২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্ত ৩৯৯ ও মৃতু্য ১৮

করোনায় মৃতু্য শনাক্ত দুটিই বেড়েছে

করোনায় মৃতু্য শনাক্ত দুটিই বেড়েছে

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে আরও ১৮ জনের মৃতু্য হয়েছে। এ নিয়ে দেশে এই মহামারিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮ হাজার ৩৭৪ জনে দাঁড়াল। এই সময়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন আরও ৩৯৯ জন। ফলে দেশে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৫ লাখ ৪৪ হাজার ১১৬ জন হলো।

এর আগে সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে সাতজনের মৃতু্যর কথা বলা হয়। এই সময়ে নতুন রোগী শনাক্ত হন ৩৬৬ জন। সে হিসাবে গত ২৪ ঘণ্টায় মৃতু্য ও শনাক্ত দুটোই বেড়েছে।

প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত করোনাভাইরাস বিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সারাদেশে করোনাভাইরাসের সর্বশেষ সংক্রমণ পরিস্থিতি পর্যালোচনায় সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ১১৭টি আরটি-পিসিআর ল্যাব, ২৯টি জিন-এক্সপার্ট ল্যাব ও ৬৮টির্ যাপিড অ্যান্টিজেন ল্যাবে অর্থাৎ ২১৪টি ল্যাবরেটরিতে ১২ হাজার ৬৯৮টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে পূর্বে জমা কিছু স্যাম্পলসহ মোট ১২ হাজার ৭৪৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এ নিয়ে মোট নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা দাঁড়াল ৩৯ লাখ ৭১ হাজার ৫২৪টি। সরকারি ব্যবস্থাপনায় এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৩০ লাখ ৬৯ হাজার ১৬২টি। আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হয়েছে ৯ লাখ ২ হাজার ৩৬২টি।

এদিকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ও বাড়িতে উপসর্গবিহীন রোগীসহ গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮২৮ জন সুস্থ হয়েছেন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৪ লাখ ৯২ হাজার ৭৮৭ জন।

বিজ্ঞপ্তির ভাষ্য অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার ৩ দশমিক ১৩ শতাংশ। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯০ দশমিক শূন্য ৫৮ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় মৃতু্যর হার ১ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

মঙ্গলবার দেশে করোনায় ১০ জন পুরুষ ও ৮ জন নারীর মৃতু্য হয়। ১৮ জনের মধ্যে ১৬ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ও ২ জন বাসায় মারা যান। দেশে এ পর্যন্ত করোনায় মোট মারা গেছেন ৮ হাজার ৩৭৪ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ৬ হাজার ৩৩৫ জন (৭৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ) ও নারী ২ হাজার ৩৯ জন (২৪ শূন্য ২৫ শতাংশ)।

মৃতদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২৪ ঘণ্টায় মৃত ১৮ জনের মধ্যে বিশোর্ধ্ব একজন, ত্রিশোর্ধ্ব চাজেন, চলিস্নশোর্ধ্ব একজন, পঞ্চাশোর্ধ্ব দুইজন এবং ষাটোর্ধ্ব ১০ জন রয়েছেন। এদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১২ জন, চট্টগ্রামে দুইজন, রাজশাহীতে দুইজন, খুলনায় একজন ও রংপরের একজন মারা যান।

দেশে এ পর্যন্ত করোনায় মারা যাওয়া ৮ হাজার ৩৭৪ জনের মধ্যে ৬ হাজার ৩৩৫ জনই পুরুষ এবং ২ হাজার ৩৯ জন নারী।

তাদের মধ্যে ৪ হাজার ৬৫২ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি। এছাড়াও ২ হাজার ৭৯ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ৯৫১ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, ৪২১ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, ১৭০ জনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে, ৬৪ জনের বয়স ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে এবং ৩৭ জনের বয়স ছিল ১০ বছরের কম।

এর মধ্যে ৪ হাজার ৬৮৬ জন ঢাকা বিভাগের, ১ হাজার ৫২৯ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ৪৭৮ জন রাজশাহী বিভাগের, ৫৫৯ জন খুলনা বিভাগের, ২৫৩ জন বরিশাল বিভাগের, ৩১০ জন সিলেট বিভাগের, ৩৬৩ জন রংপুর বিভাগের এবং ১৯৬ জন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল গত বছর ৮ মার্চ; তা সোয়া ৫ লাখ পেরিয়ে যায় গত ১৪ জানুয়ারি। এর মধ্যে গত বছরের ২ জুলাই ৪ হাজার ১৯ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়, যা একদিনের সর্বোচ্চ শনাক্ত।

প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর গত বছরের ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃতু্যর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ বছর ২৩ জানুয়ারি তা আট হাজার ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে গত বছরের ৩০ জুন একদিনেই ৬৪ জনের মৃতু্যর খবর জানানো হয়, যা একদিনের সর্বোচ্চ মৃতু্য।

বিশ্বে শনাক্ত কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা ইতোমধ্যে ১১ কোটি ১৭ লাখ পেরিয়েছে, মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২৪ লাখ ৭৫ হাজার। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় বিশ্বে শনাক্তের দিক থেকে ৩৩তম স্থানে আছে বাংলাদেশ, আর মৃতের সংখ্যায় ৩৯তম অবস্থানে রয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে