দেশে করোনায় মৃতু্য ১২ হাজার ছাড়াল

দেশে করোনায় মৃতু্য ১২ হাজার ছাড়াল

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৩৩ জনের মৃতু্য হয়েছে। এই সংখ্যা গত প্রায় দেড় মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম। তবে এই মৃতু্যর ফলে

এ পর্যন্ত মোট মৃতু্যর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার পাঁচজন। এ সময় নতুন করে এক হাজার ২৩০ জনের মধ্যে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।

এর আগে গত ২৫ মার্চ ২৪ ঘণ্টায় ৩৪ জনের মৃতু্যর তথ্য জানানো হয়। এরপর থেকে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির সঙ্গে মৃতু্যও বাড়ছিল। গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশে মানুষের চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপের পর একপর্যায়ে সংক্রমণ কমতে থাকে। মঙ্গলবার বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো বুলেটিন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

সংক্রমণের বিস্তার রোধে কঠোর লকডাউনের মধ্যেই গত ২৫ এপ্রিল দেশে করোনাভাইরাসে মৃতের মোট সংখ্যা ১১ হাজার পেরিয়েছিল। এর সঙ্গে আরও এক হাজার নাম যুক্ত হতে সময় লাগল ১৬ দিন। আর ৩৩ জনের মৃতু্য সাত সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে কম। এর আগে সবশেষ ২৪ মার্চ ২৫ মারা যাওয়ার খবর এসেছিল।

গত একদিনে আরও এক হাজার ২৩০ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়ায় দেশে এ পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে সাত লাখ ৭৬ হাজার ২৫৭ জন হয়েছে। দৈনিক শনাক্ত রোগীর এই সংখ্যাও আট সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে কম। এর আগে সবচেয়ে কম রোগী শনাক্তের খবর এসেছিল গত ১৪ মার্চ। সেদিন এক হাজার ১৫৯ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়ার খবর দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের মধ্যে একদিনে আরও তিন হাজার ৪৪ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন সাত লাখ ১৫ হাজার ৩২১ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ৪৫৪টি ল্যাবে ১৪ হাজার ১৮৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ৫৬ লাখ ৬১ হাজার ৯২৬টি নমুনা।

২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ, এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৭১ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯২ দশমিক ১৫ শতাংশ এবং মৃতু্যর হার ১ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

সরকারি ব্যবস্থাপনায় এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৪১ লাখ ৫৪ হাজার ৭৪৪টি; বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১৫ লাখ সাত হাজার ১৮২টি।

গত একদিনে যারা মারা গেছেন, তাদের ২১ জন পুরুষ আর নারী ১২ জন। তাদের ২১ জন সরকারি হাসপাতালে, ১০ জন বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান। বাসায় মারা গেছেন দুইজন।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম নতুন এই ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দেয়। পরে তা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। দেশে গত বছরের ৮ মার্চ প্রথম করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়। তা সাড়ে সাত লাখ পেরিয়ে যায় গত ২৭ এপ্রিল। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর গত বছরের ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃতু্যর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এক বছরের বেশি সময় ধরে চলমান এই মহামারিকালে গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে চলতি বছরের ফেব্রম্নয়ারি পর্যন্ত মাস-দুয়েক পরিস্থিতি খানিকটা নিয়ন্ত্রণে ছিল।

গত ফেব্রম্নয়ারির মাঝামাঝি থেকে সংক্রমণে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দেয়। মার্চ থেকে শুরু হয় সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ। মার্চের শেষ দিকে এসে দেশে নতুন রোগী বাড়তে শুরু করে লাফিয়ে লাফিয়ে। সঙ্গে বাড়তে থাকে মৃতু্য। সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যে গত ৭ এপ্রিল রেকর্ড সাত হাজার ৬২৬ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়। চলতি বছর ১ মে মৃতু্য সাড়ে ১১ হাজার ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে ১৯ এপ্রিল রেকর্ড ১১২ জনের মৃতু্যর খবর দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সংক্রমণ ঠেকাতে গত ৫ এপ্রিল থেকে বিধিনিষেধ ঘোষণা করে সরকার। যদিও তা ছিল ঢিলেঢালা। এরপর ১৪ এপ্রিল থেকে আরও কঠোরতা আরোপ করা হয়। এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে আবারও সংক্রমণে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দেয়। এখনো সেই প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। তবে তা বিপদসীমার ওপরই অবস্থান করছে।

জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় বিশ্বে শনাক্তের দিক থেকে ৩৩তম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ, আর মৃতের সংখ্যায় রয়েছে ৩৭তম অবস্থানে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে