'পরীমনির মতো সৌভাগ্য হয়নি ত্ব-হার'

'পরীমনির মতো সৌভাগ্য হয়নি ত্ব-হার'

নায়িকা পরীমনির ঘটনা এবং গত কয়েক দিন ধরে নিখোঁজ ইসলামী বক্তা আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনান ও তার সঙ্গীদের বিষয় নিয়ে জাতীয় সংসদে কথা বলেছেন সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনানের স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে রুমিন ফারহানা বলেন, 'কার কাছে অভিযোগ করব? কোথায় মামলা করব? কার কাছে মামলা করব? জিডি নিতে কেউ তো রাজি হচ্ছেন না।'

জাতীয় সংসদে হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিলের ওপর আনীত সংশোধনী প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে মঙ্গলবার তিনি এসব কথা বলেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, তিনি (ত্ব-হা) গত বৃহস্পতিবার থেকে নিখোঁজ রয়েছেন।

তার সঙ্গে আরও তিন ব্যক্তির কোনো খোঁজ নেই। একই সময় নায়িকা পরীমনিকে একই ধরনের অভিযোগ করতে দেখেছি। তবে বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে ভাগ্যবতী তিনি। কারণ তার (পরীমনি) মামলা নেওয়া হয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। অথচ ত্ব-হার পরিবারের ক্ষেত্রে সেই সৌভাগ্য জোটেনি।

ব্যারিস্টার রুমিন আরও বলেন, 'সেই সৌভাগ্য (পরীমনির মতো) জোটেনি বাংলাদেশের আরও ৬০৪টি পরিবারের। যেসব পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ। তাদের ব্যাপারে না লোকাল পুলিশ স্টেশন কিছু বলতে পারছে, না কিছু বলছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।'

এছাড়া প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে রুমিন বলেছেন, বাজেটে যেটুকু বরাদ্দ হয় সর্বগ্রাসী দুর্নীতি, লুটপাটের কারণে সেটুকুর উপকারও জনগণের কাছে পৌঁছায় না। লুটপাট বন্ধ আর সরকারের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে পারলে এই বাজেট বরাদ্দেও জনগণ অনেক কিছুই পেতে পারত।

রুমিন বলেন, সরকার যদি হয় 'বাই দ্য লুটারস, ফর দ্য লুটারস, অব দ্য লুটারস' তাহলে বাজেটও হবে লুটেরা রক্ষারই বাজেট। তাতে জনগণের অংশীদারিত্ব থাকবে না।

তিনি বলেন, সরকারের দিক থেকে বাজেট একেবারে ঠিক আছে। ক্ষমতায় থাকতে যাকে প্রয়োজন, তার জন্যই তো বাজেট হবে। ক্ষমতায় থাকতে জনগণের ম্যান্ডেট লাগলে জনগণকে খুশি করতে হবে, আর ক্ষমতায় থাকতে যদি প্রয়োজন হয় কিছু ব্যবসায়ী আর আমলা, তাহলে তাদের জন্যই বাজেট হবে; হয়েছেও সেটা। আপনার হাতে যে পরিমাণ সম্পদ আছে, সেটা আপনি ?ব্যয় করবেন আপনার প্রায়োরিটি অনুযায়ী, আপনার যাদের প্রয়োজন তাদের পেছনে।

রুমিন বলেন, বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী এখনো ভারত থেকে ৩ কোটি টিকা পাওয়ার গল্প করছেন। অথচ ভারত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, এই বছর শেষ হওয়ার আগে তারা কোনো রকম টিকা রপ্তানি করতে পারবে না। যদিও টিকার দাম আগেই চুকানো হয়ে গেছে। আর এক অতিরিক্ত সচিব সিনোফার্ম টিকার দামের তথ্য জানিয়ে দেওয়ার পর সেই টিকাপ্রাপ্তিও অনিশ্চিত হয়ে গেছে। অর্থমন্ত্রী স্বপ্ন দেখছেন মাসে ২৫ লাখ টিকা দেওয়ার। যেখানে টিকার কোনো উৎসই এখন পর্যন্ত ঠিক হয়নি।

সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ প্রসঙ্গে বিএনপির এই সাংসদ বলেন, আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে কাগজে-কলমে ১ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকার বেশি বাজেট বরাদ্দ দেখানো হচ্ছে এই খাতে। অথচ এতেই আছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবসর ভাতা-গ্র্যাচুইটি, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, সঞ্চয়পত্রের সুদ, উপবৃত্তির টাকা, এমনকি প্রণোদনার জন্য দেওয়া ঋণের সুদে ভর্তুকি সমন্বয়ের অর্থ। এসব ক্ষেত্রেও কিছু দরিদ্র প্রান্তিক মানুষ সাহায্য পেয়ে থাকতে পারে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে, গরিব মানুষকে টার্গেট করে কত টাকা বরাদ্দ হচ্ছে এই খাতে?

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে