ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ অব্যাহত, গুলিস্তানে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া

ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ অব্যাহত, গুলিস্তানে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া

মার্কেট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবিতে লকডাউনের তৃতীয় দিনেও রাজধানীসহ সারাদেশে ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। রাজধানীতে কয়েকটি স্থানে ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন। ব্যবসায়ীদের দাবি, সব কিছু খোলা রেখে লকডাউন করে শুধু দোকানপাট বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফলে শুধু তারাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বইমেলা চললে, অফিস-আদালত, কল-কারখানা চললে শুধু তাদের প্রতিষ্ঠান কেন বন্ধ থাকবে এমন প্রশ্ন তুলেছেন।

বুধবার রাজধানীর গুলিস্তান এলাকায় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিআরটিসি কাউন্টারের সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে। এতে কেউ হতাহত হয়নি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান খুলে দেওয়ার দাবিতে ঢাকা রেডিমেড গার্মেন্ট ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির ব্যানারে দোকানিরা ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেটের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। এরপর তারা বিআরটিসি কাউন্টারের সামনের সড়ক অবরোধ করার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে দোকানিরা ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। একপর্যায়ে পুলিশ তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করে। পরে দোকানিরা ওই এলাকা ছেড়ে চলে যান।

ঢাকা রেডিমেড গার্মেন্ট ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি আবদুল মান্নান দুয়েক দিনের মধ্যে দোকান খুলতে না দিলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন। এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, প্রয়োজনে নিজেরাই দোকান খুলবেন। ধুঁকে ধুঁকে মরার চেয়ে একবারে মরাই অনেক ভালো। স্বাস্থ্যবিধি

\হমেনে দোকান চালু রাখতে সরকারের কাছে অনুরোধ জানান।

স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে শপিংমল-দোকানপাট খুলে দেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন এবং বিক্ষোভ মিছিল করছেন বঙ্গবাজার কমপেস্নক্সের ব্যবসায়ীরা। মানববন্ধনে ব্যবসায়ীরা বলেন, গত বছর করোনায় লকডাউন থাকায় বঙ্গবাজার ব্যবসায়ীদের শত কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। এবারও লকডাউনের অজুহাতে মার্কেট বন্ধ থাকলে সবাইকে পথে বসতে হবে। এখন স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে মার্কেট খুলে দিতে হবে। এক্ষেত্রে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ করে দিতে পারে সরকার। ব্যবসায়ীরা বলেন, ঢাকাসহ দেশের সব সিটি করপোরেশন এলাকায় গণপরিবহণ চলছে। কলকারখানা, গার্মেন্টও খোলা রয়েছে। তাহলে কোন যুক্তিতে মার্কেটে বন্ধ থাকবে।

বুধবার রাজধানীর বসুন্ধরা ও ইস্টার্ন পস্নাজা শপিং কমপেস্নক্সসহ বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে মার্কেট খুলে দেওয়ার দাবিতে সকাল থেকেই ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা বিভিন্ন মার্কেটের সামনে সমবেত হতে থাকেন। এ সময় তারা 'স্বাস্থ্যবিধি মানব, দোকানপাট খুলব', 'আমাদের দাবি মানতে হবে, দোকানপাট খুলতে হবে', 'গণপরিবহণ যদি চলবে, মার্কেট কেন বন্ধ থাকবে' ইত্যাদি নানা সেস্নাগান দিয়ে তাদের দাবি জানাতে থাকেন।

বসুন্ধরা শপিং কমপেস্নক্সের সামনের সড়কে ব্যবসায়ী-কর্মচারীদের বাধার মুখে ক্ষণিকের জন্য যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশ এসে দ্রম্নত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং তাদের সড়ক অবরোধ থেকে বিরত করে। নিউমার্কেট, গাউছিয়া, এলিফ্যান্ট রোডসহ বিভিন্ন মার্কেটের সামনে কর্মসূচি না থাকলেও অসংখ্য দোকান মালিক ও কর্মচারীদের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বলেন, সামনে রমজান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে মার্কেট খুলে দেওয়া হলে তারা বিপুল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি থেকে রক্ষা পাবেন।

দুপুরের পর মিরপুর-১০ নম্বর শাহ আলী পস্নাজারের সামনে মানববন্ধন করেন ব্যবসায়ীরা। শাহ আলী পস্নাজা মার্কেটের ম্যানেজার মো. আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, গত বছর লকডাউনে ব্যবসায়ীরা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এখনো তারা সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেনি। লকডাউনে সকাল থেকে গাড়ি চলছে, মেলা হচ্ছে। অন্যান্য সেক্টরের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে মার্কেট খুলতে দেওয়া হোক। যদি এ বছরও রমজানের আগে মার্কেট খুলতে না পারি তাহলে বউ-বাচ্চা নিয়ে আমাদের রাস্তায় নামা অথবা না খেয়ে মরা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।

কাফরুল থানার পিআই মোহাম্মদ মজিবুর রহমান বলেন, ব্যবসায়ীরা মার্কেট খোলার জন্য মানববন্ধন করতে শাহ আলী পস্নাজার পূর্ব পাশের রাস্তায় অবস্থান নেন। সরকারি নির্দেশনায় সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন করার নিষেধাজ্ঞা থাকায় মানববন্ধন করতে দেওয়া হয়নি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে