'যৌথভাবে টিকা উৎপাদনে সিনোফার্মের সঙ্গে চুক্তি হবে'

রোহিঙ্গা ইসু্যতে বিশ্বব্যাংকের প্রস্তাবে বাংলাদেশের 'না'

রোহিঙ্গা ইসু্যতে বিশ্বব্যাংকের প্রস্তাবে বাংলাদেশের 'না'

আমাদের অগ্রাধিকার ইসু্য হচ্ছে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন উলেস্নখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডক্টর এ কে আব্দুল মোমেন জানিয়েছেন, বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের সমাজে অন্তর্ভুক্ত বা রেখে দেওয়ার জন্য বিশ্বব্যাংকের প্রস্তাবে ঢাকা রাজি নয়। সোমবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন। এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বাণিজ্যিক চুক্তির পাশাপাশি যৌথভাবে করোনাভাইরাসের টিকা উৎপাদনে চীনের সিনোফার্মের সঙ্গে চুক্তি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'বিশ্ব ব্যাংক একটা রিপোর্ট তৈরি করেছে, এটা শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, ১৬টি দেশের জন্য। যেসব দেশে রিফিউজি আছে সেখানে তাদের হোস্ট কান্ট্রিতে ইন্টিগ্রেট করার বিষয়ে। যেহেতু রোহিঙ্গারা রিফিউজি নয়, আমরা এটা পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছি।' পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, সম্প্রতি অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের কাছে বিশ্বব্যাংক তাদের প্রস্তাবিত রিফিউজি পলিসি রিভিউ ফ্রেমওয়ার্কটি মতামতের জন্য পাঠায়। চিঠিতে বিশ্বব্যাংক জানায়, তাদের এই রিফিউজি পলিসি রোহিঙ্গাসহ অন্যান্য দেশে অবস্থিত সব উদ্বাস্তুর জন্য প্রযোজ্য। প্রতিবেদন নিয়ে বিশ্বব্যাংকের প্রস্তাব মেনে না নিতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগকে চিঠি দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ডক্টর মোমেন বলেন, 'মিয়ানমার কিন্তু কখনো বলেনি রোহিঙ্গাদের নেবে না। তারা এখানে ক্ষণস্থায়ী। আমরা এখানে আশ্রয় দিয়েছি। বিশ্বব্যাংক যে রিপোর্ট করেছে সেখানে রিফিউজির কথা বলেছে। রোহিঙ্গারা রিফিউজি নয়। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন ধরে ইউএনএইচসিআর বলেছে, তাদের যেন সব ধরনের নাগরিক সুবিধা; যেমন- বাংলাদেশিদের মতো কাজ করতে পারে, চলাফেরার লিগ্যাল মুভমেন্ট পায়, জমিজমা কিনতে পারে, নির্বাচন রাইট দিতে হবে নাগরিকের মতো। দেশের সব ক্ষেত্রে তাদের সঙ্গে কোনো বৈষম্য করা যাবে না। রোহিঙ্গারা সেই শর্তের মধ্যে পড়ে না।' পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'বিশ্বব্যাংক যে প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছে এটা দীর্ঘমেয়াদি। আমরা এর পক্ষে নই। আমরা আমাদের বক্তব্য জানিয়েছি। বলেছি, আমরা এটা গ্রহণ করি না। আমরা নাকচ করার পর তাদের সঙ্গে একটা সমঝোতা হচ্ছে, যেগুলো আমরা অপছন্দ করি সেগুলো বাদ দিয়ে একটা চুক্তি করব। আমাদের যে ক্ষণস্থায়ী চিন্তা-ভাবনা, সে অনুযায়ী তারা রাজি হলে চুক্তি করব।' বিশ্বব্যাংকের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বাংলাদেশের জন্য একটা বাড়তি চাপ থাকবে বলেও মনে করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'আমরা নিশ্চিত, এটা নিয়ে তারা আমাদের একটা চাপে রাখবে। টাকা দিতে ঝামেলা করবে। তারা তো আমাদের টাকা দেয় না। রোহিঙ্গাদের নামে যে টাকা আসে সেটার চেহারাও আমরা দেখি না। আসা অর্থ খরচ করে আন্তর্জাতিক সংস্থা, ইউএনএইচসিআরসহ এরা সবাই। এরা কীভাবে টাকা খরচ করে সেটাও আমাদের জানায় না।' রোহিঙ্গাদের ফেরানোর বিষয়ে কোনো অগ্রগতি আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনো অগ্রগতি হয়নি। টিকা উৎপাদনে চুক্তি হবে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, বাণিজ্যিক চুক্তির পাশাপাশি যৌথভাবে করোনাভাইরাসের টিকা উৎপাদনে চীনের সিনোফার্মের সঙ্গে চুক্তি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'চীনের সিনোফার্মের কাছ থেকে টিকা কেনা শুরুর পর এক মাসে ৭০ লাখ টিকা পেয়েছি। এ মাসেও আসবে। সিনোফার্ম আমাদের নিরবচ্ছিন্নভাবে টিকা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। তাদের টিকার বিপুল চাহিদা রয়েছে। এ জন্য আগেভাগে বাড়তি টিকার সংখ্যা জানতে চেয়েছিল চীন। আমরা সেটা দিয়েছি।' তিনি আরও বলেন, 'আগস্ট থেকে তুরস্কের সঙ্গে সিনোফার্ম যৌথ উৎপাদনে যাচ্ছে। আমার সঙ্গে আলোচনার পর চীনের রাষ্ট্রদূত যৌথ উৎপাদনের খসড়া সমঝোতা স্মারক তাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। এ চুক্তি সইয়ের পর উৎপাদন শুরু করতে দুই মাস সময় লাগতে পারে।'

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে