নিবার্চনের জন্য প্রস্তুত ধমির্ভত্তিক দলগুলো

প্রকাশ | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

যাযাদি রিপোটর্
নিবার্চনকালীন সরকার, ইভিএম (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) ও সেনা মোতায়েনসহ নানা বিষয়ে সংশয় থাকলেও একাদশ জাতীয় সংসদ নিবার্চনের জন্য প্রস্তুতি শুরু করেছে ধমির্ভত্তিক দলগুলো। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি দল প্রাথমিকভাবে তাদের প্রাথীর্ তালিকাও চ‚ড়ান্ত করেছে। ভোটের জন্য সারাদেশের বিভিন্ন এলাকায় চালাচ্ছে জনসংযোগও। জানা গেছে, নিবার্চনকালীন সরকারব্যবস্থা নিয়েই সংশয় বেশির ভাগ ইসলামী দলের। নিবার্চনের আগে বতর্মান সংসদ ভেঙে অন্তবর্র্তীর্কালীন সরকারের অধীনে নিবার্চন আয়োজনের দাবিও জানিয়েছে বেশ কয়েকটি দল। ইসলামী দলগুলোর নেতারা মনে করেন, দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নিবার্চন সম্ভব নয়। বতর্মান সংসদ বহাল থাকলে নিবার্চন প্রভাবমুক্ত হবে না। তাদের দাবি, নিবার্চনে সব দলের সমান সুযোগ সৃষ্টি করতে ভ‚মিকা রাখতে হবে নিবার্চন কমিশনকে। জাতীয় নিবার্চনে ৩০০ আসনের প্রাথীর্ তালিকা তৈরি করেছে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। স্থানীয় নিবার্চনে ভালো ফল করায় এককভাবেই সারাদেশে ৩০০ আসনে নিবার্চনের প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। বিভ্ন্নি জোটে যাওয়ার প্রস্তাব থাকলেও ইসলামী আন্দোলন তাতে সাড়া দিচ্ছে না। সম্প্রতি ইভিএম ব্যবহার নিয়েও আপত্তি তুলেছে তারা। এ প্রসঙ্গে দলটির মহাসচিব মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেন, ‘এককভাবে আগামী জাতীয় নিবার্চনে অংশ নিতে ইসলামী আন্দোলন প্রস্তুতি নিচ্ছে। সম্ভাব্য প্রাথীর্ তালিকা চ‚ড়ান্ত হয়েছে। আমরা আশাবাদী।’ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেন, ‘নিবার্চনকালীন সরকার গঠনে জাতীয় ঐকমত্য প্রয়োজন। নিবার্চনের আগে বতর্মান সংসদ ভেঙে না দিলে মানুষের কোনো আস্থা থাকবে না। দলীয় সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নিবার্চন সম্ভব নয়। এ বিষয়গুলো নিয়ে আমরা কথা বলছি। ভোট ডাকাতি, কেন্দ্র দখল, কারচুপি ও অনিয়ম না ঘটলে ইসলামী আন্দোলন জাতীয় নিবার্চনে ভালো ফল পাবে।’ দেশে ধমির্ভত্তিক দলগুলোর মধ্যে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে রয়েছে খেলাফত মজলিস ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম। তবে আন্তঃকোন্দলে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম এখন দুভাগ। এই দুটি দলেরই প্রাথীর্ তালিকা চ‚ড়ান্ত হবে জোটের মধ্যে আসন বণ্টনের পর। যদিও দুটি দল নিজেদের মতো নিবার্চনী প্রস্তুতি নিচ্ছে। জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের দুটি অংশই আগামী নিবার্চন নিয়ে কাজ করছে। একটি অংশের নেতৃত্বে আছেন নূর হোসাইন কাসেমী, অন্য অংশে মুফতি ওয়াক্কাস। নিবার্চনে প্রাথীর্ দেয়া প্রসঙ্গে মাওলানা নূর হোসাইনের নেতৃত্বাধীন অংশের প্রচার সম্পাদক মাওলানা জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘আমরা দলীয়ভাবে প্রাথীর্ ঠিক করছি। তবে একইসঙ্গে জোটের সঙ্গে সমঝোতার ব্ষিয়ও রয়েছে। এ বিষয়গুলো ঠিক হলে চ‚ড়ান্ত প্রাথীর্ তালিকা প্রকাশ করা হবে। জোটের সঙ্গে আলাপ আলোচনার ভিত্তিতে সব কিছু চূড়ান্ত হবে।’ তিনি বলেন, ‘নিবার্চন কমিশন তফসিল ঘোষণার মাত্র দুই মাস আগে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে নিবার্চন বিতকির্ত হবে।’ বিএনপি-আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক জোটের বাইরে ছিল বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। তবে গত ১১ আগস্ট নিবার্চনী সমঝোতায় জাতীয় পাটির্র নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। দলটির মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, ‘জাতীয় পাটির্র সঙ্গে আমাদের জোট নিবার্চনকেন্দ্রিক। ইসলামী দলগুলো নিয়ে জোট গঠনের জন্য অনেক চেষ্টা করেছি, কিন্তু সম্ভব হয়নি। জোটের শরিকদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেই নিবার্চনের সবকিছু চ‚ড়ান্ত করা হবে।’ দশম জাতীয় সংসদ নিবার্চন নিয়ে আশাবাদী ইসলামী ঐক্যজোট। দলটি দুই যুগ ধরে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে ছিল। ২০১৭ সালের ৭ জানুয়ারি বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ছেড়ে ‘ইসলামী ঐক্য’ গড়ার কথা বললেও তা গড়তে পারেনি। তবে দলটির সঙ্গে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সম্পকর্ দৃঢ় হয়েছে বলে জানা গেছে। আগামী সংসদ নিবার্চন প্রসঙ্গে ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামী বলেন, ‘আমরা এককভাবেই নিবার্চনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। প্রায় ৩০০ আসনেই প্রাথীর্ তালিকা করা হচ্ছে। তবে ইসলামী দলগুলোর মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে কোনো ঐক্য হয় কিনা, সেটিও দেখার বিষয়।’