পৌরসভা নির্বাচন

সহিংসতার শঙ্কা নিয়ে ৬০ পৌরসভায় ভোট আজ

সহিংসতার শঙ্কা নিয়ে ৬০ পৌরসভায় ভোট আজ

উৎসাহ-উদ্দীপনার পাশাপাশি রক্তক্ষয়ী সংঘাত-সহিংসতার আতঙ্ক নিয়ে আজ দ্বিতীয় ধাপে দেশের ৬০ পৌরসভায় ভোট। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত টানা আট ঘণ্টা চলবে নির্বাচনী লড়াই। এ জন্য সব প্রস্তুতি শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাঠে বিপুল সংখ্যকর্ যাব-পুলিশ ও আনসারের পাশাপাশি বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

তবে গত কয়েকদিনে ঝিনাইদহের শৈলকুপা, রাজশাহীর বাঘা, নরসিংদীর মনোহরদী, শেরপুর, বাগেরহাটের মংলা ও গাজীপুরের শ্রীপুরসহ প্রায় দুই ডজন পৌরসভা এলাকায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন পৌর এলাকায় প্রতিপক্ষের নির্বাচনী ক্যাম্প আগুন-ভাঙচুর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও লুটপাটেরও অসংখ্য ঘটনা ঘটায় সাধারণ ভোটারদের অনেকেই ভোটকেন্দ্রে যেতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ পরিস্থিতি ভোটকেন্দ্রে ভোটারের উপস্থিতি যথেষ্ট কম হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী দ্বিতীয় ধাপের এ নির্বাচনে ৬১টি পৌরসভায় ভোটগ্রহণের কথা থাকলেও নীফামারীর সৈয়দপুরে মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী আমজাদ হোসেন সরকারের মৃতু্যতে সেখানে ভোটগ্রহণ স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এছাড়া পাবনার সুজানগরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও পরে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়। অন্যদিকে প্রথম ধাপে স্থগিত হওয়া গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার নির্বাচনেও ভোটগ্রহণ হবে আজ। এদিকে পিরোজপুর, নারায়ণগঞ্জের তারাবো ও পাবনার ভাঙ্গুড়া পৌরসভায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।

এবার মোট ২৯টি পৌরসভায় ভোটগ্রহণ হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম পদ্ধতিতে। বাকি ৩১টিতে ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাররা নির্বাচন করবেন তাদের পৌরপিতা এবং সাধারণ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনী লড়াইয়ে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ ৯ দলের মেয়রপ্রার্থী অংশ নিচ্ছে। পাশাপাশি বেশকিছু স্বতন্ত্র প্রার্থীও মেয়র পদে লড়ছেন। দ্বিতীয় ধাপে মেয়র পদে ২১৬ জন, সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৭২৪ জন এবং সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২ হাজার ২৩২ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নির্বাচনী পরিবেশ-পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি,র্ যাব, পুলিশ ও আনসারসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বৃহস্পতিবার থেকেই টহল শুরু করেছে। সঙ্গে রয়েছে নির্বাহী ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। ভোটের পরের দিন পর্যন্ত চার স্তরের নিরাপত্তা থাকবে।

ইভিএমে ভোটের ২৯ পৌরসভা : সিরাজগঞ্জের কাজিপুর, নারায়ণগঞ্জের তারাবো, শরীয়তপুরের শরীয়তপুর পৌরসভা, মাগুরার মাগুরা পৌরসভা, ঢাকার সাভার, দিনাজপুরের বীরগঞ্জ, নওগাঁর নজিপুর, পাবনার ফরিদপুর, রাজশাহীর কাকনহাট ও আড়ানী, কুষ্টিয়ার কুমারখালী, ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া, নাটোরের নলডাঙ্গা, বগুড়ার সারিয়াকান্দি ও সান্তাহার, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর, পিরোজপুরের পিরোজপুর পৌরসভা, নেত্রকোনার কেন্দুয়া, মেহেরপুরের গাংনী, ঝিনাইদহের শৈলকুপা, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার খাগড়াছড়ি পৌরসভা, টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী, কুমিলস্নার চান্দিনা, ফেনীর দাগনভূঞা, কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর, নরসিংদীর মনোহরদী, নোয়াখালীর বসুরহাট, বাগেরহাটের মোংলাপোর্ট এবং গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভা।

ব্যালটে ভোটের ৩১ পৌরসভা : চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ, নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ, কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা, মিরপুর ও কুষ্টিয়া পৌরসভা, মৌলভীবাজারের কুলাউড়া ও কমলগঞ্জ, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ ও গাইবান্ধা পৌরসভা, দিনাজপুরের বিরামপুর ও দিনাজপুর, পাবনার ভাঙ্গুড়া, সাঁথিয়া ও ঈশ্বরদী, সুনামগঞ্জের ছাতক ও সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জের মাধবপুর ও নবীগঞ্জ, ফরিদপুরের বোয়ালমারী, বগুড়ার শেরপুর, রাজশাহীর ভবানীগঞ্জ, সিরাজগঞ্জের উলস্নাপাড়া, বেলকুচি, রায়গঞ্জ ও সিরাজগঞ্জ, নাটোরের গোপালপুর ও গুরুদাসপুর, বান্দরবান পার্বত্য জেলার লামা, কিশোরগঞ্জের কিশোরগঞ্জ এবং ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা পৌরসভা।

ইসি সূত্র জানায়, নির্বাচনে মোট ভোটার ২২ লাখ ৪০ হাজার ২২৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১১ লাখ ৮ হাজার ৪৩১ এবং নারী ভোটার ১১ লাখ ৩১ হাজার ৮৩১ জন। এবারের পৌরসভা নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা এক হাজার ৮০টি, ভোটকক্ষ ৬ হাজার ৫০৮টি।

গত ৩ ডিসেম্বর দ্বিতীয় ধাপের ৬১টি পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল ২০ ডিসেম্বর। ২২ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই এবং ২৯ ডিসেম্বর প্রার্থীতা প্রত্যাহারের পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আজ।

উলেস্নখ্য, বর্তমানে দেশে ৩২৯টি পৌরসভা রয়েছে। প্রথম ধাপে ২৫ পৌরসভায় ভোটগ্রহণ হয় গত ২৮ ডিসেম্বর। প্রথম ধাপের নির্বাচনে ভোট পড়ে ৬৫ দশমিক ৬ শতাংশ। এরপর গত ২ ডিসেম্বর দ্বিতীয় ধাপের ৬১টি পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়।

এদিকে গত ১৪ ডিসেম্বর তৃতীয় ধাপের ৬৪টি পৌরসভায় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ৩০ জানুয়ারি এসব পৌরসভায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সর্বশেষ গত ৩ জানুয়ারি ৫৬ পৌরসভার নির্বাচনের মধ্য দিয়ে চতুর্থ ধাপের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ১৪ ফেব্রম্নয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এসব পৌরসভায়। এ নিয়ে চার ধাপে মোট ২০৬টি পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে ইসি।

\হ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে