকে প্রডাকশন হাউজ থেকে পোশাক তৈরি করে দেওয়া হবে। সিনেমার প্রমোশনের জন্য ওই সিনেমার প্রধান শিল্পীদের সিনেমাটি মুক্তির আগে পাঁচ দিন শিডিউল দেওয়াসহ আরও কিছু বিষয় রয়েছে নীতিমালায়। এর আগে ২০১৫ সালে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সমিতির সমন্বয়ে এক যৌথ সভায় নানাবিধ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিল। সেসব সিদ্ধান্তের মধ্যেও ছিল- শিল্পী, কলাকুশলী যারা শুটিংয়ে অংশ নেবেন তাদের কোনো কনভেন্স দেয়া হবে না। শিল্পীদের অবশ্যই সিডিউল মেনে চলতে হবে। যদি কোনো শিল্পী কলাকুশলী পরপর তিন দিন কলটাইম অমান্য করে শুটিংস্পটে আসে তবে সে ক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কলটাইম কলাকুশলীদের জন্য ১০ ঘণ্টা এবং শিল্পীদের জন্য ৯ ঘণ্টা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এছাড়াও কলাকুশলী ও টেকনিশিয়ানরা বেতনভুক্ত বা চুক্তিবদ্ধ না হলে তাদের পারিশ্রমিক প্রতিদিন হিসেবে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। যদি কোনো প্রযোজক, শিল্পী ও কলাকুশলী ওই সিদ্ধান্তসমূহ অমান্য করেন তাহলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও সভায় উলেস্নখ করা হয়েছিল। কিন্তু দিনের পর দিন সময় পার হলেও এর কিছুই বাস্তবায়ন হচ্ছে না। মানা হচ্ছে না কোনো নিয়মনীতি। শিল্পীরাও যেমন তাদের ইচ্ছা মতো শুটিং সেটে আসছেন, পরিচালকরাও নির্ধারিত সময়ের বাইরে অভিনয় করিয়ে নিচ্ছেন। প্রযোজকরা কখনো কখনো পারশ্রামিক বাকি রাখছেন, অন্যদিকে প্রযোজকদের থেকে শিল্পীদের আগেই টাকা নিয়ে বেকায়দায় ফেলার অভিযোগও রয়েছে। একদিকে, শিল্পীদের না জানিয়ে ছবি মুক্তি দেয়া হচ্ছে, অন্যদিকে অভিযোগ রয়েছে অনুরোধ করেও প্রমোশনে পাওয়া যায় না শিল্পীদের। নায়ক, নায়িকা, ভিলেন (প্রধান চরিত্রে) একজন করে সহযোগীর বেশি নয় নিয়ম থাকলেও একাধিক সহযোগীসহ ঘনিষ্ঠজনরাও উপস্থিত থাকেন। এবং তাদের খরচও প্রডাকশন বহন করে থাকেন। বর্তমানে ছবি নির্মাণের বেলায় অপচয়ের কারণে খরচ বেড়ে যায়। শুটিংকালীন অপচয় কমিয়ে আতে পারলে প্রায় অর্ধলক্ষ টাকা বাঁচানো সম্ভব। এতে করে সিনেমা নির্মাণের পর লোকসান হলেও প্রযোজকের আহামরি টাকা লোকসান হবে না। এ নিয়ে পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার বলেন, 'ঢাকাই চলচ্চিত্রের ক্লান্তিকাল চলছে এখন। এ ক্লান্তিকাল থেকে উত্তরণের জন্যই আমরা এই নতুন নীতিমালা তৈরি করেছি। চলচ্চিত্রকে বাঁচাতে হলে এই নীতিমালার বাস্তবায়ন খুবই জরুরি।' একই সঙ্গে যারা এই নীতিমালার বাইরে গিয়ে কাজ করবেন কোনো ক্ষয়-ক্ষতির বা লোকসানের দায়ভার তাকেই নিতে হবে বলেও জানান পরিচালক সমিতির এ নেতা। নীতিমালায় সিনেমার প্রধান প্রধান তারকাদের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক কত হবে সে বিষয়ে কিছু উলস্নখ করা হয়নি। পারিশ্রমিক বিষয়ে প্রশ্ন করলে পরিচালক সমিতির নেতা গুলজার বলেন, শিল্পীদের পারিশ্রমিক নির্ধারণ করে দেয়ার সুযোগ আমাদের মাঝে কম। কারণ অনেক শিল্পী সম্পর্কের খাতিরে প্রযোজকের কাছ থেকে পারিশ্রমিক কমবেশি পেয়ে থাকেন। তবে বর্তমান চলচ্চিত্রের অবস্থানুযায়ী দেশের শীর্ষ নায়কের পারিশ্রমিকও ১০ লাখের বেশি হওয়া উচিত নয় বলে জানান গুলজার।