স্বজনের অশ্রম্নজলে বিডিআর বিদ্রোহে নিহতদের স্মরণ

স্বজনের অশ্রম্নজলে বিডিআর বিদ্রোহে নিহতদের স্মরণ
বৃহস্পতিবার বনানীর সামরিক কবরস্থানে পিলখানা বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় নিহত সেনাকর্মকর্তাদের শ্রদ্ধা জানাতে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন এক স্বজন -যাযাদি

বৃহস্পতিবার সকালে দাদির হাত ধরে বনানী সামরিক কবরস্থানে এসেছিল শিশু সাদাকাত। অশ্রম্ন সজল চোখে বাবার কবরের পাশে অনেকটাই নিশ্চুপ দাঁড়িয়েছিল। তার কাছে বাবা মানে এখানকার সামরিক কবরস্থানের ৬৪৬ নম্বর কবর। বাবা শহীদ মেজর মোহাম্মদ মমিনুল ইসলাম সরকারের সঙ্গে সুখের কোনো স্মৃতি নেই তার। তবে বাবা-ছেলের সাক্ষাৎ না হলেও বড় হয়ে বাবার মতই হতে চায় শিশু সাদাকাত। তবে তার দাদির কথায় ছিল ভিন্নমাত্রার হতাশা আর অজানা ভয়।

শুধু শহীদ মেজর মমিনুলের মা-ই নন, এক যুগে বিডিআর হত্যাযজ্ঞের বিচার সম্পন্ন না হওয়ায় বিডিআর বিদ্রোহে স্বজন হারানো অনেকের চোখেই ছিল হতাশার ছায়া। প্রতিবারের মতো এবারও নৃশংস হত্যাযজ্ঞের এই দিনটিকে জাতীয়ভাবে উদ্‌যাপন আর ঘটনার নেপথ্যে কারা; তা বের করতে দ্রম্নত সুষ্ঠু তদন্ত করার দাবি ছিল সবার মুখে। তবে এসব কিছু ছাপিয়ে স্বজন হারানোদের কান্নায় সামরিক কবরস্থানের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। ব্যথাভরা হৃদয়ে স্বজনদের কবরে কেউ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান, কেউ ছলছল চোখে ফাতেহা পাঠ করে নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।

এর আগে বনানী সামরিক কবরস্থানে শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে শ্রদ্ধা জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এসএম সালাহ উদ্দিন ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে শ্রদ্ধা জানান তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল নকিব আহমেদ। এ ছাড়া, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, ভারপ্রাপ্ত নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম আবু আশরাফ, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত এবং বিজিবির মহাপরিচালক। এক মিনিট নীরবতা পালন ও সবশেষে দোয়ার মাধ্যমে শেষ হয় সেনাবাহিনী আয়োজিত ১২তম শাহাদতবার্ষিকীর আনুষ্ঠানিকতা।

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রম্নয়ারি পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহে নিহত হন ৫৭ সেনা কর্মকর্তাদের কয়েকজনের লাশ গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হলেও বেশির ভাগ সেনা কর্মকর্তার মরদেহ দাফন করা হয় রাজধানীর বনানীর সামরিক কবরস্থানে।

দিনটি উপলক্ষে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) কোরআনখানি, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে। বিজিবির সব সেক্টর, প্রতিষ্ঠান ও ইউনিটে বিজিবির পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয় এবং বিজিবির সদস্যরা দিবসটি উপলক্ষে কালো ব্যাজ পরিধান করেন।

নিহতদের বিদেহী আত্মার শান্তির জন্য বিজিবি কেন্দ্রীয় মসজিদ, ঢাকা সেক্টর মসজিদ ও পিলখানার বর্ডার গার্ড হাসপাতাল মসজিদে শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বিজিবির কেন্দ্রীয় মসজিদে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। অন্যদের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব, বিজিবি মহাপরিচালক, শহীদদের আত্মীয়স্বজন, পিলখানায় কর্মরত সব কর্মকর্তা দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে যোগ দেবেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে