বিশ্বের প্রতি চারজন পার্লামেন্ট সদস্যের একজন নারী

বিশ্বের প্রতি চারজন পার্লামেন্ট সদস্যের একজন নারী

৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘের অংশীদারি প্রতিষ্ঠান ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের প্রতি চারজন পার্লামেন্ট সদস্যের একজন নারী। সম্প্রতি পার্লামেন্টে নারীর উপস্থিতি বাড়লেও এখনো নারী-পুরুষের ব্যবধান অনেক বেশি। এ ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ সমতায় পৌঁছতে আরও ৫০ বছর লাগতে পারে। গত শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘ কার্যালয়ে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্যমতে, আগের বছরের তুলনায় হ

\হবিশ্বে ২০২০ সালে পার্লামেন্টে নারী সদস্যের সংখ্যা শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্য দিয়ে পার্লামেন্টে নারীর সংখ্যা ২৫ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছেছে।

প্রতিবেদনটির প্রকাশনা অনুষ্ঠানে আইপিইউর মহাসচিব মার্টিন চুনগং বলেন, 'আমরা আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি যে, প্রথমবারের মতো বিশ্বে পার্লামেন্টে নারীর সংখ্যা এক-চতুর্থাংশ ছাড়াল।' এ সময় তিনি পার্লামেন্টে নারী সদস্য বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হওয়ায় রুয়ান্ডা, কিউবা ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ধন্যবাদ জানান। বর্তমানে এই তিনটি দেশের পার্লামেন্টে অর্ধেক কিংবা এর বেশি নারী সদস্য রয়েছেন। রুয়ান্ডায় দুই কক্ষবিশিষ্ট আইনসভার নিম্নকক্ষে নারী সদস্যের হার ৬১ দশমিক ৩ শতাংশ।

উচ্চকক্ষে ৩৮ দশমিক ৫ শতাংশ। কিউবা ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে যথাক্রমে ৫৩ দশমিক ৪ শতাংশ ও ৫০ শতাংশ।

তবে পার্লামেন্টে নারী-পুরুষ বৈষম্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মার্টিন চুনগং বলেন, পার্লামেন্টে নারীর উপস্থিতি বর্তমানে যে হারে বাড়ছে, এতে নারী-পুরুষের সমতায় পৌঁছতে লাগবে আরও ৫০ বছর। এটা গ্রহণযোগ্য নয়।

আইপিইউর প্রতিবেদনের তথ্যমতে, নিউজিল্যান্ডে গত বছরের সাধারণ নির্বাচনের পর গঠিত নতুন পার্লামেন্টে নারী সদস্যের হার দাঁড়িয়েছে ৪৮ শতাংশের বেশি। অস্ট্রেলিয়ায় এই হার ৩১ শতাংশ। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে নারী সদস্যের হার ৩৩ দশমিক ৯ শতাংশ, উচ্চকক্ষে প্রায় ২৮ শতাংশ। জার্মানির নিম্নকক্ষে এই হার ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ, উচ্চকক্ষে ৩৬ শতাংশের কিছু বেশি।

অন্যদিকে কানাডার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে নারী সদস্যের হার ২৯ দশমিক ৬ শতাংশ। তবে উচ্চকক্ষে তা ৪৯ শতাংশের বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে নারী সদস্যের হার ২৭ দশমিক ৩ শতাংশ, উচ্চকক্ষ সিনেটে ২৫ শতাংশ। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ভাইস প্রেসিডেন্ট হয়েছেন একজন নারী। আর চীন ও সৌদি আরবের পার্লামেন্টে নারী সদস্যের হার যথাক্রমে ২৪ দশমিক ৯ শতাংশ ও ১৯ দশমিক ৯ শতাংশ।

ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ

দক্ষিণ এশিয়ায় পার্লামেন্টে নারী সদস্যের হার ১৭ শতাংশের কিছু বেশি। দেশ হিসেবে নেপালের পার্লামেন্টে নারী সদস্য সবচেয়ে বেশি। দেশটিতে নিম্নকক্ষে ৩২ দশমিক ৭ শতাংশ ও উচ্চকক্ষে ৩৭ দশমিক ৯ শতাংশ নারী সদস্য। আফগানিস্তানের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে নারী সদস্যের হার ২৭ শতাংশ, উচ্চকক্ষে তা প্রায় ২৮ শতাংশ।

আইপিইউর প্রতিবেদন বলছে, বাংলাদেশের বর্তমান সংসদে ৩৫০ জন সদস্যের মধ্যে ৭৩ জন নারী, যা প্রায় ২০ দশমিক ৯ শতাংশ। এই হিসাবে ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের পার্লামেন্টের নিম্ন ও উচ্চকক্ষে নারী সদস্যের হার যথাক্রমে ২০ দশমিক ২ শতাংশ ও ১৯ দশমিক ২ শতাংশ। ভারতে এই হার আরও কম। নিম্নকক্ষে নারী সদস্যের হার ১৪ দশমিক ৪ শতাংশ, উচ্চকক্ষে ১১ দশমিক ২ শতাংশ।

অন্যদিকে ভুটানের নিম্নকক্ষে নারী সদস্যের উপস্থিতি ১৪ দশমিক ৯ শতাংশ ও উচ্চকক্ষে ১৬ শতাংশ। এক কক্ষবিশিষ্ট আইনসভার দেশ শ্রীলংকা ও মালদ্বীপে যথাক্রমে ৫ দশমিক ৪ শতাংশ ও ৪ দশমিক ৬ শতাংশ নারী সদস্য রয়েছেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে