চলবে এক সপ্তাহ

পাঁচ হাসপাতালে টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ

পাঁচ হাসপাতালে টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ

বুধবার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে করোনা টিকাদান উদ্বোধনের পর আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর পাঁচটি হাসপাতালে টিকার ড্রাই রান বা পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হচ্ছে। কুর্মিটোলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ছাড়াও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে এক সপ্তাহ ড্রাই রান টিকাদান

\হচলবে। এরপর আগামী ৭ ফেব্রম্নয়ারি থেকে সরকার দেশব্যপাী জাতীয়ভাবে করোনা টিকাদান কর্মচসূচি বাস্তবায়ন করবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন গতকাল টিকাদান কর্মসূচি শুরুর মাধ্যমে করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। একই সঙ্গে টিকার মাধ্যমে করোনা মহামারি মোকাবিলার বৈশ্বিক প্রচেষ্টায় যুক্ত হলো বাংলাদেশ।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, করোনাভাইরাসের টিকদানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে। আজ সকাল সাড়ে আটটায় বিএসএমএমইউ'র কনভেনশন হ পৃষ্ঠা ২ কলাম ৬

সেন্টারে প্রায় ২০০ জনকে টিকা দেওয়া হবে। এরপর ধারাবাহিকভাবে প্রত্যেক বুথে ১৫০ জনকে দেওয়া হবে। এভাবে আটটি বুথে দৈনিক ১২০০ মতো টিকা প্রদান করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে টিকা সংরক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে।

এছাড়া আজকে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে ৫০ জনকে টিকা প্রয়োগ করা হবে। এ লক্ষ্যে ১০ জন ডাক্তারসহ ২০ জন সেবিকাকে টিকা প্রদানে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে করোনা টিকা দিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের নিচতলা (আন্ডারগ্রাউন্ড) প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সেখানেই অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের টিকা দেওয়া হবে। এ জন্য চারটি বুথ প্রস্তুত করা হয়েছে। টিকা নেওয়ার আগে এবং পরে বিশ্রামের জন্য আলাদা বসার জায়গা এবং টিকা নেওয়ার পর বাধ্যতামূলক বিশ্রামে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিটি বুথে দু'জন নার্স এবং চারজন স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করবেন। এই হিসেবে চারটি বুথের জন্য আটজন নার্স এবং ১৬ জন স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্বে থাকবেন। প্রতিটি বুথে ২৫ জনকে টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢামেক।

মুগদা জেনারেল হাসপাতালে টিকার ডোজ দেয়ার জন্য পুরো প্রক্রিয়াকে ৩ ভাগে সাজানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে টিকার সংরক্ষণ, টিকার ডোজ প্রদান কেন্দ্র এবং ডোজ প্রদানের পর পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা কার্যক্রম। সর্বপ্রথম রয়েছে টিকা পাওয়ার পরই সেগুলোর সংরক্ষণ। বিশেষ শীতল সংরক্ষণাগার এবং টিকার মান যে কোনো অবস্থায় প্রশ্নে মুখে না পড়ে তা নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া গতকালের মতো আজকেও কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে স্বাস্থ্যকর্মীদের টিকা দেওয়া হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পাঁচটি হাসপাতালে টিকা প্রয়োগের পর আগামী ৭ ফেব্রম্নয়ারি ৬৪ জেলায় ব্যাপকভিত্তিক টিকাদান শুরু হবে। করোনার টিকাদান কতদিন চলবে, তা এখনো কেউ নিশ্চিত করতে পারেনি। তবে টিকার সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মোকাবিলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশের মানুষকে টিকা পেতে অনলাইনে নিবন্ধনের জন্য অ্যাপ ব্যবহার করতে হবে। যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র নেই, তারাও টিকাদান কেন্দ্রে যোগাযোগ করে তালিকাভুক্ত হতে পারবেন। করোনার টিকা নিতে আগ্রহী ব্যক্তিদের নিবন্ধন করতে হবে 'সুরক্ষা' নামক ওয়েব পোর্টালে (িি.িংঁৎড়শশযধ.মড়া.নফ) অ্যান্ড্রয়েড বা অ্যাপল পেস্ন-স্টোর থেকে সুরক্ষা মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করেও করা যাবে নিবন্ধন।

করোনার টিকা প্রয়োগের ব্যাপকতা জানতে চাইলে বিশেষজ্ঞরা যায়যায়দিনকে বলেন, মহামারিতে মৃতু্য শোক আর সংকটের একটি বছর পেরিয়ে এসে টিকা দেওয়ার মধ্য দিয়েই করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। তবে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্ব এখনো করোনা মহামারি পরিস্থিতির মধ্যেই আছে। কোনো কোনো দেশে পুনরায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। কিছু দেশে বাধ্যতামূলকভাবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে লকডাউন দেওয়া হচ্ছে। কোনো কোনো দেশে করোনাভাইরাসের নতুন স্ট্রেইনের (ধরন) বিস্তার দেখা যাচ্ছে। এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের মানুষকে টিকার আওতায় আনা তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।

বাংলাদেশ সরকার, বেক্সিমকো ফার্মা ও সেরাম ইনস্টিটিউটের মধ্যকার চুক্তি অনুযায়ী সরকার সেরাম ইনস্টিটিউটের কাছ থেকে তিন কোটি টিকা কিনছে। বেক্সিমকো এই টিকা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে। গত সোমবার এই টিকার প্রথম চালান দেশে আসে। প্রথম চালানে এসেছে ৫০ লাখ ডোজ। এভাবে আরও পাঁচটি চালান আসার কথা। তার আগে গত বৃহস্পতিবার ভারতের উপহার হিসেবে দেশে ২০ লাখ ডোজ টিকা আসছে।

এর আগে ২০ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে টিকা বিষয়ক এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য সচিব আব্দুল মান্নান কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে 'ড্রাই রান' বা টেস্ট মহড়ার মাধ্যমে দেশে করোনা টিকাদান কার্যক্রমের কথা জানান। উদ্বোধনের পর পাঁচটি হাসপাতালে ৪শ' থেকে ৫শ' জনকে টিকা দেওয়ার কথা বলেন। এরপর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রটোকল অনুযায়ী তাদের পর্যবেক্ষণ করা হবে, তাদের মধ্যে কোনো ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয় কিনা সেটা দেখা হবে।

ভারত সরকার কর্তৃক উপহার দেওয়া ২০ লাখ ডোজ ও ক্রয়কৃত ৫০ লাখ ডোজসহ প্রথম ধাপের ৭০ লাখ টিকার ভেতরে ৬০ লাখ টিকা দেওয়া হবে প্রথম মাসে। এরপর বাকি টিকাগুলো প্রাপ্তি সাপেক্ষে দ্বিতীয় মাসে দেওয়া হবে ৫০ লাখ, তৃতীয় মাসে দেওয়া হবে আবার ৬০ লাখ দেওয়া হবে। প্রথম মাসে টিকা পাওয়া ব্যক্তিদের দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে তৃতীয় মাসে। এ হিসাবে ভ্যাকসিন বিতরণ পরিকল্পনা ইতোমধ্যে করা হয়ে গেছে। কিনে নেওয়া টিকা দেশে আসার পর ঢাকা থেকে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস চুক্তি অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন জেলাতে টিকা পৌঁছে দেবে। ইতোমধ্যে ভ্যাকসিনের জন্য সিরিঞ্জসহ সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। টিকাদানকারীদের প্রশিক্ষণ শেষ পর্যায়ে আগামী ৩০ জানুয়ারি এ প্রশিক্ষণ শেষ হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে