logo
রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ ৫ আশ্বিন ১৪২৭

  যাযাদি রিপোর্ট   ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০  

সভাপতিমন্ডলীর সভায় শেখ হাসিনা

করোনায় আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্যরা 'লিপ সার্ভিস' দিয়েছে

করোনায় আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্যরা 'লিপ সার্ভিস' দিয়েছে
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বুধবার গণভবনে দলের সভাপতিমন্ডলীর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় -ফোকাস বাংলা
করোনাকালে রাজনৈতিক দল হিসেবে অন্যরা 'লিপ সার্ভিস' দিয়েছে অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। অন্য রাজনৈতিক দলগুলো মুখে মুখে কথা বলেছে। আশ্বাস দিয়েও করোনায় মানুষের পাশে দাঁড়ায়নি। প্রকৃত অসহায় মানুষের কাছে গিয়ে সাহায্য করার বিষয়টিতে অন্য দলগুলো বা এনজিওসহ কোনো সংস্থার উপস্থিতি সেইভাবে দেখা যায়নি।

বুধবার গণভবনে দলের সভাপতিমন্ডলীর বৈঠকে উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে দীর্ঘ বিরতির পর এ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। করোনা সংক্রমণের কারণে এতদিন আওয়ামী লীগের সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি স্থগিত ছিল।

সভায় শেখ হাসিনা বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে এতদিন মিটিং করা সম্ভব না হলেও এখন আস্তে আস্তে কিছু মিটিং শুরু করা হলো। সেই জন্য এ সভাটার আয়োজন করেছি। তবে করোনাভাইরাসে অনেকে চিরবিদায় নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করেন।

করোনার কারণে শুধু বাংলাদেশ নয়, সারাবিশ্বে জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে উলেস্নখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা অর্থনৈতিকভাবে মোটামুটি ভালো অবস্থায় আছি। সরকার দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। তিনি বলেন, অনেকের ধারণা ছিল, আমাদের রেমিট্যান্স কমে যাবে। কিন্তু তা হয়নি। আমরা দুই শতাংশ বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ায় রেমিট্যান্স বেড়েছে। আমাদের রিজার্ভও ভালো অবস্থানে। এখন তার পরিমাণ ৩৯ দশমিক ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

রাজনৈতিক দল হিসেবে একমাত্র আওয়ামী লীগেরই ইকোনমিক পলিসি আছে উলেস্নখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা অর্থনৈতিক পলিসি মাথায় রেখেই কাজ করি। এখন আমরা সরকারে আছি বলে আমাদের দায়িত্ব শুধু বর্তমান নয়, আগামী দিনে নতুন প্রজন্মের জন্য দেশটা কীভাবে এগিয়ে যাবে, সেই প্রস্তুতি রাখতে হবে। আমরা সেজন্য নির্দেশনা দিয়ে দেব। আমরা যা করছি সময়ের বিবর্তনে হয়তো তা সংশোধন করতে হবে, পরিবর্তন করতে হবে, পরিশোধন করতে হবে- এটাই নিয়ম।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবর্তন করতে হলেও একটা ফ্রেমওয়ার্ক, একটা ধারণাপত্র অথবা একটা দিকনির্দেশনা থাকা দরকার। সেটা সামনে থাকলে যেকোনো কাজ খুব সহজে হয়। যারাই ভবিষ্যতে আসবে তারাই করতে পারবে। আমাদের বয়স হয়ে গেছে, আমার বয়স ৭৪ বছর। যারা ভবিষ্যতে আসবে তারা যেন দিকহারা না হয়ে যায়, একটা দিকনির্দেশনা যাতে থাকে সেটা মাথায় রেখে কাজ করছি। সেজন্য প্রথম প্রেক্ষিত পরিকল্পনা করলাম। এরপর দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা করে দিলাম, ২০৪১ সাল পর্যন্ত কী হবে। ২০০৮ সালে সরকার গঠন করে ২০১০ সালে আমরা প্রেক্ষিত পরিকল্পনা নিয়েছিলাম ২০১০ থেকে ২০২০। সেখানে এখন আমরা ২০২১ থেকে ২০৪১ সেই প্রেক্ষিত পরিকল্পনাও প্রণয়ন করেছি।

বাংলাদেশ হচ্ছে একটা ডেল্টা-আমাদের বদ্বীপ উলেস্নখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের নদীগুলোর ভাঙন হচ্ছে, ক্ষতি হচ্ছে। ডেল্টা পস্ন্যানের লক্ষ্য হলো নদী ড্রেজিং করে নদীর নাব্যতা বজায় রেখে এই বদ্বীপটা রক্ষা করা এবং সুরক্ষিত করা। দেশের মানুষকে কীভাবে সুন্দর একটা জীবন দেওয়া যায়, অর্থনৈতিক উন্নয়নটা ত্বরান্বিত করা যায় সেটাই আমাদের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য নিয়ে আমরা ডেল্টা পস্ন্যান ২১০০ প্রণয়ন করেছি, বাস্তবায়ন করছি। জাতিসংঘ ঘোষণা দিয়েছে- এসডিজি-২০৩০। আমরা এমডিজি বাস্তবায়নে সাফল্য অর্জন করেছিলাম। এসডিজি বাস্তবায়নেও আমাদের সাফল্য আসবে। আমরা আমাদের দেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ধারাগুলো নিয়ে কাজ করছি। সেগুলো বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।

করোনার কারণে কাজের গতি কিছুটা শ্লথ হয়ে গেছে উলেস্নখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদ্‌যাপন করছি। ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করব। ২০২০ থেকে ২০২১ এটাই আমরা মুজিববর্ষ ঘোষণা দিয়েছি। আমাদের লক্ষ্য ছিল ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার কমিয়ে ১৬-১৭'র মধ্যে নামিয়ে আনা। ইতোমধ্যে আমরা তা ৪০ থেকে ২০ ভাগে নামিয়ে এনেছি। এই দারিদ্র্য যেন আবার মানুষকে গ্রাস করতে না পারে, সেদিকে লক্ষ রেখেই আমরা প্রণোদনা প্যাকেজ দিচ্ছি। পাশাপাশি একেবারে গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত আর্থিকভাবে মানুষ যাতে চলতে পারে তার ব্যবস্থাও আমরা করে দিচ্ছি। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় বলেই সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করেছে এবং তাদেরকে সহযোগিতা করছে দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষকে নগদ অর্থ প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। এটি এখনো চলমান রয়েছে। অন্য কোনো দল হলে এটা করতো না। তারা দেখত কীভাবে এখান থেকে ফায়দা লুটতে পারে। কিন্তু আমরা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি। এটা আমাদের নীতি, এটাই আমাদের লক্ষ্য। এটা জাতির পিতা আমাদের শিখিয়েছেন। আমরা সেইভাবেই কাজ করে যাচ্ছি।

করোনায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সহায়তার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রিকশার পেছনে যারা পেইন্টিং করে জীবিকা নির্বাহ করতো, তাদের খোঁজ করে সাহায্য দেওয়া হয়েছে। আমাদের যেসব আর্টিস্ট যন্ত্রসংগীতের সঙ্গে আছে, যাদের কোনো স্থায়ী চাকরি নাই, তাদের আমরা সাহায্য করেছি। বিভিন্নভাবে আমরা সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে