চলতি বছর আফগানিস্তানে ১০ লাখ শিশুর মৃতু্যর শঙ্কা দারিদ্র্য বাড়ছে হু-হু করে

চলতি বছর আফগানিস্তানে ১০ লাখ শিশুর মৃতু্যর শঙ্কা দারিদ্র্য বাড়ছে হু-হু করে

তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটানো না গেলে যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানে প্রায় ১০ লাখ শিশু মারা যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। সোমবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘের এক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে আফগান সংকট নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, শীত আসার আগেই আফগানিস্তানের লাখ লাখ মানুষের খাবার ফুরিয়ে যেতে পারে। সংবাদসূত্র : বিবিসি রয়টার্স

গুতেরেস বলেন, তালেবান আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে দেশটিতে দারিদ্র্যের হার হু-হু করে বাড়ছে। জনসাধারণের জন্য থাকা সাধারণ সরকারি পরিষেবাগুলো ধ্বংসের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। বছরের পর বছর ধরে চলা যুদ্ধে অনেকে

ঘরহারাও হয়েছেন। কয়েক দশকের যুদ্ধ, দুর্ভোগ আর নিরাপত্তাহীনতার পর তারা (আফগান) সম্ভবত তাদের সবচেয়ে বিপজ্জনক সময়ের মুখোমুখি। জাতিসংঘের মহাসচিব বলেন, এখন প্রতি তিন আফগানের একজন জানেন না, পরের বেলার খাবার কোথায় মিলবে। সোমবার জেনেভা সময় সন্ধ্যার দিকে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে গুতেরেস জানান, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আফগানিস্তানে ১০০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের জরুরি সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

জাতিসংঘ মহাসচিবের পাশাপাশি এবার জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক তহবিল ইউনিসেফও যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির এক কোটি শিশু মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভর করে বেঁচে আছে জানিয়ে বলেছে, চরম অপুষ্টিতে ভুগে চলতি বছরের মধ্যে আফগানিস্তানের ১০ লাখ শিশু মারা যেতে পারে।

ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেননিটা ফোরে সোমবার এক বিবৃতিতে বলেছেন, আফগান শিশুরা যে দুঃখজনক পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে, জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া যুদ্ধের ধকল, খরা, করোনা মহামারি, অর্থনৈতিক, খাদ্য ও পানি সংকটের কারণে আগামী মাসগুলোতে এই পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটতে পারে।

আফগানিস্তানে সহায়তার জন্য ৬০ কোটি ডলার পাওয়ার আশায় সোমবার জেনেভায় দাতাদের নিয়ে সম্মেলনের আয়োজন করেছিল জাতিসংঘ। তবে তহবিল সংগ্রহে জাতিসংঘের প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে আফগানিস্তানের জন্য ১১০ কোটি ডলারের প্রতিশ্রম্নতি দিয়েছে দাতারা।

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডবিস্নউএফপি) নির্বাহী পরিচালক ডেভিড বিসলি সম্প্রতি জানিয়েছেন, আফগানিস্তানে কয়েকদিনের মধ্যে ভোজ্যতেলের দাম দ্বিগুণ হয়েছে। দেশটির গম উৎপাদন মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ চরম এই খাদ্যসংকটের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। আগামীতে পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

ডবিস্নউএফপির সহকারী আঞ্চলিক পরিচালক অ্যান্থেনা ওয়েব বলেন, 'প্রাপ্তবয়স্করা না খেয়ে বাচ্চাদের খাবার দেওয়া ও পরের বেলার জন্য কম করে খাওয়ার ঘটনাও দ্বিগুণ হয়েছে।' সোমবার আল-জাজিরা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, অর্থকষ্টে থাকা আফগানরা খাবার যোগাতে থালা-বাটি, হাঁড়ি-পাতিল, বালিশ, কম্বল বিক্রি করছেন।

গত ১৫ আগস্ট আফগানিস্তানের রাষ্ট্র ক্ষমতায় তালেবানের প্রত্যাবর্তন ঘটে। ক্ষমতায় এসে তালেবান ঘোষণা দিয়েছে, তারা দাতা সংস্থাগুলোর কর্মীদের দেশে নিরাপদে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ তৈরি করে দেবে। এছাড়া তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর কর্মী সংকটে ভুগছে দেশটি। কারণ শিক্ষিত কর্মীবাহিনীর অনেকে দেশ ছেড়েছেন।

তালেবানের আফগানিস্তানে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে আফগানদের নগদ অর্থের সংকট দেখা দেয়। বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) অর্থপ্রবাহ বন্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানের রিজার্ভ আটকে দেওয়ায় পরিস্থিতি এখন চরম আকার নিয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সহায়তাও বন্ধ করে দিয়েছে।

তবে আফগানিস্তানের ক্ষমতাচু্যত প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির দেশ ছেড়ে পালানো এবং তালেবানের রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের আগে থেকেই আফগান অর্থনীতির অবস্থা নাজুক ছিল। করোনা মহামারি শুরু হওয়ার পর যা আরও প্রকট আকার ধারণ করে। এছাড়া কৃষিনির্ভর অর্থনীতির দেশটিতে খরা দেখা দেওয়ায় পরিস্থিতি এখন শোচনীয়।

বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, আফগানিস্তানের জিডিপির অন্তত ১০ শতাংশ বিদেশি সাহায্য। গত ২০ বছরে আফগানিস্তানের জিডিপির ৪০ শতাংশ এসেছে আন্তর্জাতিক সহায়তা থেকে। তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেবে না জানিয়ে অনেক দেশ এরই মধ্যে এই সহায়তা বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

গত সপ্তাহে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জাতিসংঘ সতর্ক করেছে, আগামী বছরের মাঝামাঝি আফগানিস্তানের ৯৭ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাবে। যুদ্ধকবলিত দেশটির আসন্ন মানবিক সংকট এড়াতে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস দাতাদের কাছে ৬০০ মিলিয়ন ডলার সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে