করোনা উপেক্ষা করেই পাবনায় ঐতিহ্যবাহী চড়ক পূজা

করোনা উপেক্ষা করেই পাবনায় ঐতিহ্যবাহী চড়ক পূজা

মহামারি প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস উপেক্ষা করেই পাবনার চাটমোহর বড়াল নদীর তীরে বোঁথর গ্রামে শুরু হয়েছে সহস্রাধিক বছরের ঐতিহ্যবাহী চড়ক পূজা। করোনাভাইরাস ও লকডাউন পরিস্থিতিতে এই পূজায় মেলা বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে সীমিত পরিসরে পূজার আনুষ্ঠানিতা পালন করা হচ্ছে।

পাট ঠাকুরের পাটে ধূপ দেওয়ার পর সোমবার মন্দিরে মহাদেব-এর অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হয় পূজার আনুষ্ঠানিকতা। মঙ্গলবার সকাল দশটায় দীঘির পানি থেকে চড়ক গাছ তোলা হয়। ১৩ হাত দৈর্ঘ্যের শাল গাছটি চড়ক নামে পরিচিত। চড়ক গাছটি মন্দির প্রাঙ্গণে স্থাপনের পর মনোবাসনা পূরণের আশায় সেই গাছে দুধ, তেল, চিনি ঢালেন ভক্ত, অনুসারী ও পুণ্যার্থীবৃন্দ।

হিন্দু সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে হাজার বছর ধরে চলে আসা এই মেলা সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়। শুধু এপার বাংলা নয়, ওপার বাংলা থেকেও ভক্ত অনুসারীরা আসেন পূজা দিতে। কিন্তু এ বছর করোনা পরিস্থিতি ও লকডাউনের কারণে পাল্টে গেছে উৎসবের চিত্র। মেলা বন্ধ রেখে স্বল্প পরিসরে পূজার আয়োজন করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থান থেকে পুণ্যার্থীরা পূজার আনুষ্ঠানিকতায় যোগ দেন।

পূজা দিতে আসা উজ্জ্বল দত্ত ও মানিক দাস জানান, আমরা বিশ্বাস করি বাবা মহাদেবের কাছে মানসা করলে সেই মানসা পূরণ হয়। সে কারণে আমরা মহাদেবের মানসা দিতে আসি। বাবা মহাদেবের আশীর্বাদে গোটা বিশ্ব শান্তিতে থাকবে আশা করি। সুরভী দত্ত জানান, বিয়ের পর থেকে দেখে আসছি মনোবাসনা পূরণের উদ্দেশ্যে প্রতি বছর বোঁথড়ে মহাদেবের মন্দিরে ও চড়ক গাছে পূজা দেয়। সবার মনোবাসনা বাবা মহাদেব পূর্ণ করে। সেজন্য আমিও আসি পূজা দিতে। উদ্দীপনা দত্ত জানান, এতদিন মনোবাসনা যা যা চেয়েছি ভগবানের কাছে তার সবই পূরণ হয়েছে। আশা করি এবারও হবে। এবারের প্রত্যাশা করোনামুক্ত সুস্থ বিশ্ব পাব আমরা।

বোঁথড় মহাদেব মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি ধীরেন দত্ত ও সহ-সম্পাদক রাজিব কুমার বিশ্বাস রাজু জানান, আমরা প্রশাসনের সহযোগিতায় সুষ্ঠুভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে পূজার আনুষ্ঠানিকতা পরিচালনা করছি।

উলেস্নখ্য, তিনদিনব্যাপী এই পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে আগামী ১৫ এপ্রিল। করোনার কারণে গত বছর চড়ক পূজার আয়োজন বন্ধ ছিল।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে