কাটতে শুরু করেছে সংকট আসছে ১৬ লাখ টিকা

কাটতে শুরু করেছে সংকট আসছে ১৬ লাখ টিকা

অবশেষে কাটতে শুরু করেছে টিকার সংকট। করোনার টিকা নিয়ে একসঙ্গে দু'টি সুখবর এলো বাংলাদেশের জন্য। যারা অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার প্রথম ডোজ টিকা দেওয়ার পর দ্বিতীয় ডোজের অপেক্ষায় ছিলেন, তাদের জন্য সুখবর হলো-কোভ্যাক্স থেকে বাংলাদেশ ১০ লাখ ৮০০ ডোজ অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা পাচ্ছে। এই টিকার চালানটি শিগগির বাংলাদেশে আসবে। আর দ্বিতীয় সুখবরটি হলো চীনের দ্বিতীয় দফা উপহারের ৬ লাখ টিকা রোববার দেশে আসছে।

শুক্রবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডক্টর এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, 'কোভ্যাক্স থেকে আমরা শিগগিরই ১০ লাখ ৮০০ ডোজ অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা পাচ্ছি। এই টিকার চালান শিগগির বাংলাদেশে আসবে।'

আর ঢাকায় চীনা দূতাবাসের উপ-রাষ্ট্রদূত হুয়ালং ইয়ান শুক্রবার সকালে তার ফেসবুক পেজে জানিয়েছেন, বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত চীনের সিনোফার্মের তৈরি ছয় লাখ টিকার চালানটি ১৩ জুন (রোববার) ঢাকায় আসবে।

জানা গেছে, কোভ্যাক্স থেকে ৬ কোটি ডোজের বেশি টিকা পাওয়ার কথা রয়েছে বাংলাদেশের। এর মধ্যে ফাইজার-বায়োএনটেকের তৈরি ১ লাখ ৬২০ ডোজ টিকা গত ১ জুন বাংলাদেশ হাতে পেয়েছে। অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা আসবে, তার দিনক্ষণ এখনো ঠিক হয়নি।

বাংলাদেশ অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা কোভিশিল্ড দিয়ে গত ফেব্রম্নয়ারিতে গণ-টিকাদান শুরু করলেও দুই চালানের পর আর দিতে পারেনি এই টিকা উৎপাদনকারী ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট। ফলে সরকার নতুন করে টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া বন্ধ করে দেয়। যারা প্রথম ডোজ নিয়েছেন, তাদের সবাই এখনো দ্বিতীয় ডোজও পাননি। এই পরিস্থিতিতে সরকার চীন ও রাশিয়ার টিকা আনার উদ্যোগ নিলেও যারা অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন, তাদের ওই টিকাই নিতে হবে দ্বিতীয় ডোজ হিসেবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ৬ কোটি ডোজ টিকা কিনে রাখলেও তা ব্যবহার করছিল না তাদের হাতে অন্য টিকা থাকার কারণে। যুক্তরাষ্ট্র এখনো এ টিকা জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন না দিলেও ভারত রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে থাকা অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা চেয়েছিল বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এক ব্রিফিংয়ে বলেছিলেন, অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার দ্বিতীয় ডোজের টিকার ঘাটতি পূরণের জন্য বিভিন্ন দেশের কাছে টিকা চেয়ে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

একই দিন গুলশানে এক অনুষ্ঠানে ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কোভ্যাক্সের আওতায় বিভিন্ন দেশে যে টিকা দিচ্ছে, তাতে অগ্রাধিকারের তালিকায় আছে বাংলাদেশ। শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রের উপহারের এ টিকা বাংলাদেশে আসবে।

চীনের উপহারের ছয় লাখ ডোজ টিকা আনতে দুটি সি-১৩০ পেস্নন পাঠানো হচ্ছে বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, চীনা কমিউনিস্ট পার্টি আওয়ামী লীগকে বিভিন্ন ধরনের মেডিকেল ইকুইপমেন্ট দিচ্ছে। টিকা নেওয়ার পর পেস্ননে যত জায়গা থাকবে, সেটি পুরোটা ভরে নিয়ে আসবে।

চীন গত ১২ মে সিনোফার্মের তৈরি পাঁচ লাখ উপহারের টিকা বাংলাদেশে পাঠায়। তার ৯ দিনের মাথায় চীন দ্বিতীয় দফায় বাংলাদেশকে টিকা উপহার দেওয়ার ঘোষণা দেয়। এরপর গত ২১ মে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর ফোনালাপের সময় চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশকে দ্বিতীয় দফায় ছয় লাখ টিকা উপহার দেওয়ার কথা জানান।

এ বিষয়ে চীনের দূতাবাস থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের করোনা সংক্রমণের ওপর চীনের নজর রয়েছে। বাংলাদেশে জরুরি ভিত্তিতে টিকার বিপুল চাহিদার প্রেক্ষাপটে সরবরাহের ঘাটতির বিষয়ে চীন উদ্বিগ্ন। ফলে দ্বিতীয় দফায় টিকা উপহারের ঘোষণা বাংলাদেশের প্রতি চীনের বন্ধুত্বের নিদর্শন।

অন্যদিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশে চীনের করোনাভাইরাসের টিকার নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ অব্যাহত রাখতে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং। চীনের সিনোফার্ম থেকে দেড় কোটি টিকা কেনার পাশাপাশি রাশিয়া থেকে এক কোটি টিকা কিনতে সরকার আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, চীনের সিনোফার্ম থেকে বাংলাদেশ দেড় কোটি টিকা কেনার চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছিল। কিন্তু মে মাসের শেষ সপ্তাহে সরকারের এক অতিরিক্ত সচিব সাংবাদিকদের কাছে ওই টিকার দাম বলে দিলে সংকট তৈরি হয়।

গত ৮ ফেব্রম্নয়ারি দেশে গণ-টিকাদান কর্মসূচি চালু করা হয় ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনাভাইরাসের টিকা দিয়ে। এর আগে সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে তিন কোটি ডোজ টিকা আনার বিষয়ে চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী ছয় মাসে এসব টিকা আসার কথা থাকলেও সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে দুই চালানে মোট ৭০ লাখ টিকা পেয়েছে বাংলাদেশ। এছাড়া ভারত সরকারের উপহার হিসেবে পাওয়া যায় ৩৩ লাখ ডোজ টিকা। এদিকে ভারতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ায় গত মার্চে টিকা রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করে দেশটি। এতে বাংলাদেশ অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা প্রাপ্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। ইতোমধ্যে যারা এই টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন, তাদের মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ মানুষের দ্বিতীয় ডোজ পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী দেশজুড়ে গণ-টিকাদান কর্মসূচি শুরুর পর প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে ৫৮ লাখ ২০ হাজার ১৫ জনকে। সে হিসাবে দুই ডোজ করে দিতে হলে টিকা প্রয়োজন ১ কোটি ১৬ লাখ ৪০ হাজার ১৫ ডোজ।

সরকারের হাতে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ১ কোটি ২ লাখ ডোজ টিকা রয়েছে। সাধারণভাবে ১ শতাংশ টিকা পরিবহণ, সংরক্ষণের সময় নষ্ট হয় বলে ধরা হয়। সে হিসাবে যারা প্রথম ডোজ নিয়েছেন তাদের সবাইকে দ্বিতীয় ডোজ দিতে হলে ১৫ লাখ ৪০ হাজার ১৫ ডোজ টিকা দরকার। কোভ্যাক্স থেকে ১০ লাখ ৮০০ ডোজ পেলেও অ্যাস্ট্রাজেনেকার আরও কিছু টিকা বাংলাদেশের দরকার হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে