করোনার টিকা

প্রথম ডোজের পর দ্বিতীয় ডোজ না পেলে কী হবে

প্রথম ডোজের পর দ্বিতীয় ডোজ না পেলে কী হবে

দেশে টিকার মজুদ ফুরিয়ে আসায় এবং এখন পর্যন্ত নতুন টিকার চালান এসে না পৌঁছায় প্রথম ডোজ পাওয়া অনেক মানুষই দ্বিতীয় ডোজ যথাসময়ে পাবেন কি না, তা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত প্রথম ডোজ নিয়েছেন ৫৮ লাখ ১৯ হাজার ৮৫৬ জন, আর দ্বিতীয় ডোজ টিকা নিয়েছেন ৩৪ লাখ ১ হাজার ৫৩১ জন। প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ মিলিয়ে এখন পর্যন্ত টিকা দেওয়া হয়েছে ৯২ লাখ ২১ হাজার ৩৬৯ ডোজ।

ভারত থেকে কেনা এবং উপহার হিসেবে পাওয়া মিলিয়ে দেশে টিকা রয়েছে এক কোটি ২ লাখ ডোজ। অর্থাৎ সরকারের হাতে এখন রয়েছে মাত্র ১০ লাখ ডোজের মতো টিকা। প্রথম ডোজের টিকা নিয়েছেন, কিন্তু রোববার পর্যন্ত দ্বিতীয় ডোজের টিকা পাননি এ রকম মানুষ রয়েছেন ২৪ লাখ ১৮ হাজার ৩২৩ জন। অর্থাৎ ১২ লাখের বেশি মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় দ্বিতীয় ডোজের টিকাই এই মুহূর্তে সরকারের হাতে নেই।

এদিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. সৌমিয়া সোয়ামিনাথান বলেছেন, 'বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ হচ্ছে, অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিনের ১২ সপ্তাহ (তিন মাস) পর্যন্ত সময়সীমা বৃদ্ধির উদাহরণ রয়েছে। এর ফলে আরও বেশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয় বলে বলা হচ্ছে।'

তিনি আরও বলেন, 'এ ধরনের টিকার ক্ষেত্রে দুইটি ডোজ নেয়া গুরুত্বপূর্ণ। সে ক্ষেত্রে যদি কয়েকদিন বা কয়েক সপ্তাহ দেরিও হয়, তারপরেও দ্বিতীয় ডোজ নেয়া দরকার। কারণ প্রথম ডোজে আসলে নতুন অ্যান্টিজেন শরীরের ভেতর প্রবেশ করে, দ্বিতীয় ডোজের মাধ্যমে সেটার ক্ষমতা বাড়িয়ে দেওয়া হয়।'

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে অন্যতম মুখপাত্র অধ্যাপক রোবেদ আমিন বলেন, 'অক্সফোর্ড- অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা প্রথম ডোজের পর ১২ সপ্তাহ, এমনকি তার পরেও দ্বিতীয় ডোজ নেওয়া যেতে পারে। ফলে দ্বিতীয় ডোজ নিয়ে ভয়ের কোনো কারণ নেই।'

অন্যদিকে ড. সৌমিয়া সোয়ামিনাথান বলেছেন, এখন বিশ্বে যেসব ট্রায়াল চলছে, সেখানে দুই ধরনের দুটি টিকা নেওয়ার পরীক্ষাও করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত দুই কোম্পানির দুই ডোজ টিকা নেয়ার ব্যাপারে সুপারিশ করার মতো পর্যাপ্ত তথ্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হাতে নেই। তবে এখন পর্যন্ত এটাই সুপারিশ করা হচ্ছে যে, যারা প্রথম ডোজ যে টিকা নিয়েছেন, দ্বিতীয় ডোজও সেটা নেবেন।

দুই কোম্পানির দুইটি আলাদা ডোজ নেয়ার বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছে বাংলাদেশের করোনাভাইরাস প্রতিরোধে গঠিত বিশেষজ্ঞদের পরামর্শক কমিটি।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমান বলছেন, 'বিশেষজ্ঞ কমিটি এক টিকার সঙ্গে অন্য টিকা নেয়ার বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছেন। ফলে যারা কোভিশিল্ড পেয়েছেন, তারা সেটাই পাবেন।'

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে