৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

লঘুচাপের প্রভাবে ভারী বর্ষণ, নিম্নাঞ্চল পস্নাবিত

লঘুচাপের প্রভাবে ভারী বর্ষণ, নিম্নাঞ্চল পস্নাবিত

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি আরও শক্তি সঞ্চয় করে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। এরপর এটি বুধবার বিকাল ৫টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের (খুলনা ও যশোর) স্থলভাগে অবস্থান করছে। এর প্রভাব থাকায় দেশের সমুদ্রবন্দর এবং উপকূলীয় এলাকায় জারি করা ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রাখা হয়েছে। চার বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিও অব্যাহত থাকতে পারে বলেও জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। লঘুচাপের প্রভাবে মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগ ছাড়া সব বিভাগে বৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কোনো কোনো জায়গায় অতি ভারী বৃষ্টি হয়েছে। এ সময় সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে টেকনাফে, সেখানে ৩২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদ মনোয়ার হোসেন বলেন, 'উত্তর বঙ্গোপসাগর ও কাছাকাছি এলাকায় অবস্থিত লঘুচাপটি বর্তমানে সুস্পষ্ট লঘুচাপে হিসেবে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় বিরাজ করছে।' তিনি বলেন, 'স্থলভাগে উঠে আসায় সুস্পষ্ট লঘুচাপটি আর শক্তিশালী হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হওয়া সম্ভাবনা নেই। এটি বৃহস্পতিবারের মধ্যে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দিকে চলে যেতে পারে। এর প্রভাবে আগামী কয়েকদিন বৃষ্টি থাকবে।' বুধবার বেলা ১১টায় আবহাওয়ার এক সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা উত্তর বঙ্গোপসাগর ও সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে সতর্কবার্তায়। এদিকে, টানা বর্ষণে বাগেরহাটে ও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার নিম্নাঞ্চল পস্নাবিত হয়েছে। ১৫ বছরের মধ্যে পটুয়াখালীতে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে। বান্দরবানের লামায় ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল পস্নাবিত হয়েছে। আমাদের আঞ্চলিক অফিস ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর : নাইক্ষ্যংছড়ি : টানা তিন দিনের বর্ষণে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার নিম্নাঞ্চল পস্নাবিত হয়েছে। টানা ভারী বর্ষণের ফলে উপজেলার বাইশারী ও ঘুমধুমের নিম্নাঞ্চল পস্নাবিত হয়ে কৃষি জমি, খামার, রাবার বাগান, দোকানপাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পাহাড়ি ঢলের পানির স্রোতে ভেসে গিয়ে ঘুমধুমে বড়ুয়া পাড়া এলাকার সুবাস বড়ুয়ার ছেলে অশীষ বড়ুয়া নিহত হয় এবং একই ঘটনায় আব্দুর রহিম (১৮) নামের এক কিশোর নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। এদিকে ঘুমধুমের তুমব্রম্ন খালে আব্দুর রহমান (৬) নামের শিশুর ভাসমান লাশ উদ্ধার করা হয়। বাইশারী ইউপি চেয়ারম্যান মো. আলম কোম্পানী বলেন, টানা বৃষ্টিতে বেশকিছু এলাকা পস্নাবিত হয়েছে। এছাড়া বাইশারীর সাথে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদর ও বাইশারী-ঈদগড়-ঈদগাঁও সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। পটুয়াখালী : মঙ্গলবার দুপুর থেকে পটুয়াখালীতে শুরু হওয়া বৃষ্টিপাত বুধবারও অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার রাতে বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় গাছ পড়ে বিদু্যৎ সঞ্চালন লাইন বন্ধ রয়েছে। পটুয়াখালী আবহাওয়া অফিস জানায়, মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৫১ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ বৃষ্টিপাত ২০০৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ বলে আবহাওয়া অফিস নিশ্চিত করেছে। এদিকে, সাগর উত্তাল থাকায় মাছধরা ট্রলারসমূহকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে চলাচল করতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে, টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে অনেক নিচু এলাকা। এর ফলে আমনের বীজতলা, সবজির ক্ষেতসহ বিভিন্ন এলাকার মাছের ঘের ডুবে রয়েছে। শহর এলাকাগুলোর সড়কেও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। লামা (বান্দরবান) : ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের লামায় নিম্নাঞ্চল পস্নাবিত হয়েছে। বুধবার সকাল থেকে পৌর এলাকাসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। রাস্তায় পানি ওঠায় লামা-আলীকদম সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। পৌরসভার মধুঝিরি এলাকাসহ উপজেলা রূপসীপাড়া, গজালিয়া, ফাইতং ও ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধস হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন উদ্যোগে ২৯টি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। লামা আদর্শ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে আশ্রয়গ্রহণকারীদের শুকনো খাবারসহ চাল, ডাল ও তেল বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার সকালে এই খাদ্যদ্রব্য বিতরণ করেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজা রশীদ, পৌরমেয়র মো. জহিরুল ইসলাম। এই সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রদীপ কান্তি দাশ, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মজনুর রহমান প্রমুখ। বাগেরহাট (সদর) : টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে বাগেরহাটের নিম্নাঞ্চল পস্নাবিত হয়েছে। বাগেরহাটের ভৈরব, দড়াটানা, নদীর পানি স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে দুই থেকে তিন ফুট বেড়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে জেলার সহস্রাধিক পরিবার। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মৎস্য ঘের। আমনের ধানের বীজতলা ও বর্ষাকালীন সবজিক্ষেত তলিয়ে গেছে। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ। মঙ্গলবার সকাল থেকে বাগেরহাটে অবিরাম বৃষ্টি শুরু হয়েছে। বুধবার এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন এলাকায় বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বাগেরহাট জেলায় গড়ে ৯৩ দশমিক ৬৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বর্ষাকালীন সবজির ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছে কৃষি বিভাগ।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে